Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: চেনা উপসর্গ, পরিচিত অসুখ। জ্বর, সর্দি, কাশি ডাক্তারের চেম্বারে গেলেই প্রেসক্রিপশনে জায়গা করে নেয় অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic Consumption)। অনেক সময় পরীক্ষার আগেই শুরু হয় ওষুধ। সাময়িকভাবে উপশম মিললেও, দীর্ঘমেয়াদে তৈরি হচ্ছে এক গভীর সঙ্কট অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যা ভবিষ্যতের ‘নীরব মহামারি’ বলে চিহ্নিত হচ্ছে। সম্প্রতি (আইসিএমআর)-এর সমীক্ষায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্তরে নতুন গাইডলাইন আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (Antibiotic Consumption)
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে জীবাণু ধীরে ধীরে নির্দিষ্ট ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে ফেলে। ফলে একই ওষুধে আর সংক্রমণ সারে না। তখন প্রয়োজন হয় আরও শক্তিশালী, ব্যয়বহুল এবং কখনও কখনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসম্পন্ন ওষুধের। এর প্রধান কারণ, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার, অসম্পূর্ণ কোর্স, ভাইরাল সংক্রমণেও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ, স্ব-চিকিৎসা (Self-medication), পশুপালন ও কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যবহার বিশেষ করে সর্দি-কাশির মতো ভাইরাল অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক কোনও কাজ করে না। তবুও দ্রুত আরোগ্যের আশায় অনেক ক্ষেত্রেই এগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে।
উদ্বেগ প্রকাশ আইসিএমআরের (Antibiotic Consumption)
বেলেঘাটার নিরবি (পূর্বতন নাইসেড)-এ ওআরএস–এর জনক প্রয়াত চিকিৎসক-বিজ্ঞানী দিলীপ মহলানবিস -এর আবক্ষ মূর্তি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব তথা আইসিএমআর-এর মহা নির্দেশক রাজীব বাহল। সেখানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পরীক্ষার আগেই ‘এম্পিরিক্যাল’ ভিত্তিতে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার প্রবণতা রুখতে আইসিএমআর নতুন গাইডলাইন তৈরির কাজ করছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয়ের আগেই ওষুধ প্রয়োগ করলে তা জীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা সংক্রমণের চিকিৎসাকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।

কী থাকবে নতুন নির্দেশিকায়? (Antibiotic Consumption)
আইসিএমআর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত গাইডলাইনে থাকবে—
১. সংক্রমণভিত্তিক নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচন
প্রতিটি সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী কোন অ্যান্টিবায়োটিক প্রাথমিকভাবে দেওয়া যেতে পারে, তার স্পষ্ট দিশা থাকবে।
২. পরীক্ষার গুরুত্ব
কোন পরিস্থিতিতে কালচার বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে জীবাণু শনাক্ত করে ওষুধ পরিবর্তন করতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
৩. নির্দিষ্ট সময়সীমা
কতদিন অ্যান্টিবায়োটিক চালানো প্রয়োজন, তা নির্দিষ্ট করা হবে। অযথা দীর্ঘদিন ওষুধ চালানো বা মাঝপথে বন্ধ করার প্রবণতা কমানোই লক্ষ্য।
৪. চিকিৎসকের বিচক্ষণতার জায়গা
কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষার আগেই অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যেতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে চিকিৎসকের দক্ষতা, রোগীর অবস্থা এবং ক্লিনিক্যাল বিচারবোধের উপর।
কেন জরুরি প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা (Antibiotic Consumption)
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রমাণভিত্তিক গাইডলাইন কার্যকর হলে, অপ্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন কমবে, হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে, ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক সংরক্ষণ সম্ভব হবে, চিকিৎসা ব্যয় কমবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বহুদিন ধরে সতর্ক করে আসছে যে, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স অব্যাহত থাকলে সাধারণ অস্ত্রোপচার, প্রসব কিংবা ক্যানসার চিকিৎসাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন: Menstrual Cycle Delay: মাসিক দেরি মানেই কি বিপদ? কী বলছেন চিকিৎসকরা?
সামাজিক দায়িত্ব ও সচেতনতার প্রশ্ন
শুধু চিকিৎসক নন, রোগী ও সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়া, নির্দিষ্ট কোর্স সম্পূর্ণ করা, ভাইরাল অসুখে অ্যান্টিবায়োটিকের দাবি না তোলা, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধে কঠোর নজরদারি, অ্যান্টিবায়োটিক কোনও জ্বরের ‘ম্যাজিক পিল’ নয়। এটি এক মূল্যবান সম্পদ, যা অপব্যবহারে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে।



