Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: রাজগঞ্জের দীর্ঘদিনের বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের কান্না কি তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ হতেই রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে আড়াআড়ি বিভক্ত হয়ে গেল ঘাসফুল শিবির। চারবারের জয়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে (Khageswar Roy) প্রার্থী না করে এবার সেখানে অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে প্রার্থী করেছে দল।

তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা খগেশ্বরের (Khageswar Roy)
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল জলপাইগুড়ি (Khageswar Roy) । টিকিট না পেয়ে একদিকে যেমন সংবাদমাধ্যমের সামনে ডুকরে কেঁদে উঠলেন খগেশ্বর বাবু, অন্যদিকে তেমনই জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দলের বিরুদ্ধে ‘টাকার খেলা’র গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিনি।
আরও পড়ুন: Writam Ghosal: ‘মা তারার কোলে ভালো থাকিস’, প্রয়াত ‘সাধক বামাখ্যাপা’র লেখক ঋতম ঘোষাল
এদিন রাজগঞ্জে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রবীণ এই জননেতা। তিনি অভিযোগ করেন, “আমি চারবার জিতেছি, মানুষের সেবা করেছি। কিন্তু আজ আমি টাকার কাছে হেরে গেলাম। নিশ্চিতভাবে কেউ বিপুল টাকা দিয়েছে বলেই টিকিট পেয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, রাজগঞ্জের সাধারণ মানুষ এবং কর্মীরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না। অভিমানে এবং ক্ষোভে তিনি ইতিমধ্যেই জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। খগেশ্বর রায়ের আশঙ্কা, রাজগঞ্জে এবার তৃণমূলের হার নিশ্চিত।

স্বপ্না বর্মনকে ঘিরে বিক্ষোভ
দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজগঞ্জের রাস্তায় নেমেছেন কয়েক হাজার খগেশ্বর-অনুগামী। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, “বহিরাগত বা সেলিব্রিটি নয়, ঘরের ছেলে খগেশ্বর রায়কেই প্রার্থী চাই।” এদিন এলাকা জুড়ে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্বপ্না বর্মনকে তাঁরা প্রার্থী হিসেবে কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। কর্মীদের গণ-ইস্তফার হিড়িক শুরু হওয়ায় রাজগঞ্জ ব্লকে তৃণমূলের সংগঠন কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

আরও পড়ুন: Iman Chakraborty: ইমন সত্যিই রাজনীতিতে আসছেন, না কি সবটাই ছিল গুজব?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আস্থা রাখলেও স্থানীয় নেতৃত্বের ওপর বীতশ্রদ্ধ খগেশ্বর রায়। তিনি অন্য দলে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখলেও জানিয়েছেন, “কর্মীরা যা চাইবেন, আমি তাই করব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে খগেশ্বর রায়ের মতো প্রভাবশালী নেতাকে বসিয়ে দেওয়া তৃণমূলের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই ‘অন্তর্কলহ’ কীভাবে সামাল দেয় কালীঘাট, এখন সেটাই দেখার।



