Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এক অদ্ভুত ও ভয়াবহ পরিবেশগত ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে ইরান (Black Rain In Iran)। দেশটির রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন এলাকায় নেমে এসেছে তথাকথিত ‘ব্ল্যাক রেন’ বা কালো বৃষ্টি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বৃষ্টির ফোঁটাগুলি সাধারণ জলের মতো স্বচ্ছ নয়; বরং তাতে মিশে রয়েছে কালচে তেলজাত পদার্থ। ফলে বৃষ্টির ফোঁটা হাতে পড়লে তা চটচটে অনুভূত হচ্ছে এবং বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দূষণ। যুদ্ধের আতঙ্কের মধ্যেই এই অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

তৈলক্ষেত্রে হামলার পরিণতি (Black Rain In Iran)
ইরানের বিশাল তেলসম্পদ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক সংঘাতে অভিযোগ উঠেছে যে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-র নেতৃত্বাধীন ইজরায়েল এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নেতৃত্বাধীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর সামরিক বাহিনী ইরানের বিভিন্ন তেলভাণ্ডার ও তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে বহু তেলক্ষেত্রে আগুন লেগে যায় এবং আকাশে ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমানের ধারাবাহিক হামলার ফলে পরিবেশে জমতে থাকে বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া, কার্বন ও রাসায়নিক কণা। এই দূষিত কণাগুলি বায়ুমণ্ডলে জমে থেকে পরে বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে কালো বৃষ্টির রূপ নিয়ে মাটিতে নেমে আসে।
কীভাবে তৈরি হয় ‘ব্ল্যাক রেন’? (Black Rain In Iran)
‘ব্ল্যাক রেন’ মূলত একটি পরিবেশগত ঘটনা। সাধারণত বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ দূষিত কণা জমে গেলে এবং সেই সময় বৃষ্টি হলে এই ধরনের বৃষ্টি দেখা যায়। বাতাসে উপস্থিত ধোঁয়া, ছাই, তেলজাত কণা বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে মিশে মাটিতে পড়ে। তখন বৃষ্টির রং হয়ে যায় ধূসর বা কালো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বৃষ্টি কয়েকটি পরিস্থিতিতে দেখা দিতে পারে, বড় আকারের তেলক্ষেত্র বা শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ড হলে, ব্যাপক বায়ুদূষণ তৈরি হলে, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ছাই বাতাসে ছড়ালে, বৃহৎ দাবানলের সময়, এই সব ক্ষেত্রে বাতাসে মিশে যায় অত্যন্ত সূক্ষ্ম কণা। এই কণাগুলির আকার এতটাই ছোট যে মানুষের মাথার একটি চুলের প্রস্থের তুলনায় প্রায় চল্লিশ গুণ ছোট হতে পারে।

বিষাক্ত রাসায়নিকের মিশ্রণ (Black Rain In Iran)
কালো বৃষ্টির ফোঁটার মধ্যে শুধু ধোঁয়া বা ছাই নয়, অনেক সময় বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকও থাকে। যেমন, সালফার যৌগ, নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন কণা, তেলজাত পদার্থ, অন্যান্য বিষাক্ত রাসায়নিক, এই সব পদার্থ বৃষ্টির জলের সঙ্গে মিশে সরাসরি মাটিতে পড়ে এবং পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের শরীরের উপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি (Black Rain In Iran)
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ব্ল্যাক রেন’ মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই বৃষ্টির মধ্যে থাকা বিষাক্ত কণাগুলি শ্বাসের মাধ্যমে সরাসরি ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে, শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও পানি পড়া, ত্বকের বিভিন্ন রোগ, ফুসফুসের ক্ষতি, হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের দূষণের মধ্যে থাকলে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা (Black Rain In Iran)
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার মতে, ‘ব্ল্যাক রেন’ বা অ্যাসিড রেন জনবসতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। প্রধানত শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এই ধরনের দূষিত বৃষ্টি। এছাড়া কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপকভি. ফে ম্যাকনিল-ও সতর্ক করে বলেছেন, বাতাসে মিশে থাকা বিষাক্ত কণাগুলি মানুষের ফুসফুসে জমে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: Rail Death AI: রেললাইনে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু রোধ, AI ব্যবহারের সিদ্ধান্ত রেলমন্ত্রকের
কতদিন স্থায়ী হতে পারে এই পরিস্থিতি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ব্ল্যাক রেন’ কতদিন চলবে তা নির্ভর করে দূষণের উৎস কতদিন সক্রিয় থাকে তার উপর। যদি তেলক্ষেত্র বা তেল শোধনাগার দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকে, তাহলে কয়েক মাস পর্যন্ত এই ধরনের দূষণ বজায় থাকতে পারে। অন্যদিকে দাবানলের মতো ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণত তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।



