Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সোশাল মিডিয়ার ঝড়ে ফের একবার ক্ষতবিক্ষত হলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty)। ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুরুচিকর মন্তব্য এবং মৃত মাকে টেনে এনে অপমান এই সবকিছুর বিরুদ্ধে ফেসবুক লাইভে সরব হলেন তিনি। শেষমেশ জানালেন, আপাতত সোশাল মিডিয়া থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিম্নে ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষাক্ত রূপ (Iman Chakraborty)
সোশাল মিডিয়া একদিকে যেমন শিল্পীদের তাঁদের শ্রোতাদের আরও কাছে নিয়ে আসে, তেমনই অন্যদিকে তৈরি করে এক অদৃশ্য ‘বিচারসভা’। সেখানে অনেকেই দায়বদ্ধতা ভুলে গিয়ে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেন। সম্প্রতি নিজের মায়ের মৃত্যুদিনে একটি আবেগঘন ছবি পোস্ট করেছিলেন ইমন। স্বাভাবিকভাবেই অনুরাগীরা সমবেদনা ও ভালোবাসা জানান। কিন্তু সেই আবেগঘন মুহূর্তেই এক নেটিজেন অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন। অভিযোগ, সেই কমেন্টে লেখা হয়, “মাকে ডেকে দেখান, কীভাবে পাঁচালি গেয়ে, চটি চেটে কেমন বঙ্গবিভূষণ পেয়েছেন। এরপর নোবেলও পাবেন।” একজন শিল্পীর সাফল্যকে খাটো করা তো বটেই, তাঁর প্রয়াত মাকেও টেনে এনে অপমান এই ঘটনা গভীরভাবে আঘাত করে ইমনকে।
ফেসবুক লাইভে ইমনের প্রতিবাদ (Iman Chakraborty)
বৃহস্পতিবার সকালে ফেসবুক লাইভে এসে গোটা বিষয়টি সকলের সামনে তুলে ধরেন তিনি। স্পষ্ট কণ্ঠে বলেন, “আমি সব রকমের গান গেয়েছি। পাঁচালিও। তাতে আমার কোনও সমস্যা নেই, আমার পরিবারের কারও সমস্যা নেই। তাহলে আপনার কীসের সমস্যা?” এই বক্তব্যে একদিকে যেমন আত্মসম্মানের দৃঢ়তা ফুটে ওঠে, অন্যদিকে তেমনই স্পষ্ট হয় তাঁর মানসিক যন্ত্রণা। একজন শিল্পী তাঁর শিল্পচর্চা নিয়ে গর্ববোধ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই শিল্পকেই অস্ত্র করে অপমানের চেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশ্ন তোলে সমাজের মানসিকতা নিয়ে।

‘বঙ্গবিভূষণ’ ও বিতর্কের আবহ (Iman Chakraborty)
উল্লেখ্য, ইমন চক্রবর্তী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ ভূষিত হয়েছেন। এই সম্মান প্রাপ্তির পর থেকেই সোশাল মিডিয়ার একাংশে নানা সমালোচনা শুরু হয়। যদিও শিল্পী হিসেবে তাঁর সাফল্য ও স্বীকৃতি বহুদিনের পরিশ্রমের ফল, তবুও রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহে অনেকেই শিল্পকে দেখেন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। এই প্রেক্ষাপটেই তাঁর বিরুদ্ধে কটাক্ষের সুর আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
শিল্পীর মানসিক স্বাস্থ্য ও সোশাল মিডিয়ার দায় (Iman Chakraborty)
সোশাল মিডিয়া আজ এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রশংসা যেমন দ্রুত ছড়ায়, তেমনই ঘৃণাও আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তারকারা সাধারণ মানুষের নাগালে থাকায় তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনও অনেক সময় প্রকাশ্যে বিচারাধীন হয়ে পড়ে। ইমনের ক্ষেত্রে যে মন্তব্য করা হয়েছে, তা কেবল সমালোচনা নয় বরং ব্যক্তিগত আক্রমণ। বিশেষ করে প্রয়াত মাকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য মানসিকভাবে গভীর আঘাত হানতে পারে। এই ঘটনার পর তিনি জানিয়েছেন, সোশাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি একপ্রকার আত্মরক্ষার পথ নিজের মানসিক শান্তি রক্ষার প্রয়াস।

আরও পড়ুন: Sikandar Raza: রোহিতকে টপকে রাজাই ‘সিকান্দার’
শিল্পীর মর্যাদা
ইমন চক্রবর্তী বরাবরই বিভিন্ন ঘরানার গান গেয়ে নিজের বহুমাত্রিকতা প্রমাণ করেছেন। পাঁচালি থেকে আধুনিক, রবীন্দ্রসংগীত থেকে চলচ্চিত্রের গান সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজস্ব স্বাক্ষর রেখেছেন। একজন শিল্পী কী গান গাইবেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত ও সৃজনশীল সিদ্ধান্ত। সমালোচনা গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু তা যেন কখনও ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত না হয়। শিল্পীকে তাঁর শিল্প দিয়ে বিচার করা যায়, কিন্তু তাঁর পরিবার বা ব্যক্তিগত শোককে অপমানের হাতিয়ার করা সমাজের সুস্থতার লক্ষণ নয়।



