Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনার জীবনে সবসময়েই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে ১৯৬৭ সালের এই দিনেই তিনি পরমাণু বিজ্ঞানী এমএ ওয়াজেদ মিঞাকে বিয়ে করেন (Sheikh Hasina Punishment)। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর সেই বিবাহবার্ষিকীর দিনেই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি), যা মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এই বৈপরীত্যপূর্ণ পরিস্থিতি দিনটিকে আরও আলোচিত করে তোলে।

দিল্লিতে শেখ হাসিনা! (Sheikh Hasina Punishment)
দিল্লির বাসভবনে দিনটি কীভাবে কাটালেন শেখ হাসিনা সেই প্রসঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি একেবারেই ভেঙে পড়েননি। বরং রায়ের প্রসঙ্গ উঠলে বিষয়টিকে সহজভাবে নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “কি হবে জানা কথাই। প্রাণদণ্ড দেবে, এই তো!” তিনি হাসতে হাসতেই নিজের অতীতের নানা বিপদের কথা স্মরণ করেন বিশেষত প্রাণঘাতী হামলাগুলো থেকে বারবার অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
২০ বার হত্যাচেষ্টায় বেঁচে ফেরা (Sheikh Hasina Punishment)
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনজুড়ে বহুবার হত্যাচেষ্টার মুখে পড়েছেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় তিনি একটি কানে শ্রবণশক্তি হারান; সেখানে ২৪ জন মারা যান এবং ৪০০ জন আহত হন। সাতক্ষীরার কলারোয়া ও বরিশালের গৌরনদীতে তাঁর ওপর চালানো গুলিবর্ষণের ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন। হাসিনার বিশ্বাস “আল্লাই আমাকে বাঁচিয়েছেন।”

হাসিনার অভিযোগ (Sheikh Hasina Punishment)
মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তাঁর বক্তব্য, এটি বিচার নয়, বরং তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত পদক্ষেপ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি “অনির্বাচিত দখলদার সরকার” কীভাবে আন্তর্জাতিক আদালত স্থাপন করতে পারে? তিনি দাবি করেন, বিচার সুষ্ঠুভাবে হলে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে আদালতে উপস্থিত হতে পিছপা হতেন না।
আইসিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন! (Sheikh Hasina Punishment)
ঢাকার এক প্রবীণ আইনজীবী (বর্তমানে গোপনে রয়েছেন) জানান, আইসিটি একটি অধ্যাদেশ দিয়ে গঠিত হয়েছে। কিন্তু অধ্যাদেশ কখনও স্থায়ী আইন নয়, সংসদে তা পাস না হলে এর আইনি বৈধতা থাকে না। এই অবস্থায় আদালত এবং তার রায় উভয়ই প্রশ্নের মুখে পড়ে।
সম্ভাব্য সাংবিধানিক সংকট
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী যদি ভবিষ্যৎ সংসদ অধ্যাদেশটি বাতিল বা পাস না করে, আর তার আগেই যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তবে তা হবে অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি মনে করিয়ে দেন অস্থায়ী আইনি কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া সাংবিধানিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও পড়ুন: Instagram: ইনস্টাগ্রামে লাভ রিয়্যাক্ট থেকে রক্তারক্তি! ধূপগুড়িতে লাভ স্টোরিতে ভায়োলেন্ট অ্যাঙ্গেল
শাসন বদলের পর রায়ের বদল
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সরকার পরিবর্তনের পর রায় পাল্টে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। উদাহরণ হিসেবে রয়েছে, লুৎফজ্জামান বাবর, বহু হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত; ১৭ বছর জেলে থাকার পর বেকসুর খালাস পেয়ে এখন নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত; উচ্চ আদালতও দণ্ড বহাল রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার তাঁকে মুক্তি দিয়েছে।



