Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্যারিসের একটি আদালত সোমবার ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাকরঁকে অনলাইনে মিথ্যা ও আপত্তিকর মন্তব্যে হয়রানির অভিযোগে ১০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে(France)। এই রায়ে ট্রোলিং ও ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে ফরাসি বিচারব্যবস্থার কঠোর অবস্থান ফের স্পষ্ট হল।
ফরাসি ফার্স্ট লেডির বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য (France)
দোষী সাব্যস্তদের মধ্যে আটজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন, যাদের বয়স ৪১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিজিত ম্যাকরঁর লিঙ্গ ও যৌনতা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য পোস্ট করতেন। এসব মন্তব্যের মধ্যে ছিল ভিত্তিহীন দাবি তিনি নাকি জন্মসূত্রে পুরুষ। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরঁর সঙ্গে বয়সের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে ইঙ্গিতপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্যও থাকত সেসব পোস্টে।
অনলাইন হেনস্থার প্রভাব স্পষ্ট (France)
ব্রিজিত ম্যাকরঁ নিজে আদালতে উপস্থিত না থাকলেও বিচার চলাকালীন অনলাইন হেনস্থার প্রভাব স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তাঁর কন্যা টিফেন অজিয়ের সাক্ষ্যে জানান, অবিরাম মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য তাঁর মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং পরিবারের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। আদালতে তিনি বলেন, “ভয়ংকর কথাগুলো উপেক্ষা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।”
জড়িত পরিচিত মুখেরাও
এই হয়রানি অভিযান কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ায় এবং এতে কেবল অজ্ঞাত ব্যবহারকারীরাই নয়, পরিচিত অনলাইন ব্যক্তিত্বরাও জড়িত ছিলেন। দোষীদের মধ্যে রয়েছেন অরেলিয়ঁ পয়ারসোঁ-আতলাঁ একজন পরিচিত অনলাইন মুখ, যার অ্যাকাউন্ট ২০২৪ সালে স্থগিত হয়। আরেক কেন্দ্রীয় অভিযুক্ত ডেলফিন জেগুস, অনলাইনে ‘আমঁদিন রোয়া’ নামে পরিচিত, ষড়যন্ত্রমূলক কনটেন্ট ছড়ানো এবং দীর্ঘ ভিডিওর মাধ্যমে ভুয়ো বয়ান উসকে দেওয়ার অভিযোগে চিহ্নিত হন।
পেশাগত পরিচয়ও বৈচিত্র্যময় (France)
দোষীদের পেশাগত পরিচয়ও বৈচিত্র্যময় একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, একজন শিক্ষক ও একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানীও আছেন। কয়েকজন আদালতে দাবি করেন, তাদের পোস্ট ছিল রসিকতা বা ব্যঙ্গাত্মক। তবে প্রসিকিউশন সেই যুক্তি খারিজ করে জানায়, পোস্টগুলোর ব্যাপ্তি ও পুনরাবৃত্তি স্পষ্টতই সাইবার হয়রানি ও মানহানির প্রমাণ।
অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে নজির (France)
ফরাসি আইনে সাইবার হয়রানির সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের কারাদণ্ড। যদিও দোষীদের নির্দিষ্ট সাজা এখনও পুরোপুরি জানানো হয়নি, এই রায় অনলাইন অপপ্রচার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



