Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দেশজুড়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে National Council of Educational Research and Training (এনসিইআরটি)-র অষ্টম শ্রেণির একটি সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবই (NCERT Textbook Row )। বইটির সংশোধিত অধ্যায়ে দেশের বিচারব্যবস্থার কাঠামো ও ভূমিকার পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলা বিভিন্ন সমস্যার উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে দুর্নীতির প্রসঙ্গও রয়েছে। এই বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে আলোড়ন।

শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ (NCERT Textbook Row )
বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত Supreme Court of India সংশ্লিষ্ট পাঠ্যবইটি নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়, পাঠ্যবইয়ের কিছু অংশ বিচারব্যবস্থার মর্যাদার পরিপন্থী হতে পারে। আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ে কেন্দ্র সরকারকে ক্ষমাও চাইতে হয়। এই নির্দেশের পরই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিতর্কিত বই বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি করা হয় এবং ভবিষ্যতে যেন তা আর প্রচারে না আসে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখপ্রকাশ (NCERT Textbook Row )
বই নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী Dharmendra Pradhan প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিচার বিভাগকে সম্মান করি। আদালত যা নির্দেশ দিয়েছে, আমরা তা সম্পূর্ণরূপে মেনে চলব। যা ঘটেছে তাতে আমি দুঃখিত।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি তাঁর নজরে আসামাত্রই তিনি এনসিইআরটিকে সমস্ত বিতর্কিত বই প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। বইগুলি বাজারে যাতে না আসে, সে বিষয়েও তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত করেছেন। তাঁর কথায়, “বিচার বিভাগকে অসম্মান করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়।” এছাড়া, সংশ্লিষ্ট অধ্যায় যাঁরা প্রস্তুত করেছেন তাঁদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ (NCERT Textbook Row )
এই বিতর্কের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi বর্তমানে ইজরায়েল সফরে রয়েছেন। প্রকাশ্যে তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও, সূত্রের খবর অনুযায়ী তিনি ঘনিষ্ঠমহলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ বার্তায় তিনি নাকি স্পষ্ট জানিয়েছেন এই বই এবং বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি সংক্রান্ত অধ্যায় যারা তৈরি করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে এবং ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশ সফরে থাকার কারণেই তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন।
কী ছিল বিতর্কের মূল কারণ? (NCERT Textbook Row )
উল্লেখ্য, এনসিইআরটির আগের সংস্করণের পাঠ্যবইয়ে দেশের বিচারব্যবস্থার কাঠামো, আদালতের ভূমিকা ও ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া নিয়েই আলোচনা সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু নতুন সংস্করণে ‘আমাদের সমাজে বিচারবিভাগের ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায়ে কেবল আদালতের গঠন বা কার্যপদ্ধতি নয়, বিচারব্যবস্থার কাজকর্মে প্রভাব ফেলে এমন বিভিন্ন সমস্যাও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ থাকায় অনেকের মতে, অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের সামনে বিচারব্যবস্থার ভাবমূর্তি নিয়ে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। আবার অন্য একাংশের মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সমালোচনামূলক শিক্ষার অংশ হিসেবেই এই বিষয়গুলি আলোচনায় আনা উচিত।

আরও পড়ুন: Sikandar Raza: রোহিতকে টপকে রাজাই ‘সিকান্দার’
গণতন্ত্রে পাঠ্যবই ও দায়িত্ববোধ
এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে স্কুলের পাঠ্যবই কতটা সমালোচনামূলক হতে পারে? বিচারব্যবস্থা বা অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা কি শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত, নাকি তা পরিণত বয়সের পাঠ্যক্রমে সীমাবদ্ধ রাখা দরকার? একদিকে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন, অন্যদিকে রয়েছে বাস্তবতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাধারার বিকাশ। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



