Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: হংকং এক সময় যাকে বলা হতো এশিয়ার সবচেয়ে স্বাধীন ও উদার শহরগুলির অন্যতম (Jimmy Lai)। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য এই স্বশাসিত প্রদেশটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল। কিন্তু সেই হংকং আজ কার্যত এক ভিন্ন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে। তারই নির্মম উদাহরণ হংকংয়ের গণতন্ত্রকামী নেতা, ধনকুবের ও মিডিয়া মুঘল জিমি লাই-কে ২০ বছরের কারাদণ্ড।

এক ব্যক্তি, এক প্রতিরোধ (Jimmy Lai)
জিমি লাই শুধু একজন ধনী শিল্পপতি নন, তিনি হংকংয়ের গণতন্ত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ। ‘Next Digital’ মিডিয়া গোষ্ঠীর কর্ণধার লাই বরাবরই বেজিংয়ের স্বৈরাচারী নীতির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্র ‘অ্যাপল ডেইলি’ চিন-বিরোধী ও সরকার-সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার জন্য বিশেষ পরিচিত ছিল। এই সংবাদপত্র শুধু খবর পরিবেশন করত না, বরং হংকংয়ের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিল। আর সেখানেই ছিল বেজিংয়ের অস্বস্তির মূল কারণ।
জাতীয় নিরাপত্তা আইনের জন্ম (Jimmy Lai)
২০১৯ সালে হংকংয়ে একটি বিতর্কিত প্রত্যর্পণ আইনকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলনের সূচনা, তা দ্রুত রূপ নেয় চিন-বিরোধী গণবিক্ষোভে। স্বশাসন ও গণতন্ত্র কায়েমের দাবিতে রাজপথে নামেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এমনকি ২০২০ সালে করোনা মহামারির মধ্যেও এই প্রতিবাদ থামেনি। এই আন্দোলন দমন করতেই ২০২০ সালে চিন চাপিয়ে দেয় জাতীয় নিরাপত্তা আইন। এই আইন কার্যত হংকংয়ের স্বশাসনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

মানবাধিকারের অবমূল্যায়ন (Jimmy Lai)
নয়া জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ‘দেশদ্রোহ’, ‘বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত’ কিংবা ‘রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার’ মতো অস্পষ্ট অভিযোগে যে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়। অভিযুক্তের মৌলিক মানবাধিকার, ন্যায়বিচার কিংবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কোনও মূল্য কার্যত থাকে না। এই আইনের অধীনেই ২০২০ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার করা হয় জিমি লাইকে। পাঁচ বছর ধরে চলে আইনি লড়াই। গত বছর তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং অবশেষে আদালত ঘোষণা করে ২০ বছরের কারাদণ্ড।
বন্ধ ও সংবাদমাধ্যমের মৃত্যু (Jimmy Lai)
জিমি লাইয়ের গ্রেপ্তারের পরপরই বন্ধ করে দেওয়া হয় তাঁর সংস্থার জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘অ্যাপল ডেইলি’। বহু সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় হংকংয়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার আর কোনও জায়গা নেই। এক সময় যে শহর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতীক ছিল, আজ সেখানে সংবাদ প্রকাশ করাই হয়ে উঠেছে অপরাধ।
পূর্বাভাস যা সত্যি হল (Jimmy Lai)
গ্রেপ্তারের আগেই এক সাক্ষাৎকারে জিমি লাই বলেছিলেন, হংকং ছেড়ে পালিয়ে যাবেন না। তিনি সেখানেই থেকে গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন, যদিও আশঙ্কা করেছিলেন যে জাতীয় নিরাপত্তা আইন তাঁকে নিশানা করবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তাঁর সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হল। আইন অনুযায়ী তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারত। আদালত ২০ বছরের সাজা শোনালেও, অনেকের মতে এটি আসলে আজীবন কণ্ঠরোধেরই নামান্তর।

আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
বেজিংয়ের অনমনীয়তা
জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন ও একাধিক পশ্চিমি দেশ এই সাজাকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের উপর সরাসরি আঘাত বলে আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমালোচনাকে কার্যত উপেক্ষা করেই নিজের অবস্থানে অনড় বেজিং। বিশ্লেষকদের মতে, জিমি লাইয়ের সাজা শুধু একজন ব্যক্তিকে দমন নয়, বরং হংকংয়ের গোটা গণতন্ত্রকামী সমাজকে ভয় দেখানোর কৌশল।



