Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থার ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় রচিত হল সম্প্রতি (Dharmatala)। শহরের প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলা-র শতাব্দীপ্রাচীন ‘এল ২০ বাসস্ট্যান্ড’ সরে গেল মেট্রো প্রকল্পের বিস্তারের কারণে। বহু দশক ধরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গগামী সরকারি বাসের অন্যতম প্রধান টার্মিনাস ছিল এই স্ট্যান্ড। কিন্তু সময়ের দাবি মেনে নগরোন্নয়নের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সেটিকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ কেবল একটি বাসস্ট্যান্ড সরানো নয়, বরং কলকাতার পরিবহণ মানচিত্রে এক মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা।

ঐতিহ্যবাহী এল ২০ বাসস্ট্যান্ড (Dharmatala)
ধর্মতলার এলাকা বরাবরই শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু। এল ২০ বাসস্ট্যান্ড ছিল বহু মানুষের প্রতিদিনের যাত্রাপথের সূচনা বিন্দু। এসবিএসটিসি ও এনবিএসটিসি-র বাস এখান থেকেই বিভিন্ন জেলায় ছাড়ত। উৎসবের সময় হোক বা ছুটির মরশুম, যাত্রীদের ভিড়ে সরগরম থাকত এলাকা। এই বাসস্ট্যান্ড শুধুমাত্র একটি পরিবহণ কেন্দ্র নয়, বরং শহরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের অংশ। আশেপাশে ছোট-বড় ব্যবসা, খাবারের দোকান, হকারদের রোজগার সবই জড়িয়ে ছিল এই স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে।
কেন প্রয়োজন হল স্থানান্তরের? (Dharmatala)
বর্তমানে এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন-কে ঘিরে গড়ে উঠছে এক বৃহৎ আন্তঃসংযোগ কেন্দ্র। এখানে মিলিত হবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো করিডর—
- নিউ গড়িয়া–দক্ষিণেশ্বর
- হাওড়া ময়দান–সেক্টর ফাইভ (ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো)
- জোকা–এসপ্ল্যানেড
এই তিনটি লাইন একত্রে যুক্ত হলে এসপ্ল্যানেড অঞ্চল হয়ে উঠবে শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাব। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনতলা বিশিষ্ট স্টেশন নির্মিত হবে, যাতে যাত্রীরা সহজেই এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যেতে পারেন। এই বিপুল অবকাঠামোগত কাজের জন্য প্রয়োজন বিশাল জায়গা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে এল ২০ বাসস্ট্যান্ড এবং সংলগ্ন এলাকা মেট্রো প্রকল্পের আওতায় চলে আসে। জনচাপ ও নির্মাণকাজের সুবিধার্থেই বাসস্ট্যান্ড সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আধুনিকতার ছোঁয়া (Dharmatala)
নতুন সরকারি বাসস্ট্যান্ডটি এসপ্ল্যানেড স্টেশনের কাছেই গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় চার হাজার বর্গমিটার জায়গায় নির্মিত এই স্ট্যান্ডে রয়েছে—
- প্রশস্ত ওয়েটিং রুম
- শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টিকিট কাউন্টার
- ফুড কোর্ট
- শৌচাগার
- পর্যাপ্ত শেড ও বসার ব্যবস্থা
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ২০০টি সরকারি বাস এখান থেকে ছাড়বে। প্রশাসনের দাবি, পুরনো স্ট্যান্ডের তুলনায় এখানে যাত্রীসুবিধা অনেক বেশি উন্নত ও সুশৃঙ্খল।
নাগরিকদের ওপর প্রভাব (Dharmatala)
এই পরিবর্তনের ফলে যাত্রীদের অভ্যাসে বড় রদবদল এসেছে। এখন আর পুরনো এল ২০ বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস পাওয়া যাবে না; তাঁদের যেতে হবে উল্টো দিকের ধর্মতলা সরকারি বাসস্ট্যান্ডে। প্রথমদিকে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে উন্নত পরিকাঠামো ও মেট্রোর সুবিধা যাত্রীদের যাত্রাকে সহজ করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই অঞ্চল থেকে ছাড়া বেসরকারি বাসগুলি কবে সরানো হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ফলে আপাতত আংশিক পরিবর্তনই কার্যকর হয়েছে।
ব্যবসায়িক পরিবর্তন (Dharmatala)
বাসস্ট্যান্ডের পাশাপাশি বিধান মার্কেটও স্থানান্তরিত হচ্ছে। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ ও সিধু কানহো ডহরের মাঝামাঝি এলাকায় নতুন দোতলা ভবনে গড়ে উঠবে মার্কেট। সেখানে আধুনিক দোকানঘর, ফুড কোর্ট, পার্কিং লট ও শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা উন্নত পরিবেশ পাবেন, তবে পুরনো জায়গার ঐতিহ্য ও আবেগের জায়গাটি নিঃসন্দেহে আলাদা ছিল।
আরও পড়ুন: Sundar Pichai: এআই দুনিয়ায় নেতৃত্ব দেবে ভারত? অল্টম্যানের পর পিচাইয়ের বড় বার্তা!
প্রশাসনিক পরিকল্পনা
প্রথমে গত বছরের ডিসেম্বরেই স্থানান্তরের কথা থাকলেও পুলিশ অতিরিক্ত একটি এমার্জেন্সি এক্সিট রাখার পরামর্শ দেয়। কারণ রানি রাসমণি রোডে প্রায়ই মিটিং-মিছিল হয়, ফলে রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতিরিক্ত জরুরি নির্গমনপথ তৈরি হওয়ার পরই সব পক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে নতুন স্ট্যান্ড চালু করা হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে বাস চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা কমবে।



