Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইরানের আবশ্যক রাজনৈতিক পরিবর্তন ১৯৭০ দশকের শেষের দিকে তীব্র গতিতে আসে (Iran-Israel Conflict)। তখন দেশটি ছিল শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি-র নেতৃত্বে একটি পশ্চিম-সমর্থিত রাজতন্ত্র। জনপ্রিয় অসন্তোষ, সমাজের নানা স্তর থেকে বিশাল প্রতিবাদে ইতোমধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। এই উত্তেজনার এক প্রধান নায়ক ছিলেন রুহুল্লাহ খোমেনি একজন শিয়া ধর্মীয় পণ্ডিত ও নেতা, যিনি ধার্মিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শকে এক করে বিপ্লবের ডাক দেন। তাঁর নেতৃত্বে বিপ্লবী আন্দোলন তীব্র হয় এবং অবশেষে ১৯৭৯ সালে ইরান থেকে রাজতন্ত্র পতিত হয়ে যায়। বিপ্লবের পর দেশটি একটি ইসলামিক ধর্মতান্ত্রিক (মোল্লাতান্ত্রিক) রাষ্ট্র হিসেবে পুনর্ঘঠন করা হয়, যেখানে ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান অবস্থান স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিপ্লবের ফলে ইরানের রাজনীতি, সমাজ, সংবিধান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সকল ক্ষেত্রেই মৌলিক পরিবর্তন আসে; ইসলামী আইন ও ধর্মীয় নীতিমালার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের কাঠামো নির্মিত হয়।

খোমেইনির ভারতীয় শিকড় (Iran-Israel Conflict)
রুহোল্লাহ খোমেইনির পূর্বপুরুষদের বংশযাত্রা নিয়ে ইতিহাসবিদদের কিছু গবেষণা থেকে জানা যায়, তাঁর বংশ ভারতের উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছে (Iran-Israel Conflict) । তাঁর পূর্বপুরুষ সৈয়দ আহমেদ মুসাবি প্রায় ১৮০০ সালের দিকে বারাবাঁকির কিণ্তুর গ্রামে জন্মেছিলেন। ধর্মীয় শিক্ষা ও গভীর আধ্যাত্মিক অন্বেষায় তিনি ইসলাম মর্ম বুঝতে ইরাক যান এবং পরে ১৯৩৪ সালে ইরানের খোমেইন শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান শুরু করেন। ভারতীয় পরিচয় ভুলে গিয়েও তিনি নিজের নামের পাশে “হিন্দি” উপাধি বজায় রাখতেন। তাঁর সন্তান ও নাতির মধ্যে আবির্ভূত হন রুহোল্লাহ খোমেইনি, যিনি পরবর্তী সময়ে ইরানি বিপ্লবের প্রধান মুখ ও ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিত হন। এই ইতিহাস ইরানি ইসলামী বিপ্লবের সঙ্গে ভারতের অজানা একটি সংযোগ স্থাপন করে যা প্রায় ভুলে যাওয়া হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য।
খোমেইনির নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব (Iran-Israel Conflict)
খোমেইনি শুধু ধর্মীয় গুরুই ছিলেন না; তিনি রাজনীতি ও সমাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী দিকনির্দেশক বলেও আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য ও তত্ত্ব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বিরাট প্রভাব ফেলে। ইরানকে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করা ছিল না তিনি চেয়েছিলেন এটি একটি “ধর্মীয় ন্যাটোওয়ার্ল্ড” হিসেবে ইসলামী আদর্শ দেশগুলোর এক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হোক। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা এখন আর রাজতন্ত্রের হাতে নেই; বরং ধর্মীয় নেতারা বিশেষ করে খোমেইনি এবং পরে তাঁর উত্তরসূরি আলি খামেনেই ইসলামী প্রিন্সিপালিটি বা মোল্লাতন্ত্র চালু করেন।

আরও পড়ুন: US Iran: ইরানে সামরিক অভিযান আমেরিকার, আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ইরানের বর্তমান সুপ্রিম লিডার আলি খামেনেই কে নিয়ে একটি বড় ভূমিকাশালী ঘটনার খবর সামনে এসেছে।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের মতে, তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আক্রমণের পর মৃত্যু হয়েছে, এবং ইরান ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে যা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে একটি বড় পালাবদলের সূচনা করতে পারে। এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়; এটি ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের স্থানান্তরকেও নির্দেশ করে, যেখানে কন্যা-সহ পারিবারিক সম্পর্ক বা উত্তরসূরিদের রাজনৈতিক ভূমিকা আবার প্রশ্নে পড়েছে ঠিক যেমন ১৯৭৯ সালে বিপ্লবের পরে হয়েছিল।



