Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মহাকাশের রহস্যভাণ্ডারে আরও (Black Hole Burps) এক বিস্ময় যোগ করল সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার। বিজ্ঞানীরা এমন এক নতুন কৃষ্ণগহ্বরের সন্ধান পেয়েছেন, যার আচরণ দেখে চমকে উঠেছেন জ্যোতির্পদার্থবিদেরা। এই কৃষ্ণগহ্বর শুধু একটি বিশাল নক্ষত্রকে গ্রাস করেই থেমে থাকেনি, বরং তার পরে দীর্ঘ সময় ধরে বারবার বিপুল শক্তি ও পদার্থ ছিটকে দিচ্ছে-যাকে বিজ্ঞানীরা রসিকতার ছলে বলছেন ‘ঢেঁকুর তোলা’।

তীব্র মহাকর্ষ বল (Black Hole Burps)
কৃষ্ণগহ্বর মানেই এমন এক মহাজাগতিক (Black Hole Burps) বস্তু, যার তীব্র মহাকর্ষ বলের সামনে আলো পর্যন্ত হার মানে। সাধারণত কোনও নক্ষত্র বা গ্যাসমেঘ কাছে এলে, কৃষ্ণগহ্বর নিঃশব্দে তাকে টেনে নেয়। কিন্তু এই নতুন আবিষ্কৃত গহ্বরের ক্ষেত্রে ছবিটা আলাদা। গবেষকদের মতে, প্রায় ৬৫ কোটিরও বেশি আলোকবর্ষ দূরে থাকা এই কৃষ্ণগহ্বরটির ভর আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রে থাকা কৃষ্ণগহ্বরের কাছাকাছি-সূর্যের তুলনায় প্রায় ৫০ লক্ষ গুণ বেশি।

দু’বছর নীরব (Black Hole Burps)
যে নক্ষত্রটি এর কবলে (Black Hole Burps) পড়েছিল, সেটিও কম শক্তিশালী ছিল না-সূর্যের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বড়। নক্ষত্রটি ধ্বংস হওয়ার পর প্রথমে প্রায় দু’বছর নীরব ছিল কৃষ্ণগহ্বরটি। তারপর হঠাৎ করেই শুরু হয় অদ্ভুত সক্রিয়তা। বছরের পর বছর ধরে শক্তিশালী রেডিয়ো তরঙ্গ ও পদার্থ নির্গত হতে থাকে, যা টেলিস্কোপে ধরা পড়ছে।

কী হয়েছিল ঠিক?
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নক্ষত্রটি ছিন্নভিন্ন হওয়ার সময় তার কিছু অংশ সরাসরি কৃষ্ণগহ্বরে ঢুকে যায়, আর কিছু অংশ ঠিক প্রান্তে আটকে থেকে উত্তপ্ত হয়ে শক্তির বিস্ফোরণ ঘটায়। এই প্রক্রিয়াকেই ‘স্প্যাগেটিফিকেশন’ বলা হয়। ঠিক যেমন অতিরিক্ত টান পড়লে কোনও বস্তু লম্বা হয়ে ছিঁড়ে যায়।
আরও পড়ুন: Epstein Files: এপস্টিন রহস্যে নতুন মোড়, মৃত্যুর আগে শেষ ফোন কাকে?
এই ঘটনাকে ঘিরে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কেন এত দেরিতে এই ‘ঢেঁকুর’ শুরু হল, আর কতদিন চলবে-তা নিয়েই চলছে গবেষণা। তবে একথা নিশ্চিত, এই আবিষ্কার কৃষ্ণগহ্বর সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল এবং মহাবিশ্ব যে কতটা অদ্ভুত, তা আবারও মনে করিয়ে দিল।


