Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কেরলে হেপাটাইটিস এ-র (Hepatitis A) প্রাদুর্ভাব ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। ২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে রাজ্য জুড়ে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিসেম্বরের ৩০ পর্যন্ত কেরলে ৩১,৫৩৬ জন মানুষ হেপাটাইটিস এ-তে আক্রান্ত হয়েছেন, এবং এর মধ্যে ৮২ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত রাজ্যের ইতিহাসে সর্বাধিক।
এই পরিস্থিতির পেছনে মূল দায়ী (Hepatitis A)
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির পেছনে মূল দায়ী (Hepatitis A) হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতার অভাব। ভূগর্ভস্থ পানীয় জল দূষিত হওয়ায় ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আগে হেপাটাইটিস প্রধানত শিশুদের মধ্যে দেখা যেত, তবে এবার তরুণ ও কিশোররাও এর শিকার হচ্ছে। লিভারকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে এই সংক্রমণ, কিছু ক্ষেত্রে প্রাণঘাতীও হয়েছে।

ভাইরাল সংক্রমণ (Hepatitis A)
হেপাটাইটিস এ হলো একটি ভাইরাল সংক্রমণ (Hepatitis A), যা সরাসরি লিভারের ওপর আঘাত করে। ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে লিভারে প্রদাহ তৈরি হয়। সংক্রমণ সাধারণত হালকা লক্ষণসহ শুরু হয় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য সম্ভব। তবে এটি অত্যন্ত সংক্রামক, এবং এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে দ্রুত ছড়িয়ে যায়।

মল ও রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়
ভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ব্যক্তির মল ও রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি দূষিত জল পান, অস্বচ্ছন্দ খাবার গ্রহণ বা সংক্রমিত ব্যক্তির কাছাকাছি থাকা মাধ্যমে অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে। হেপাটাইটিস এ-র লক্ষণ দেখা দেয় সংক্রমণের দুই থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে। প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: ক্লান্তি, জ্বর, পেটের ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি, ক্ষুধামন্দ্য, ত্বকের হলদেটে রঙ, মল ও প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন, জয়েন্ট ব্যথা এবং গা-চুলকানি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, টিকা নেওয়াই হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শিশুদের জন্য সাধারণত এক বছর বয়স থেকে এই টিকা দেওয়া শুরু হয়। বড়দের ক্ষেত্রেও হেপাটাইটিস এ-র টিকা নেওয়া যেতে পারে, যা ছয় মাসের ব্যবধানে দেওয়া হয়।


