Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজকীয় উদয়পুরে আলো–আঁধারির সন্ধ্যা। বৃহস্পতিবাসরীয় শুভ লগ্নে চার হাত এক হয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের দুই জনপ্রিয় মুখ Vijay Deverakonda ও Rashmika Mandanna (Rashmika Mandanna)। বহুদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হলেন এই তারকা জুটি। তেলুগু আচার-অনুষ্ঠানের পর এবার কর্নাটকের কোডাভা সম্প্রদায়ের নিয়মে বিয়ের দ্বিতীয় পর্ব যেন সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এক অনন্য আয়োজন। নিচে এই রাজকীয় বিবাহ ও তার পরবর্তী আবেগঘন মুহূর্তগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

উদয়পুরের রাজকীয় আয়োজন (Rashmika Mandanna)
রাজস্থানের ঐতিহাসিক শহর উদয়পুর বরাবরই ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের জন্য বিখ্যাত। লেক সিটির প্রাসাদোপম পরিবেশ, আলোকসজ্জা, ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা সব মিলিয়ে যেন রূপকথার এক আবহ। সেই আবহেই সম্পন্ন হয়েছে বিজয় ও রশ্মিকার বিয়ে। প্রথম পর্বে তেলুগু রীতিনীতি মেনে মন্ত্রোচ্চারণ, হলুদের আচার, কন্যাদান ও মঙ্গলসূত্র পরানো সবই হয়েছে ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে। দক্ষিণ ভারতের আধ্যাত্মিক আবহ আর রাজস্থানি ঐশ্বর্যের মেলবন্ধন অনুষ্ঠানে এনে দেয় এক অনন্য মাত্রা।
শিকড়ের টানে দ্বিতীয় পর্ব (Rashmika Mandanna)
রশ্মিকা কর্নাটকের কোডাভা সম্প্রদায়ের কন্যা। তাই বিয়ের দ্বিতীয় পর্বে গুরুত্ব পাচ্ছে কোডাভা সংস্কৃতি। এই সম্প্রদায়ের বিবাহরীতিতে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, পারিবারিক আশীর্বাদ ও নির্দিষ্ট সামাজিক আচার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তেলুগু এবং কোডাভা দুই ভিন্ন সংস্কৃতির সংযোগ যেন এই দাম্পত্যকে আরও গভীর অর্থ দিচ্ছে। একদিকে ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য, অন্যদিকে ভালোবাসার ঐক্য এই বিয়েকে করে তুলেছে বহুমাত্রিক।

সোশাল মিডিয়ায় রশ্মিকার আবেগঘন স্বীকারোক্তি (Rashmika Mandanna)
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্ট করে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে দেন রশ্মিকা। পোস্টের শুরুতেই তিনি লেখেন, “আপনাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই আমার স্বামীর।” এরপর একের পর এক আবেগঘন বাক্যে তিনি তুলে ধরেন বিজয়ের ব্যক্তিত্ব ও তাঁর জীবনে বিজয়ের প্রভাব। তিনি লেখেন, “মানুষটি আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসা কেমন তা শিখিয়েছে।” “মানুষটি আমাকে দেখিয়েছে শান্তিতে কেমন করে থাকা যায়।”, “সে প্রতিদিন বলেছে বড় স্বপ্ন দেখাই ঠিক।”, রশ্মিকার কথায়, বিজয় তাঁকে বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন নিজের সামর্থ্যে। তিনি বুঝিয়েছেন নিজের কল্পনার সীমার বাইরেও অর্জনের সম্ভাবনা থাকে।
বন্ধুত্বের দর্শন (Rashmika Mandanna)
রশ্মিকার পোস্টের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর উপলব্ধি। তিনি লেখেন, “এই মানুষটি আমাকে কখনও এমনভাবে নাচতে বাধা দেয়নি যেন কেউ দেখছেই না…” এই বাক্যে যেন ফুটে ওঠে এক মুক্ত সম্পর্কের ছবি যেখানে নিয়ন্ত্রণ নয়, আছে আস্থা; বাঁধন নয়, আছে সমর্থন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিজয় তাঁকে বুঝিয়েছেন বন্ধুত্বের গুরুত্ব বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোই নাকি জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা। প্রেমের সম্পর্কে বন্ধুত্বের এই উপাদানই সম্ভবত তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
‘আমি সেই নারী হতে পেরেছি…’ (Rashmika Mandanna)
রশ্মিকার কথায় সবচেয়ে গভীর যে উপলব্ধি ফুটে উঠেছে তা হল আত্ম-পরিবর্তনের। তিনি লিখেছেন “আমি সেই নারী হতে পেরেছি যা আমি সব সময় হতে চেয়েছি। আমি সত্যিই আশীর্বাদধন্য।” এই বাক্য যেন শুধু এক নববধূর আবেগ নয়, বরং একজন নারীর আত্ম-আবিষ্কারের কাহিনি। দাম্পত্য যদি মানুষের ভেতরের সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করে, তবে সেই সম্পর্কই সত্যিকারের সমৃদ্ধ।
আরও পড়ুন: Sikandar Raza: রোহিতকে টপকে রাজাই ‘সিকান্দার’
তারকা জুটির নতুন অধ্যায়
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে বহুদিন ধরেই বিজয় ও রশ্মিকার রসায়ন নিয়ে চর্চা ছিল। একসঙ্গে কাজ, পরস্পরের প্রতি সম্মান ও বন্ধুত্ব সব মিলিয়ে তাঁদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হয়েছে। এবার সেই সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল। রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হল তাঁদের জীবনের নতুন অধ্যায়।



