Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারী বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে (Sikkim Land Slide) সিকিম-এর উত্তরাংশ। টানা বৃষ্টির জেরে উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকায় একাধিক স্থানে ভূমিধস নামায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে গ্যাংটক থেকে লাচেন এবং চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার প্রধান সড়কগুলিতে ধস নামায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে বহু পর্যটক মাঝপথেই আটকে পড়েছেন, তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি।
আটকে পর্যটকরা (Sikkim Land Slide)
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, লাচেনগামী (Sikkim Land Slide) পর্যটকদের বড় একটি অংশ বর্তমানে চুংথাং এলাকায় আটকে রয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে রাস্তার বিভিন্ন অংশে ধস নামার কারণে গাড়ি এগোনো তো দূরের কথা, অনেক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলিও সরানো যাচ্ছে না। শতাধিক পর্যটক সেখানে আটকে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক অনন্ত জৈন। তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূল না হওয়ায় উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জোরকদমে কাজ চলছে।

নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা (Sikkim Land Slide)
আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা ও প্রাথমিক চাহিদা (Sikkim Land Slide) পূরণের জন্য ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইটিবিপি-র শিবির এবং স্থানীয় গুরুদ্বারগুলিতে তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে খাবার, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিষেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। পর্যটকদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে।

ধস নামার খবর (Sikkim Land Slide)
এদিকে, লাচুং যাওয়ার পথেও ধস নামার (Sikkim Land Slide) খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় সেই রাস্তা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করা হয়েছে। ফলে লাচুংয়ে আটকে থাকা পর্যটকেরা ধীরে ধীরে গ্যাংটকের দিকে ফিরতে শুরু করেছেন। যদিও আবহাওয়ার অবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লাচেনের পথে যাতায়াত চালু করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে জেলা প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। আবহাওয়ার উন্নতি হলেই দ্রুত ধস সরিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির কারণে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ২৭ মার্চ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ২৮ এবং ২৯ মার্চ ওই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: Sonia Gandhi: অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী, ভর্তি হাসপাতালে!
এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের আগে আবহাওয়ার আপডেট নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উত্তর সিকিমে পর্যটন কার্যত অনিরাপদ।
সামগ্রিকভাবে, টানা বৃষ্টি ও ভূমিধসের জেরে উত্তর সিকিমের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও আবহাওয়ার উন্নতির উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার গতি।


