Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato) পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট থেকে সরে দাঁড়ালেন। বছরের প্রথম দিনেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে। এতদিন তিনি ওই ট্রাস্টের সভাপতি পদে ছিলেন। বুধবার ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্যদের উদ্দেশে লেখা এক চিঠিতে তিনি পদত্যাগের কথা জানান এবং এই সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত ভাবে ‘বেদনাদায়ক’ বলে উল্লেখ করেন।
কেন হঠাৎ এই পদত্যাগ? (Aniket Mahato)
কেন হঠাৎ এই পদত্যাগ, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চিকিৎসক মহলে (Aniket Mahato) আলোচনা শুরু হয়েছে। অনিকেতের চিঠিতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের এগ্জ়িকিউটিভ কমিটি গঠন নিয়ে ট্রাস্টের অন্য সদস্যদের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ চরমে উঠেছিল। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ উপেক্ষা করে এবং ট্রাস্ট ও কমিটির পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট না করেই নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। অনিকেতের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু অগণতান্ত্রিক নয়, বরং আরজি কর-কাণ্ডে নির্যাতিতার ন্যায়বিচারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের আদর্শের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
কমিটি ও ট্রাস্টের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন নিয়েই মূলত সংঘাত (Aniket Mahato)
সূত্রের খবর, সম্প্রতি ভোটাভুটির মাধ্যমে জুনিয়র (Aniket Mahato) ডক্টর্স ফ্রন্টের এগ্জ়িকিউটিভ কমিটিতে ৩৭ জন নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কমিটি ও ট্রাস্টের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন নিয়েই মূলত সংঘাত তৈরি হয়। অনিকেতের দাবি, তিনি একাধিকবার তাঁর আপত্তির কথা জানালেও ট্রাস্টের তরফে তা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়নি। অবশেষে সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নেন। পদ ছাড়ার পর এই বিষয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করতে চাননি অনিকেত। তিনি জানিয়েছেন, ভোটাভুটির আগেই তিনি নিজেকে ফ্রন্টের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। ফলে নতুন কমিটি নিয়ে মন্তব্য করা তাঁর পক্ষে সমীচীন নয় বলেই মনে করেন তিনি।
প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্ত!
আরজি কর আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে অনিকেত-সহ আন্দোলনের প্রথম সারির কয়েক জন জুনিয়র ডাক্তারের পোস্টিং নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার ‘মূল্য’ হিসেবে তাঁদের প্রত্যাশিত কর্মস্থলের বদলে দূরবর্তী জায়গায় বদলি করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করে আইনি লড়াই শুরু করেন অনিকেত, দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়া। পরে দেবাশিস ও আসফাকুল্লা বদলির জায়গাতেই কাজে যোগ দিলেও অনিকেত লড়াই চালিয়ে যান। কলকাতা হাই কোর্টের পর সুপ্রিম কোর্টও তাঁর পক্ষে রায় দেয় এবং আরজি কর হাসপাতালেই তাঁকে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর।
আরও পড়ুন: Brutal Attack in Bangladesh: বাংলাদেশে আরও এক হিন্দু যুবককে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা!
ইস্তফার চিঠিতেও অনিকেত স্পষ্ট করেছেন, মাথা নত না করে তিনি ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাবেন। ফ্রন্ট ছাড়লেও সহযোদ্ধাদের প্রতি তাঁর কোনও ক্ষোভ নেই বলেও জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার মূল দাবি-ন্যায়বিচার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কার-এই লক্ষ্যেই তিনি ভবিষ্যতেও পথে থাকবেন বলে জানিয়েছেন অনিকেত মাহাতো।


