Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবারের ভোর। চারপাশে তখনও অন্ধকার, সমুদ্র শান্ত কিন্তু সেই নিস্তব্ধতার মাঝেই নেমে আসে এক ভয়াবহ বিপর্যয় (Philippines)। দক্ষিণ ফিলিপিন্সে একটি যাত্রী ও পণ্যবাহী ফেরি আচমকাই ডুবে যায় মাঝসমুদ্রে। ফেরিতে থাকা প্রায় ৩৫০ জন মানুষের জীবন মুহূর্তের মধ্যে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এখনও পর্যন্ত ৩১৬ জনকে উদ্ধার করা হলেও ১৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত, নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েকজন।

কোন ফেরি, কোন পথে যাচ্ছিল? (Philippines)
দুর্ঘটনাগ্রস্ত ফেরিটির নাম এম/ভি ত্রিশা কার্স্টিন–৩ (Philippines)। এটি মূলত দুই দ্বীপের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হত। সোমবার মধ্যরাতের কিছু পরে ফেরিটি বন্দর শহর জাম্বোয়াঙ্গা থেকে সুলু প্রদেশের দক্ষিণ জোলো দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। ফেরিটিতে ছিলেন, ৩৩২ জন যাত্রী, ২৭ জন ক্রু সদস্য সব মিলিয়ে প্রায় ৩৬০ জনের কাছাকাছি মানুষ ওই ফেরিতে উপস্থিত ছিলেন।
কীভাবে ডুবল ফেরিটি? (Philippines)
ফিলিপিন্স কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে ফেরিটি আচমকা কারিগরি সমস্যার মুখে পড়ে। মধ্যরাত পেরোনোর পরেই ফেরিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধীরে ধীরে সমুদ্রে তলিয়ে যায়। কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া জানিয়েছেন, বাসিলান প্রদেশের বালুক-বালুক দ্বীপ গ্রামের প্রায় এক নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২ কিলোমিটার) দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র উত্তাল ছিল না, আবহাওয়াও খারাপ ছিল না।

বিপদের প্রথম সংকেত (Philippines)
এই ফেরিতে একজন কোস্টগার্ড প্রতিরক্ষা কর্মী উপস্থিত ছিলেন। দুর্ঘটনার মুহূর্তে তিনিই প্রথম বিপদের বার্তা পাঠান। সেই সতর্কবার্তাই বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানোর পথ খুলে দেয়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, ফিলিপিন্স কোস্টগার্ড নৌবাহিনী, স্থানীয় উদ্ধারকারী দল, যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। রাতের অন্ধকার ও সমুদ্রের মাঝেই দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই তৎপরতা।
উদ্ধার ও মৃত্যুর করুণ চিত্র (Philippines)
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর সমুদ্র থেকে একে একে যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। সরকারি হিসেব অনুযায়ী ৩১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, কয়েকজন এখনও নিখোঁজ বাসিলান প্রদেশের গভর্ণর মুজিব হাতামান জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ ও আহত যাত্রীদের প্রদেশের রাজধানী ইসাবেলা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত যাত্রী ছিল না, তবু প্রশ্ন থেকেই যায়
কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া দাবি করেছেন, ফেরিটি ছাড়ার আগে নিরাপত্তা পরীক্ষা করা হয়েছিল, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হয়নি, তবুও এত বড় দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো জাহাজের যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি বা প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা এই বিপর্যয়ের পেছনে বড় কারণ হতে পারে।

নৌদুর্ঘটনার বাস্তবতা (Philippines)
ফিলিপিন্স একটি দ্বীপপুঞ্জের দেশ। এখানে নৌযান ও ফেরিই বহু অঞ্চলের প্রধান যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবতা হল, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পুরনো ও দুর্বল জাহাজ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নজরদারির অভাব, কখনও কখনও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা এই সব মিলিয়ে ফিলিপিন্সে নৌদুর্ঘটনার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: মনীষীদের অসম্মান করার চেষ্টা, নেতাজির জন্মদিনে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী
সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতি
ফিলিপিন্সের নৌদুর্ঘটনার কথা উঠলেই ফিরে আসে ১৯৮৭ সালের ডোনা পাজ ট্র্যাজেডি। মধ্য ফিলিপিন্সে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ডুবে যায় যাত্রীবাহী ফেরি ডোনা পাজ। এই দুর্ঘটনায় ৪,৩০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান, যা আজও বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ অসামরিক সামুদ্রিক বিপর্যয় হিসেবে পরিচিত।



