Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জাপানের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে (Japan Election)। গত অক্টোবরে লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) নেত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী পদে বসার পর জানুয়ারিতে পার্লামেন্ট ভেঙে আগাম নির্বাচন ঘোষণা করেছিলেন। রবিবার সেই নির্বাচনে জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) কার্যত ঝড় তুলেছে তাঁর দল। ৪৬৫ আসনের মধ্যে এলডিপি এককভাবে জিতেছে ৩১৬টি আসনে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতারও বেশি। জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি পেয়েছে আরও ৩৬টি আসন। এই ফলাফল তাকাইচিকে শুধু শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রীই নয়, কার্যত নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী নেত্রীতে পরিণত করেছে।

ভারত-জাপান সম্পর্কের তাৎপর্য (Japan Election)
তাকাইচির এই ঐতিহাসিক জয়ের পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ তিনি লেখেন, “আমাদের বিশেষ কৌশলগত ও আঞ্চলিক অংশীদারি বিশ্বশান্তি, স্থিতাবস্থা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” এই বার্তা কেবল সৌজন্যমূলক নয়; বরং এর মধ্যে লুকিয়ে আছে ভারত-জাপান সম্পর্কের গভীর কৌশলগত ইঙ্গিত। সাউথ ব্লকের মতে, তাকাইচির প্রধানমন্ত্রীত্ব ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে একটি কূটনৈতিক সুসংবাদ।
বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া (Japan Election)
গত কয়েক বছর ধরে জাপানের অর্থনীতি নানা কারণে চাপে ছিল মন্দা, মুদ্রাস্ফীতি, বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচির বিপুল জয়ের ফলে এখন তাঁর সরকার সংসদীয় বাধা ছাড়াই নিজেদের প্রকল্প ও সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। সোমবার সকাল থেকেই জাপানের শেয়ারবাজারের সূচক উল্লেখযোগ্য ভাবে ঊর্ধ্বমুখী, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন।
ভারতের জন্য কৌশলগত সুযোগ (Japan Election)
যেখানে দিল্লিতে এই জয়কে স্বাগত জানানো হচ্ছে, সেখানে বেজিংয়ের কাছে বিষয়টি নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। তাকাইচি দীর্ঘদিন ধরেই চিনের সম্প্রসারণবাদী নীতির সমালোচক। প্রসঙ্গত, গত বছর এপ্রিলে দলীয় নেত্রী হিসেবে তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন তাকাইচি। সেখানে তিনি প্রকাশ্যে ভারতকে গণতান্ত্রিক জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপকে নিয়ে একটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা কাঠামোর কথাও বলেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, তাকাইচি এক ধরনের ‘কোয়াডধর্মী কিন্তু আমেরিকা-বিহীন’ চিন-বিরোধী জোটের কথা ভাবছেন, যেখানে ভারতের ভূমিকাই হবে কেন্দ্রীয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় এই কাঠামো দিল্লির কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে বেশ মানানসই।

আরও পড়ুন: Mid Day Meal Bihar: মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ৭০ পড়ুয়া, বিহারের স্কুলে চাঞ্চল্য!
তাকাইচির কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি
ভারত-জাপান সম্পর্কের ভিত গড়ে তুলতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা আজও কূটনৈতিক মহলে স্মরণীয়। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের বাণিজ্যিক ও সামরিক প্রভাব মোকাবিলায় আবে সরকার ভারতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তাকাইচি কার্যত আবে-র কূটনৈতিক উত্তরসূরি। তাঁর ভাবনাতেও ভারত এই মুহূর্তে জাপানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। প্রতিরক্ষা, সমুদ্রনীতি, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক স্থিতাবস্থার প্রশ্নে দিল্লি-টোকিও সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।



