Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বজুড়ে অহিংসা ও মানবিকতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত মহাত্মা গান্ধী (Australia)। সেই গান্ধীর মূর্তি ফের ভাঙচুরের শিকার হল বিদেশের মাটিতে। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের রোভিল এলাকায় অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর ব্রোঞ্জের মূর্তিটি কেটে নিয়ে পালাল দুষ্কৃতীরা। মূর্তির কেবল পা পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে ঘটনাস্থলে। এই ঘটনায় শুধু অস্ট্রেলিয়ায় নয়, ভারতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

কীভাবে ঘটল ঘটনা (Australia)
জানা গিয়েছে, গত ১২ জানুয়ারি মেলবোর্নের রোভিল এলাকায় অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান ইন্ডিয়ান কমিউনিটি সেন্টারের সামনে থাকা গান্ধীমূর্তিটি লক্ষ্য করে এই দুষ্কৃতী হামলা চালানো হয়। দুষ্কৃতীরা ব্রোঞ্জের মূর্তিটির পা কেটে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে কেবল মূর্তির বিচ্ছিন্ন অংশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি একটি সাদা ভ্যানে এসে এই কাজ করে পালিয়ে যায়। এই মূর্তিটি ২০২১ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে এটি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করত।
ভারত সরকারের কড়া প্রতিক্রিয়া (Australia)
ঘটনার পরই ভারতের বিদেশমন্ত্রক তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন,
“মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি ভাঙার ঘটনায় ভারত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা অস্ট্রেলীয় প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানিয়েছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, মূর্তি উদ্ধার ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি।” ভারতের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এটি শুধুমাত্র একটি মূর্তিতে আঘাত নয়, বরং অহিংসা ও শান্তির আদর্শের উপর আঘাত।
অস্ট্রেলীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের ক্ষোভ (Australia)
অস্ট্রেলীয় ভারতীয় সম্প্রদায়ের দাতব্য ট্রাস্টের সদস্য সন্তোষ কুমার জানান, “একজন জাতীয় নেতার মূর্তি এভাবে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। সিসিটিভিতে আংশিকভাবে ঘটনার চিত্র ধরা পড়েছে এবং সব তথ্য পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।” ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ধারাবাহিক অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ।

২০২১ সালের স্মৃতি (Australia)
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এটি প্রথম ঘটনা নয়। ২০২১ সালেও মেলবোর্নে মহাত্মা গান্ধীর একটি ব্রোঞ্জের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ গিয়ে পড়েছিল ভারতেও। পালটা প্রতিক্রিয়ায় গুজরাটের জামনগরে নাথুরাম গডসের একটি আবক্ষ মূর্তি ভাঙা হয়। ওই মূর্তিটি স্থাপন করেছিল ‘হিন্দু সেনা’ নামের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন তৎকালীন জামনগর জেলা কংগ্রেস সভাপতি দিগুভা জাদেজা ও তাঁর অনুগামীরা। এই ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়ে দেয়, বিদেশে ঘটে যাওয়া প্রতীকী সহিংসতার প্রভাব কতটা গভীরভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ছায়া ফেলে।
আরও পড়ুন: Lalbazar CP: অ্যাকশনে নতুন সিপি: রাতের কলকাতায় সতর্ক লালবাজার
প্রতীক ভাঙা মানেই কি মতাদর্শ মুছে ফেলা?
গান্ধীর মূর্তি ভাঙা মানে শুধুই একটি ধাতব অবয়ব ধ্বংস করা নয়। এটি আসলে অহিংসা, সহনশীলতা ও মানবিকতার দর্শনের বিরুদ্ধে এক ধরনের বার্তা। বিশ্বজুড়ে যেখানে ধর্মীয় ও জাতিগত সহিষ্ণুতার প্রয়োজন বাড়ছে, সেখানে এই ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতীক ধ্বংস করে ইতিহাস বা আদর্শ মুছে ফেলা যায় না। বরং এই ধরনের ঘটনা আরও বেশি করে সেই আদর্শকে সামনে এনে দেয়।



