Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দীর্ঘ প্রায় দেড়শো বছর পর ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে স্পেন (Spain Princess)। আবারও সে দেশের রাজসিংহাসনে বসতে চলেছেন এক নারী। কুড়ি বছর বয়সি রাজকুমারী লেওনর, রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রানি লেতিজিয়ার জ্যেষ্ঠ কন্যা, শীঘ্রই স্পেনের সম্রাজ্ঞী হিসেবে অভিষিক্ত হতে চলেছেন। ইউরোপের প্রাচীন রাজতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ধারক-বাহক স্পেনের ইতিহাসে এই ঘটনা নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

ইসাবেলার পর লেওনর (Spain Princess)
স্পেনের ইতিহাসে শেষবার এককভাবে নারী শাসক হিসেবে রাজত্ব করেছিলেন রানি দ্বিতীয় ইসাবেলা। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর শাসনকাল শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ প্রায় ১৭০ বছর স্পেনের সিংহাসনে আর কোনও মহিলা বসেননি। সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় লেওনরই হতে চলেছেন স্পেনের দ্বিতীয় মহিলা শাসক। ফলে তাঁর অভিষেক শুধুমাত্র একটি রাজপরিবারের উত্তরাধিকার বদলের ঘটনা নয়, বরং স্পেনের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এক প্রতীকী প্রত্যাবর্তন।
বুরবোঁ রাজপরিবার (Spain Princess)
২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর মাদ্রিদে জন্মগ্রহণ করেন লেওনর। তিনি স্পেনের ঐতিহ্যবাহী বুরবোঁ রাজপরিবারের সদস্য। এই রাজবংশ ইউরোপের অন্যতম প্রভাবশালী শাসকগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি-সহ ইউরোপের নানা দেশে এই বংশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করেই লেওনর আজ আধুনিক স্পেনের মুখ হয়ে উঠছেন।

এক আধুনিক সম্রাজ্ঞীর প্রস্তুতি (Spain Princess)
রাজকুমারী লেওনর পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী। ইংল্যান্ডের খ্যাতনামা ইউডব্লুসি আটলান্টিক কলেজ থেকে তিনি স্নাতক হন। শুধু তাই নয়, দেশি-বিদেশি একাধিক ভাষায় তাঁর দখল রয়েছে। মাতৃভাষা স্প্যানিশ ও ইংরেজির পাশাপাশি তিনি চিনা ও আরবি ভাষাতেও দক্ষ। বিশ্বায়নের যুগে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য যে আন্তর্জাতিক বোধ ও যোগাযোগ দক্ষতা প্রয়োজন, লেওনরের শিক্ষা ও ভাষাজ্ঞান তাকে সেই দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে।
কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ
স্পেনের সংবিধান অনুযায়ী, যিনি উত্তরাধিকার সূত্রে সিংহাসনে বসবেন, তাঁকে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতেই হবে। সেই রাজকীয় প্রথা মেনে লেওনর স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিন বছরের এক কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। স্থলসেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা তিন বাহিনীর প্রশিক্ষণই তাঁকে সম্পন্ন করতে হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, বায়ুসেনার প্রশিক্ষণ ছিল তাঁর সামরিক জীবনের অন্তিম ধাপ। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পিলেটাস পিসি-২১ যুদ্ধবিমানে তাঁর প্রথম একক উড়ান সফলভাবে সম্পন্ন করেন লেওনর। স্পেনীয় রাজপরিবারের ইতিহাসে তিনিই প্রথম মহিলা, যিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন। এই ঘটনা তাঁকে শুধুমাত্র প্রতীকী উত্তরাধিকারী নয়, বরং ভবিষ্যতের সক্ষম কম্যান্ডার-ইন-চিফ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জনমানসে প্রত্যাশা (Spain Princess)
স্পেনীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, শীঘ্রই লেওনরকে ‘গোল্ড মেডেল অফ দ্য রিজিওন অফ মারসিয়া’ সম্মানে ভূষিত করা হবে। ভবিষ্যতে স্পেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর ভূমিকা কেমন হয়, সে দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা দেশ। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে প্রবল উৎসাহ তাঁর সিংহাসন-অভিষেক ঘিরে।
আরও পড়ুন: SIR: এবার এসআইআর শুনানিতে ডাক দুই প্রাক্তন সাংসদ টুটু বোস-সৃঞ্জয়কে!
রাজকুমারীর মানবিক মুখ
রাজকীয় দায়িত্বের বাইরেও লেওনর একজন আধুনিক তরুণী। ফুটবলের প্রতি তাঁর ভালবাসা সুবিদিত। শোনা যায়, স্পেনের তারকা ফুটবলার গাভির প্রতি তাঁর একসময় বিশেষ ভালোলাগা ছিল। এমনকি রাজকুমারী নাকি তাঁকে প্রেমপ্রস্তাবও পাঠিয়েছিলেন যদিও গাভি তা প্রত্যাখ্যান করেন বলে খবর। রাজপরিবারের গণ্ডির বাইরে এই ধরনের মানবিক গল্প লেওনরকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও কাছের করে তুলেছে।



