Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এস জয়শংকর মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে দাঁড়িয়ে পরিষ্কার করে দিলেন রুশ তেল কেনা নিয়ে ভারত কোনও বাইরের চাপের কাছে নত হবে না (Russia Oil)। তাঁর বক্তব্যে ছিল কূটনৈতিক সংযম, কিন্তু বার্তা ছিল দৃঢ়। তিনি বলেন, “ভারত বরাবরই কৌশলগত ক্ষেত্রে স্বাধীন থেকেছে। রাজনৈতিক পালাবদল হলেও এই নীতি বদলায়নি।” এই বক্তব্য শুধু একটি তেলের প্রশ্ন নয়; বরং ভারতের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতির দর্শনকেই সামনে আনে‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বা কৌশলগত স্বাধীনতা।

মার্কিন চাপের প্রেক্ষাপট (Russia Oil)
সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া থেকে তেল না কেনা এবং পাঁচ বছরে বিপুল পরিমাণ মার্কিন পণ্য আমদানির শর্তে ভারত-আমেরিকা চুক্তি এগোচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও-ও ইঙ্গিত দেন, ভারত নাকি রুশ তেল আমদানি বন্ধ করতে চলেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার তরফে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে। রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মন্তব্য করেন, “শুধুমাত্র ট্রাম্পই বলছেন ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে।” এই পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যেই ভারতের অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়।

জটিল বৈশ্বিক তেলবাজার (Russia Oil)
জয়শংকর তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক তেলবাজার অত্যন্ত জটিল। শুধু ভারত নয়, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলও তেল কেনার ক্ষেত্রে দাম, সরবরাহের স্থায়িত্ব, ঝুঁকি এবং আর্থিক সুবিধা সবকিছু খতিয়ে দেখছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বাজারে অস্থিরতার কারণে রুশ তেল অনেক সময় ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ভারতের জন্য সস্তা জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পোন্নয়নের স্বার্থে সরকারকে বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। এই প্রেক্ষাপটে রুশ তেল আমদানি ভারতের অর্থনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে ভারত সরাসরি ঘোষণা করেনি যে তারা রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখবেই বরং তারা বলছে, সিদ্ধান্ত হবে জাতীয় স্বার্থে।
‘ঝুঁকেগা নেহি’ (Russia Oil)
জয়শংকরের বক্তব্যে যে আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে, তা সাম্প্রতিক ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন। ভারত একদিকে আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গভীর করছে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্কও বজায় রাখছে। এই ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’ কৌশল ভারতের জন্য নতুন নয়। শীতল যুদ্ধের সময় ‘নিরপেক্ষতা’ নীতি যেমন ছিল, তেমনি বর্তমান বিশ্বে ভারত চায় নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে না পুরোপুরি পশ্চিমমুখী, না রাশিয়া-চীন ঘনিষ্ঠ। “আমরা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেব কিনা এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে,” এই মন্তব্যে স্পষ্ট, ভারত অন্য দেশের পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নয়, নিজস্ব কৌশলগত হিসেবেই এগোবে।

আরও পড়ুন: Lalbazar Lockup Meal: আদালত লকআপে বন্দিদের জন্য নতুন মেনু, মিলবে খাঁটি দুধ-সরষের তেলে রান্না
ভারতের ভারসাম্য রক্ষা
ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ কম নয়। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ছে; অন্যদিকে রাশিয়া ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি অংশীদার। এই দ্বিমুখী সম্পর্ক সামাল দেওয়া সহজ নয়। কিন্তু ভারত চেষ্টা করছে ‘ভারসাম্য রক্ষা’ কূটনীতির মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক শক্তির দ্বন্দ্বে সরাসরি পক্ষ না নিয়ে, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার নীতিই এখন ভারতের প্রধান হাতিয়ার। রুশ তেল ইস্যু তাই কেবল জ্বালানি আমদানির প্রশ্ন নয়; এটি ভারতের পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীন সত্তার প্রতীক।



