Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: পাকিস্তানের বাণিজ্যিক নগরী করাচি-র ব্যস্ত এলাকায় বুধবার গভীর রাতে ঘটে গেল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা (Karachi)। রানা কলোনির সোলজার বাজারে একটি বহুতল ভবনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে ভবনের একাংশ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৪ জন। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী বাহিনী এখনও ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছে।
ঠিক কী ঘটেছিল? (Karachi)
সূত্রের খবর, বুধবার রাতে সোলজার বাজারের একটি আবাসিক বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় হঠাৎই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই প্রবল ছিল যে ভবনের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয়দের দাবি, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাশের ভবনগুলিও কেঁপে ওঠে এবং জানালার কাঁচ ভেঙে যায়।
হতাহতদের অবস্থা (Karachi)
দুর্ঘটনায় নিহতদের সংখ্যা বেড়ে ১৩-তে পৌঁছেছে। আহত ১৪ জনকে দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১০ বছরের নাজিয়া এবং ৬০ বছরের মহম্মদ রিয়াজ গুরুতর আহত বলে জানা গেছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

উদ্ধারকাজে বাধা ও প্রশাসনিক তৎপরতা (Karachi)
দুর্ঘটনাগ্রস্ত ভবনটি একটি ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় উদ্ধারকাজে যথেষ্ট অসুবিধার মুখে পড়তে হয়েছে উদ্ধারকারী দলকে। সরু রাস্তা ও ঘনবসতির কারণে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে সময় লাগে। পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এলাকা ঘিরে রেখেছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Kolkata: কবীর সুমনের উদ্বোধনে একুশের বইমেলা, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে লায়েলকা মাঠে
বিস্ফোরণের কারণ নিয়ে তদন্ত
প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণকেই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হলেও, তদন্তকারীরা অন্য সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। গ্যাস লাইনে লিক, অবৈধ সংযোগ বা নিরাপত্তা বিধি না মানার মতো বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘিঞ্জি এলাকায় নিরাপত্তা বিধি অমান্য করে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণ ও ব্যবহার করলে বড়সড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।



