Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রতি বছর আয়ারল্যান্ডে ভ্রমণে আসা লাখো পর্যটক একটি অদ্ভুত কিন্তু বিখ্যাত রীতিতে অংশ নেনএকটি পুরোনো চুনাপাথরের টুকরোয় চুমু খাওয়া। প্রথমে বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন একটি কিংবদন্তি। এই পাথরটির নাম ব্লার্নি স্টোন (Blarney Stone)।
কৌতূহলী পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র (Blarney Stone)
কর্ক শহরের কাছে অবস্থিত ব্লার্নি ক্যাসলের উঁচু প্রাচীরের মধ্যে বসানো আছে এই পাথরটি। বহু প্রজন্ম ধরে এটি কৌতূহলী পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে রয়েছে। লোককথা অনুযায়ী, যে কেউ এই পাথরে চুমু খেলে সে পায় “গিফট অব দ্য গ্যাব”—অর্থাৎ সুন্দর ও প্রভাবশালীভাবে কথা বলার বিশেষ ক্ষমতা। বলা হয়, এই ঐতিহ্যের শুরু কয়েকশ বছর আগে।
ব্লার্নি ক্যাসলের গল্প
একটি জনপ্রিয় কাহিনি বলছে, ১৫শ শতকের শাসক কর্মাক ম্যাককার্থি ব্লার্নি ক্যাসল নির্মাণ করেন। কিংবদন্তি অনুযায়ী, এক যুদ্ধে স্কটল্যান্ডের রাজাকে সাহায্য করার পর তিনি এই পাথরটি উপহার পান। আরেকটি গল্পে বলা হয়, এই পাথরের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের ঐতিহাসিক স্টোন অব স্কোন–এর সম্পর্ক থাকতে পারে, যা একসময় স্কটিশ রাজাদের অভিষেকে ব্যবহৃত হতো।
চুমু খাওয়া মোটেও সহজ নয়
তবে এই পাথরে চুমু খাওয়া মোটেও সহজ নয়। ব্লার্নি স্টোনটি ক্যাসলের উঁচু দেয়ালের কিনারায় বসানো, মাটি থেকে কয়েক মিটার ওপরে। সেখানে পৌঁছাতে পর্যটকদের প্রথমে টাওয়ারের চূড়ায় উঠতে হয়।

উল্টো হয়ে চুমু (Blarney Stone)
এরপর লোহার রেলিং ধরে পিছনের দিকে ঝুঁকে প্রায় উল্টো হয়ে পাথরটিতে চুমু দিতে হয়। নিরাপত্তার জন্য কর্মীরা পাশে থাকেন, কিন্তু এই অদ্ভুত ভঙ্গি অনেক পর্যটককে প্রথমবারেই চমকে দেয়।
আরও পড়ুন: CM Rally: ভোট ঘোষণার পরের দিনই পথে মমতা, কড়া চ্যালেঞ্জ তৃণমূল সুপ্রিমোর
আয়ারল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র (Blarney Stone)
আজ ব্লার্নি ক্যাসল আয়ারল্যান্ডের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। অনেকেই শুধু পাথরে চুমু খেতেই নয়, বরং ক্যাসলের সুন্দর বাগান, প্রাচীন স্থাপত্য ও আশপাশের মনোরম প্রকৃতি উপভোগ করতেও এখানে আসেন। অনেক ভ্রমণকারীর কাছে এটি কেবল একটি কুসংস্কার নয়, বরং আয়ারল্যান্ড সফরের একটি স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।



