Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্বরাজনীতি সব ক্ষেত্রেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন (Ali KhameneiIran)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনেইয়ের নাম সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে তবে কি ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর যে কৌশল দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা অনুসরণ করে এসেছে, তা কার্যত ব্যর্থ হল?

আকস্মিক আঘাত না পরিকল্পিত বার্তা? (Ali KhameneiIran)
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী (Ali KhameneiIran), মার্কিন-ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেহরানে নিজ দপ্তরে কাজ করার সময় শহিদ হন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের উপগ্রহচিত্রে তাঁর দপ্তরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ দাবি করেন, “ইতিহাসের পাতায় সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তি খামেনেই। তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।” এই ভাষ্য শুধু একটি সামরিক ঘটনার বর্ণনা নয় বরং একটি রাজনৈতিক বার্তাও। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে এসেছে। এই মৃত্যু কি সেই কৌশলের চূড়ান্ত অধ্যায়? নাকি এর ফল উল্টো হতে পারে?
বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার? (Ali KhameneiIran)
খামেনেইয়ের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেইকে পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে বেছে নেওয়ার খবর সামনে আসে। ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সুপ্রিম লিডার নির্বাচন করে বিশেষজ্ঞদের পরিষদ (বিশেষজ্ঞদের সমাবেশ)। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকেই বোঝা যায় রাষ্ট্রযন্ত্র পূর্বপ্রস্তুত ছিল। এখানেই বড় প্রশ্ন ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কি তবে একপ্রকার বংশানুক্রমিক ধর্মতন্ত্রে রূপ নিচ্ছে? ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর রুহুল্লাহ খোমেনি-এর হাত ধরে যে তাত্ত্বিক কাঠামো দাঁড়ায়, তার মূল ভিত্তি ছিল ‘ভেলায়েত-এ-ফকিহ’ অর্থাৎ সর্বোচ্চ ধর্মীয় অভিভাবকত্ব। কিন্তু সেই ধারণা কখনও প্রকাশ্যে পারিবারিক উত্তরাধিকারের কথা বলেনি। মোজতবা খামেনেই দীর্ঘদিন ধরেই পর্দার আড়ালে প্রভাবশালী বলে পরিচিত। বিশেষ করে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) -এর একটি অংশের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত। ফলে তাঁর দ্রুত উত্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে ক্ষমতার কেন্দ্রীয় কাঠামো অক্ষত রয়েছে।

‘রেজিম চেঞ্জ’ কৌশল (Ali KhameneiIran)
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ‘রেজিম চেঞ্জ’ নতুন নয়। Iraq-এ সাদ্দাম হুসেনের পতন থেকে শুরু করে লিবিয়া -য় মুয়াম্মার গদ্দাফির পরিণতি উদাহরণ একাধিক। কিন্তু প্রতিবারই প্রশ্ন উঠেছে, শাসক অপসারণের পর স্থিতিশীলতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ, ইরানের প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামো অত্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও সুসংগঠিত। বিপ্লব-পরবর্তী আদর্শগত ঐক্য এখনও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েনি। বহিরাগত আক্রমণ প্রায়শই অভ্যন্তরীণ বিরোধ মুছে দিয়ে জাতীয়তাবাদকে জোরদার করে। গত বছরের শেষ থেকে ইরানে মোল্লাতন্ত্রবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ পথে নেমে খামেনেইয়ের অপসারণ দাবি করেছিলেন। সেই আন্দোলনে ট্রাম্পের সমর্থন ছিল প্রকাশ্য। কিন্তু বহিরাগত সামরিক হামলা পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারে। ইতিহাস বলছে, বিদেশি আঘাত অনেক সময় অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাকে দুর্বল করে শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে জনমত ঘুরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্য কি আরও অগ্নিগর্ভ? (Ali KhameneiIran)
শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরান কুয়েত, বাহারিন ও আরব আমিরশাহীতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে পাল্টা আঘাত হেনেছে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। ইসরায়েল-ইরান সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই পরোক্ষ যুদ্ধে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আঞ্চলিক সংঘাতকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ দিতে পারে। উপসাগরীয় তেলপথ, হরমুজ প্রণালী সবকিছুই ঝুঁকির মুখে।

পতন না পুনর্গঠন? (Ali KhameneiIran)
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কি এবার ভেঙে পড়বে? সম্ভাব্য তিনটি দৃশ্যপট সামনে আসতে পারে—
১. কঠোরতর শাসন
মোজতবা খামেনেই ক্ষমতায় এসে বিরোধিতাকে আরও দমন করতে পারেন। সামরিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে ‘শহিদ’ বয়ানের মাধ্যমে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা হতে পারে।
আরও পড়ুন: Andhra Pradesh: আতসবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আগুনে পুড়লো গ্রাম
২. অভ্যন্তরীণ বিভাজন (Ali KhameneiIran)
যদি বিশেষজ্ঞ পরিষদের মধ্যে বা IRGC-র ভেতরে মতভেদ তৈরি হয়, তাহলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র হতে পারে। এতে শাসনব্যবস্থা দুর্বল হবে।
৩. ধীরে পরিবর্তন
চরম উত্তেজনার মধ্যেও যদি আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ দাবি একত্রিত হয়, তবে হয়তো সীমিত সংস্কারের পথ খুলতে পারে।



