Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন আর্থিক বছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে (Toll plazas)। ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে চলেছে ফাস্ট্যাগ সংক্রান্ত নতুন নিয়ম, যা একদিকে যেমন ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবে, অন্যদিকে তেমনই নতুন কিছু সমস্যার মুখেও ফেলতে পারে সাধারণ মানুষ ও পরিবহণ ব্যবস্থাকে।

ফাস্ট্যাগ বাধ্যতামূলক, নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ (Toll plazas)
আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাতীয় সড়কের সমস্ত টোল প্লাজায় নগদ লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, টোল দেওয়ার একমাত্র মাধ্যম হবে ফাস্ট্যাগ বা ডিজিটাল পেমেন্ট (যেমন UPI)। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য, টোল প্লাজায় যানজট কমানো, দ্রুত যান চলাচল নিশ্চিত করা, ডিজিটাল লেনদেনকে উৎসাহ দেওয়া, তবে বাস্তব ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত যে সহজে কার্যকর হবে না, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট।
ব্যক্তিগত গাড়ির বার্ষিক পাসে বাড়তি খরচ (Toll plazas)
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিগত চার চাকার গাড়ির জন্য বার্ষিক ফাস্ট্যাগ পাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে, আগে: ৩০০০ টাকা, এখন: ৩০৭৫ টাকা, যদিও এই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম, তবুও নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য এটি একটি অতিরিক্ত চাপ হিসেবেই দেখা দিচ্ছে।

বাসচালক ও মালিকদের সামনে বড় সংকট (Toll plazas)
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে চলেছেন রুট বাসের চালক ও মালিকরা। তাদের প্রধান সমস্যাগুলি— আগে চালকরা সকালে একবার নগদে টোল দিয়ে সারাদিনের পাস নিতেন, এখন নগদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সুবিধা থাকবে না, অনেক চালক এখনও ফাস্ট্যাগ বা UPI ব্যবহারে দক্ষ নন, ডিজিটাল পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ (প্রায় ১.২৫%) যুক্ত হচ্ছে, ফলে বাস মালিকদের মতে, এই নতুন নিয়ম তাদের খরচ অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।
পরিবহণ পরিষেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি (Toll plazas)
ওয়েস্ট বেঙ্গল বাস-মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ বোস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন— “নগদ লেনদেন বন্ধ হলে আমাদের কাছে রুট বাস পরিষেবা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।”, এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়বেন সাধারণ যাত্রীরা, বিশেষ করে যারা প্রতিদিন বাসের উপর নির্ভরশীল।

সংগঠনের দাবি—সমাধানের পথ কী? (Toll plazas)
বাস মালিক সংগঠন জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে, প্রধান দাবিগুলি রুট বাসকে ছাড়প্রাপ্ত শ্রেণিতে রাখা, আপাতত নগদ লেনদেন চালু রাখা, টোল ফি বৃদ্ধি না করা, টোল প্লাজায় বাসের জন্য আলাদা লেন, সার্ভিস রোডে ট্রাক পার্কিং বন্ধ, ধীরগতির যান (অটো, টোটো, ভ্যান) জাতীয় সড়কে নিষিদ্ধ করা
আরও পড়ুন: Humayun Kabir: বড় দলগুলোর মাঝে হুমায়ূনের ‘আম জনতা’, গেমচেঞ্জার হতে পারবে
ডিজিটাল অগ্রগতি নাকি বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি?
সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে— প্রয়োগের আগে কি যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে? গ্রামাঞ্চল বা ছোট শহরের অনেক চালক এখনও ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত নন। ফলে হঠাৎ করে নগদ বন্ধ হয়ে গেলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।



