Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সরকারি নথি অনুযায়ী ২৭ ডিসেম্বর অবসর নিয়েছেন সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita Williams)। কিন্তু তিনি যেন তাঁর জীবনে অবসর শব্দটা যেন এখনও ঠিক মানিয়ে নিতে পারছে না। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে মহাকাশযাত্রার পরেও তাঁর চোখেমুখে ক্লান্তির লেশমাত্র নেই। যাঁরা তাঁর কাছের মানুষ, তাঁরা বলছেন-এই মানুষটা এখনও সমান উদ্যমে মানুষের সঙ্গে মিশছেন, অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠছেন, শিশুদের সঙ্গে গল্প করছেন, আর মহাকাশের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর চোখে আজও আশার আলো।
মহাকাশ যাত্রা (Sunita Williams)
নাসার সঙ্গে যুক্ত জীবনে তিনবার মহাকাশে (Sunita Williams) যাত্রা, মোট ৬০৮ দিন পৃথিবীর বাইরে কাটানো, ন’বার স্পেসওয়াক, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের নেতৃত্ব-এই পরিসংখ্যান শুধু কাগজে নয়, ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। নতুন মহাকাশযান তৈরির নানা পরীক্ষাতেও ছিল তাঁর সক্রিয় ভূমিকা। তবে এত সাফল্যের পরেও সুনীতার কথায় বারবার ফিরে আসে সেইসব মানুষদের কথা-ইঞ্জিনিয়ার, প্রযুক্তিবিদ, সহকর্মী-যাঁদের ছাড়া মহাকাশ অভিযান কখনও সম্ভব নয়।

দূরের পথযাত্রী (Sunita Williams)
মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে (Sunita Williams) কথা বলতে গিয়ে তাঁর গলায় নরম সুর। একই দিনে বহু দেশে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখা, নীল গ্রহটাকে দূর থেকে ভেসে থাকতে দেখা-এই দৃশ্যগুলো তিনি মিস করেন। জানেন, জীবনে আর সেই সুযোগ নাও আসতে পারে। সেটুকু বেদনা আছে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি তাঁর মনে পড়ে সেই দলগত কাজের পরিবেশ, যেখানে একা কেউ নায়ক নয়, সবাই মিলেই অভিযাত্রী।

আরও পড়ুন: Saraswati Puja Weather 2026: সরস্বতী পুজোয় বঙ্গে ফিরবে ঠাণ্ডার আমেজ? কী জানাল হাওয়া অফিস?
এই কারণেই ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, মহাকাশ মানেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। আইএসএস যেমন বহু দেশের যৌথ প্রয়াস, তেমনই ভারত-আমেরিকার ভবিষ্যৎ সহযোগিতাও সম্ভাবনাময়। নিজের শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে সুনীতা হাসতে হাসতে বলেন, প্রথম নির্বাচনের সময় বিশ্বাসই করতে পারেননি। ভেবেছিলেন, হয়তো কোথাও কোনও ভুল হয়েছে। কিন্তু একবার মহাকাশ থেকে ফিরে এসে বুঝেছিলেন-এই জায়গাটাই তাঁর। তারপর আর পিছন ফিরে তাকাননি। কৌতূহল আর পরিশ্রম-এই দু’টিই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।


