Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে জোর দিয়ে বড় ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অস্বীনি বৈষ্ণব (Indian Railways)।
ভারতীয় রেলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা (Indian Railways)
প্রযুক্তি, নিরাপত্তা আর আধুনিকীকরণ, এই তিনের মেলবন্ধনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছে ভারতীয় রেল। ২০২৬ সালকে সামনে রেখে রেলে একের পর এক বড় সংস্কারের ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। যাত্রী সুরক্ষা জোরদার করা, রক্ষণাবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং নতুন ট্রেন পরিষেবা—সব মিলিয়ে রেলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরলেন তিনি (Indian Railways)।
২০২৬ সালকে সামনে রেখে প্রযুক্তিনির্ভর এক বড়সড় রূপান্তরের পথে হাঁটতে চলেছে ভারতীয় রেল। যাত্রী নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ট্রেন পরিচালনা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। দিল্লিতে আয়োজিত রেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, আগামী বছরে ভারতীয় রেলকে আরও নিরাপদ, স্মার্ট ও ভবিষ্যতমুখী করে তুলতেই এই একাধিক সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রেলমন্ত্রী বলেন, যাত্রী সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ভারতীয় রেলের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্যেই নতুন প্রযুক্তি এবং আধুনিক পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ২০২৬ সালের প্রতিটি সপ্তাহে একটি করে সংস্কার—মোট ৫২টি বড় সংস্কার কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রেলের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এনে উদ্ভাবনকে আরও উৎসাহ দেওয়া হবে। এই স্ট্রাকচারাল মেথডের মাধ্যমে দেশের স্টার্টআপ এবং ইনোভেটিভ মানসিকতাকে ভারতীয় রেলের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রেলের প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ টেকনোলজি ইনোভেশন পোর্টাল চালু করা হবে। এই পোর্টালের মাধ্যমে নতুন আইডিয়া, আধুনিক প্রযুক্তি এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনকে রেলের কাজে যুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে রেলের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থায় পুরোদমে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (AI) ব্যবহারের কথাও ঘোষণা করেছেন রেলমন্ত্রী। রেললাইন, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, কোচ এবং ইঞ্জিনের ত্রুটি আগেভাগেই শনাক্ত করতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে। এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমবে এবং ট্রেন চলাচল আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য হবে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ (Indian Railways)।
প্রযুক্তির পাশাপাশি পরিকাঠামোগত উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে ভারতীয় রেল। স্টেশন আধুনিকীকরণ, ট্র্যাক আপগ্রেডেশন, দ্রুতগতির ট্রেন চালানোর উপযোগী পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজও নতুন বছরে আরও গতি পাবে। যাত্রীদের সুবিধা বাড়াতে ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণ, স্মার্ট টিকিটিং এবং তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাও আরও উন্নত করা হবে।
এই ঘোষণার পাশাপাশি নতুন বছরে একাধিক নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু করার কথাও জানিয়েছে ভারতীয় রেল। আগামী ১৭ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (স্লিপার)। এই আধুনিক ও দ্রুতগতির ট্রেনটি হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত সপ্তাহে ছয় দিন চলবে। দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের জন্য এই ট্রেন একটি বড় সুবিধা বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: Virat Kohli: অর্শদীপকে নকল বিরাটের, নেটপাড়ায় হাসির ঝড়
এছাড়াও জানুয়ারি মাসেই নিউ জলপাইগুড়ি থেকে নাগেরকয়েল পর্যন্ত একটি নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হবে। এই ট্রেনটি বালেশ্বর, ভুবনেশ্বর, পালাসা, ভাইজ়্যাগ ও বিশাখাপত্তনম হয়ে যাতায়াত করবে, যার ফলে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও মজবুত হবে। পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার, বালুরঘাট ও রাধিকাপুর থেকে বেঙ্গালুরু পর্যন্ত নতুন ট্রেন পরিষেবা শুরুর ঘোষণাও করা হয়েছে। এই পরিষেবার ফলে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালকে সামনে রেখে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে ভারতীয় রেলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে রেল মন্ত্রক। যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা এবং রেল ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তুলতেই এই বিস্তৃত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ (Indian Railways)।


