Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের ওপর নেমে এসেছে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় (Pakistan Flood 2025)। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তলিয়ে গেছে বন্যার জলে। অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, জমিজমা, ফসল হারিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে। কোথাও ত্রাণ নেই, কোথাও চিকিৎসা নেই—এমন এক দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছেন।

‘বন্যাকে আশীর্বাদ ভাবুন’ (Pakistan Flood 2025)
খবর সূত্রে জানা গেছে, এক সাক্ষাৎকারে খোয়াজা আসিফ বলেন—
“যারা বন্যার মতো পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন তাদের উচিত এই জল সংরক্ষণ করা। মানুষের উচিত তাদের বাড়িতে বড় বড় পাত্রে এই জল ধরে রাখা। আমাদের এই জলকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখা উচিত।”
মন্ত্রী আরও জানান, যদিও জল ধরে রাখার জন্য বড় বাঁধ প্রয়োজন, তবে বর্তমানে তা নির্মাণ করা সম্ভব নয়। তাই সাধারণ মানুষেরই উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁর এই বক্তব্য শোনার পর থেকেই পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মন্ত্রীর মন্তব্যকে “অযৌক্তিক” বলে আখ্যা দিয়েছেন, আবার অনেকে তীব্র ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন।

জনগণের বনাম সরকার (Pakistan Flood 2025)
বন্যা ও অতি বৃষ্টির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। পাঞ্জাব, সিন্ধু এবং খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে বহু জায়গায় রাস্তা অবরোধ হয়েছে। মানুষ স্লোগান তুলছে—“আমরা ঘর চাই, আমরা খাবার চাই।”
কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেছেন, মানুষ অযথা সরকারকে দোষারোপ করছে। তাঁর মতে, স্থানীয় সরকারই ক্ষমতাহীন এবং অদক্ষ। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, জনগণই নদীর গতিপথ দখল করে নির্মাণকাজ করেছে, যার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
প্রাণহানির মর্মান্তিক চিত্র (Pakistan Flood 2025)
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (NDMA) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পাকিস্তানে বন্যার জেরে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৮৫৪ জনের। আহত হয়েছেন আরও ১১০০ জনেরও বেশি মানুষ।
- শুধু পাঞ্জাব প্রদেশেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ।
- পাঞ্জাবের তথ্যমন্ত্রী আজমা বুখারি জানিয়েছেন, ইতিহাসে প্রথমবার পাঞ্জাবে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখা গেল।
- ঝিলাম, চেনাব এবং রাভি—তিনটি নদীই এবার প্রবল বেগে উপচে পড়েছে, ভেঙে দিয়েছে বাঁধ ও বসতি।
পাঞ্জাব প্রদেশে ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার পরিবার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিন কাটাচ্ছে।
ত্রাণ ও পুনর্বাসনের সংকট (Pakistan Flood 2025)
সরকারি সাহায্য পৌঁছতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে। বন্যায় ভেসে গেছে ফসল, নষ্ট হয়েছে গবাদিপশু, পানীয় জলের চরম সংকট তৈরি হয়েছে। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বহু এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। মানুষ অভিযোগ করছে, প্রভাবশালী এলাকার লোকেরা বেশি সুবিধা পাচ্ছে, অথচ দরিদ্র কৃষকরা উপেক্ষিত থাকছেন।
আরও পড়ুন: Today Weather: ভেসে যাচ্ছে বঙ্গ, এবার পুজোয় নৌকা ভ্রমণ!
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিছু দেশ জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েছে। তবে তবুও ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, পাকিস্তানের পুনর্গঠনে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



