Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সিনেমা শুধু বিনোদনের মাধ্যম হয়ে থাকেনি, তা হয়ে উঠেছে সামাজিক আচরণ, ফ্যাশন, এমনকি রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও অংশ (Karnataka)। কোনও সংলাপ, কোনও নাচের স্টেপ, কিংবা কোনও গান মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ধুরন্ধর’ ছবির র্যাপ গান Fa9la সেই তালিকাতেই জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার ঢেউ যখন বন্দুক হাতে নাচের ভিডিওয় রূপ নেয়, তখন তা কেবল ট্রেন্ড নয়, হয়ে ওঠে বিতর্কের বিষয়।

‘ধুরন্ধর’-এর র্যাপ ঝড় এবং ভাইরাল উন্মাদনা (Karnataka)
বক্স অফিসে মুক্তির পর থেকেই ‘ধুরন্ধর’ ছবিটি ঝড় তুলেছে (Karnataka)। বিশেষ করে বাহরিনের র্যাপার ফ্লিপারাচ্চির গাওয়া FA9LA গানটি যুবসমাজের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয় হয়েছে। অক্ষয় খান্নার ‘রহমান ডাকাত’ চরিত্রে গ্র্যান্ড এন্ট্রি এবং তাঁর অভিনব ডান্স স্টেপ ইতিমধ্যেই রিল-সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে অসংখ্য তরুণ-তরুণী সেই স্টেপ নকল করে ভিডিও বানাচ্ছেন। সিনেমার প্রভাব যে কত দ্রুত বাস্তব জীবনে ঢুকে পড়ে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ। কিন্তু এই প্রভাব যখন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে পরিণত হয়, তখন প্রশ্ন উঠতেই পারে।
কালাবুর্গির বিতর্কিত ভিডিও (Karnataka)
কর্নাটকের কালাবুর্গিতে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সেই প্রশ্নকেই সামনে এনেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, এক কালো এসইউভি থেকে নাচতে নাচতে নামছেন এক রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বিধায়ক-ঘনিষ্ঠ মতীন প্যাটেল। তাঁর হাতে রয়েছে একটি বন্দুক। ‘রহমান ডাকাত’-এর স্টেপে বন্ধুদের সঙ্গে নাচতে দেখা যায় তাঁকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে এই ভিডিও। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে একজন জন প্রতিনিধি বা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কি এভাবে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতে পারেন?

প্রশাসনের অবস্থান ও আইনি প্রশ্ন (Karnataka)
এই ঘটনার পর কালাবুর্গির পুলিশ কমিশনার শরণাপ্পা এস ডি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে তাঁরা চেনেন এবং তদন্ত চলছে ভিডিওটি কোথায় তৈরি হয়েছে, কোন থানার আওতায় পড়ে, এবং আগ্নেয়াস্ত্রটির বৈধ লাইসেন্স ছিল কিনা, সবই পরীক্ষা করা হবে। এখানে মূল প্রশ্ন দুটি, আগ্নেয়াস্ত্রটির বৈধ লাইসেন্স ছিল কি? থাকলেও, প্রকাশ্যে এভাবে প্রদর্শন করা আইনের শর্ত লঙ্ঘন কিনা?, ভারতে আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কঠোর আইন রয়েছে। লাইসেন্স থাকলেও জনসমক্ষে তা প্রদর্শন বা ভয় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার আইনত অপরাধ হতে পারে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, বেআইনি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অনুকরণ না অন্ধ অনুসরণ? (Karnataka)
এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সিনেমার সামাজিক প্রভাব। ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে ‘রহমান ডাকাত’ চরিত্রটি এক কাল্পনিক দস্যুর রোমাঞ্চকর উপস্থাপনা। পর্দায় সেই দৃশ্য দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় লাগতে পারে। কিন্তু বাস্তব জীবনে সেই চরিত্রের স্টাইল অনুকরণ করতে গিয়ে যদি আইন ভঙ্গ হয়, তবে তা নিছক বিনোদন থাকে না। বলিউডের জনপ্রিয়তা যে জনমানসে গভীর প্রভাব ফেলে, তা নতুন কিছু নয়। পোশাক থেকে ভাষা সব ক্ষেত্রেই সিনেমা ট্রেন্ড তৈরি করে। কিন্তু রাজনৈতিক বা সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সেই প্রভাব আরও সংযত হওয়া উচিত। কারণ তাঁদের প্রতিটি পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা বহন করে।

আরও পড়ুন: Bikash Bhawan Abhijan: টাকা বাড়লেই মিটবে পার্শ্বশিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ
সোশ্যাল মিডিয়া যুগে ‘ইমেজ পলিটিক্স’
বর্তমান সময়ে রাজনীতিবিদদের একটি বড় অংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সচেষ্ট। ভাইরাল ভিডিও, ট্রেন্ডিং গান সবই হয়ে উঠেছে ‘ইমেজ পলিটিক্স’-এর হাতিয়ার। কিন্তু জনপ্রিয়তার এই প্রতিযোগিতায় কখনও কখনও সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়। বন্দুক হাতে নাচের ভিডিও হয়তো কিছু মানুষের কাছে ‘স্টাইল’ বা ‘দাপট’-এর প্রতীক হতে পারে, কিন্তু বৃহত্তর সমাজের কাছে তা ভয় বা দায়িত্বহীনতার বার্তা দেয়। বিশেষত যখন দেশজুড়ে অস্ত্র-সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তখন এমন দৃশ্য আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। জন প্রতিনিধি বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আচরণ সাধারণ নাগরিকদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠতে পারে। তাই তাঁদের আচরণে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থাকা অত্যন্ত জরুরি।



