Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: গোমাংস ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমন এক শব্দ, যা উচ্চারিত হলেই আবেগ, ধর্মীয় অনুভূতি ও মতাদর্শের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে (Sayak Chakraborty)। পার্ক স্ট্রিটের এক পানশালায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই চিরাচরিত বিতর্কই নতুন করে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠেছে। আর সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে অভিনেতা ও সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তীর অভিযোগ, ফেসবুক লাইভ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া।

‘অজান্তে গোমাংস খাওয়ানো’ (Sayak Chakraborty)
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে। সায়ক চক্রবর্তী, অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডু পার্ক স্ট্রিটের এক জনপ্রিয় রেস্তরাঁয় যান। অভিযোগ, পাঁঠার মাংসের বদলে তাঁদের টেবিলে পরিবেশন করা হয় গোমাংসের পদ। সায়কের দাবি, তিনি ব্রাহ্মণ সন্তান এবং ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী গোমাংস ভক্ষণ তাঁর কাছে মানসিকভাবে আঘাতের সমান। ফেসবুক লাইভে সায়ক জানান, প্রথমে খিদের চাপে না বুঝে এক কামড় খেয়ে ফেললেও পরে বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাঁর ভাষায়, “অজান্তে গরুর মাংস খাওয়ানোয় আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম।”
বেয়ারার ধর্ম পরিচয় ও বিতর্কের বিস্তার (Sayak Chakraborty)
ঘটনাকে আরও স্পর্শকাতর করে তোলে বেয়ারার ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ। অভিযোগে বলা হয়, বেয়ারা শেখ নাসির উদ্দিন ইচ্ছাকৃতভাবে গোমাংস পরিবেশন করেছেন। এখান থেকেই বিতর্ক ধর্মীয় মেরুকরণের পথে হাঁটে। সোশাল মিডিয়ায় সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। একাংশের অভিযোগ, তিনি শ্রমজীবী এক বেয়ারাকে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হেনস্তা করেছেন। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা দাবি করেন, এটি নিছক একটি ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ নয়, বরং পরিকল্পিত অবমাননা।
আইনি পদক্ষেপ ও পাল্টা অভিযোগ (Sayak Chakraborty)
সায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৯ ধারায় মামলা রুজু হয় বেয়ারার বিরুদ্ধে। এই ধারায় সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। যদিও রেস্তরাঁর পক্ষ থেকে দ্রুত ‘অনিচ্ছাকৃত ভুলের’ জন্য ক্ষমা চাওয়া হলে সায়ক অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। এর পরেই শেখ নাসির উদ্দিন জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু এখানেই গল্প শেষ নয়। সাম্প্রদায়িক হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সায়ক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তা এখনও বহাল। এই অভিযোগটি করেন এক নাট্যব্যক্তিত্ব, স্বতঃপ্রণোদিতভাবে।
অর্ডার স্লিপে বিফ? নতুন মোড় বিতর্কে (Sayak Chakraborty)
সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রেস্তরাঁর আইনজীবীর বক্তব্য। তাঁদের দাবি, অর্ডার স্লিপে স্পষ্টভাবে বিফ স্টেকের উল্লেখ রয়েছে এবং সেই বিল আদালতে পেশ করা হবে। এতেই নেটদুনিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশ্ন, তাহলে কি ‘অজান্তে গোমাংস খাওয়ানোর’ অভিযোগটি সাজানো স্ক্রিপ্ট? আরও জানা যাচ্ছে, সেদিনের অর্ডারে মাটন ও বিফ দুই পদেরই উল্লেখ ছিল। সায়কের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্য এবং অর্ডার স্লিপের এই সম্ভাব্য তথ্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
‘বিজেপির পোস্টার বয়’ তকমা (Sayak Chakraborty)
এই বিতর্কে সায়ক চক্রবর্তীর নামের পাশে জুড়ে গিয়েছে ‘বিজেপির পোস্টার বয়’ তকমা। বিনোদুনিয়ার একটি ঘটনা কীভাবে রাজনৈতিক ময়দানে ‘টক অফ দ্য টেবিল’ হয়ে উঠল, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ এই বিতর্ক। একাংশের মতে, ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে সায়ক রাজনৈতিক মাইলেজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, এটি নিছকই ব্যক্তিগত বিশ্বাসে আঘাতের প্রতিবাদ।
আরও পড়ুন: Lalbazar CP: অ্যাকশনে নতুন সিপি: রাতের কলকাতায় সতর্ক লালবাজার
সম্ভাব্য আইনি বিপদ
সোশাল পাড়ার বাসিন্দারা এখন সায়ককে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন, পার্ক স্ট্রিটের সেই রেস্তরাঁর বিল প্রকাশ করুন। আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, যদি সত্যিই অর্ডার স্লিপে বিফ স্টেকের উল্লেখ থাকে, তাহলে আদালতে তা পেশ হলে সায়ক চক্রবর্তী গুরুতর আইনি বিপাকে পড়তে পারেন। বিশেষত, সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগের নিরিখে তাঁর অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।



