Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে অস্বস্তি বাড়ছে। এরই মধ্যে মার্কিন রিপাবলিকান দলের দুই প্রভাবশালী সেনেটর ভারতের ডাল আমদানির উপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিঠি লিখেছেন(Indo US Dal)। এতে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ডাল নিয়ে এই বিরোধ কি ভারত–মার্কিন বাণিজ্য আলোচনাকে বিপথে ঠেলে দেবে?
আমদানি শুল্ক “অন্যায্য” (Indo US Dal)
মন্টানার সেনেটর স্টিভ ডেইনস এবং নর্থ ডাকোটার সেনেটর কেভিন ক্রেমার চিঠিতে ভারতের হলুদ মটরশুঁটির উপর ৩০ শতাংশ আমদানি শুল্ককে “অন্যায্য” বলে দাবি করেছেন। এই শুল্ক ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পর ঘোষণা করা হয়েছিল। সেনেটরদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন কৃষকদের প্রতিযোগিতায় বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
ডাল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডাল ব্যবহারকারী দেশ। বিশ্বের মোট ডাল ব্যবহারের প্রায় ২৭ শতাংশই ভারতের। ২০২৩–২৪ অর্থবর্ষে ভারত প্রায় ৪.৬৫ মিলিয়ন টন ডাল আমদানি করেছে, যার মূল্য ছিল প্রায় ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার। পরের বছর এই আমদানি বেড়ে রেকর্ড ৬.৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছায়। অন্যদিকে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে প্রায় ৭৩.৪ মিলিয়ন ডলারের ডাল রফতানি করেছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপে শুল্ক আরোপ (Indo US Dal)
তবে রিপোর্ট বলছে, ভারত এই শুল্ক আরোপ করেছে মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে। কৃষকরা পড়তি দামের প্রতিবাদ জানালে সরকার পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। লোকসভা নির্বাচনের আগে খাদ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে কিছু ডালে শুল্কছাড়ও দেওয়া হয়েছিল।
ভারতের ‘রেড লাইন’ বার্তা (Indo US Dal)
এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন দুই দেশ একটি বড় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত কৃষি ও দুগ্ধ খাত খুলে দিক, কিন্তু ভারত এটিকে ‘রেড লাইন’ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে যে কোনও মূল্যে।”
আরও পড়ুন: Nipah Zoo: চিড়িয়াখানায় বাদুড়ের ডেরা: নিপা নিয়ে কড়া সতর্কতা আলিপুরে
চুক্তি ঝুঁকিতে পড়তে পারে (Indo US Dal)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাল ইস্যু সমাধান না হলে চুক্তি ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে কূটনৈতিক মহলে আশা, উভয় দেশই সমঝোতার পথ খুঁজবে ডালের বদলে অন্য শুল্কে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



