Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১১ বছর ধরে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা নরেন্দ্র মোদি সরকারের অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল মতুয়া সম্প্রদায়কে নাগরিকত্ব প্রদান (Abhishek Banerjee)। বারবার আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি, সভা-মঞ্চে ঘোষণা সবকিছুর পরেও বাস্তবে সেই নাগরিকত্ব আজও অধরা বলেই অভিযোগ উঠছে। আর এই প্রেক্ষিতেই এবার মতুয়াগড়ের মাটি থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রানাঘাটের তাহেরপুরে আয়োজিত রণসংকল্প সভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিন, না হলে মোদি গদি ছাড়ুন।” এই স্লোগান শুধু রাজনৈতিক বাক্যবাজি নয়, বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ বলেই ব্যাখ্যা করছে রাজনৈতিক মহল।

১১ বছরের প্রতিশ্রুতি, বাস্তবে শূন্য ফল (Abhishek Banerjee)
২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় আসার সময় থেকেই বিজেপি মতুয়াদের নাগরিকত্বের প্রশ্নকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এসেছে বলে অভিযোগ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন, তার পরে বিধানসভা ভোট প্রতিবারই নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় ভোট চেয়েছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আজও লক্ষ লক্ষ মতুয়া পরিবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে। নাগরিকত্ব আইনে শর্তসাপেক্ষ সুবিধার কথা বলা হলেও, বাস্তবে সেই প্রক্রিয়া কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ তৃণমূলের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “শর্তসাপেক্ষ নাগরিকত্ব নয়, মতুয়াদের চাই নিঃশর্ত নাগরিকত্ব।”
নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা (Abhishek Banerjee)
সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে মতুয়া সমাজের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বহু মানুষের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এই প্রসঙ্গে অভিষেক বিজেপিকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, একদিকে নাগরিকত্বের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটাই করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, “ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়াই বিজেপির আসল লক্ষ্য।”

‘মতুয়া কার্ড’ বিতরণ ও অপূর্ণ আশ্বাস (Abhishek Banerjee)
ভোটার তালিকা সংশোধনের আগেই ঠাকুরবাড়ির শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুরদের নাগরিকত্বের আশ্বাস এবং তথাকথিত ‘মতুয়া কার্ড’ বিতরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর দাবি, এই সবই ছিল ভোটের আগে মানুষকে ভুল বোঝানোর কৌশল। তিনি বলেন, “ওরা বলেছিল অনেক কিছু দেবে। আজ প্রশ্ন করার সময় এসেছে কোথায় সেই নাগরিকত্ব?” এই প্রসঙ্গেই তাহেরপুর থেকে নতুন স্লোগান তোলেন তিনি, “হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব, নয়তো মোদি গদি ছাড়ো।”
ইডি-সিবিআই দিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগ (Abhishek Banerjee)
শুধু নাগরিকত্ব নয়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ব্যবহার নিয়েও সরব হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ইডি ও সিবিআইকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। অভিষেকের কণ্ঠে হুঙ্কার, “একদিকে ইলেকশন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, অন্যদিকে ইডি লাগিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এইটাই বিজেপির রাজনীতি।” তবে এই ভয় দেখিয়ে বাংলাকে দমানো যাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

আরও পড়ুন: Iran: ইরানে আর্থিক সঙ্কট, দেশজুড়ে বিক্ষোভ: সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে টলমল খামেইনির চেয়ার
‘বাংলা মাথা নত করবে না’
ভাষণের শেষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানান, যতই কেন্দ্রীয় সংস্থা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হোক না কেন, বাংলার মানুষ দিল্লির শাসকের কাছে মাথা নত করবে না। তাঁর কথায়, “তুমি যতই ইডি লাগাও, সিবিআই লাগাও বাংলার মানুষ বিজেপির কাছে, দিল্লির জমিদারদের কাছে মাথানত করবে না।”



