Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে হঠাৎ করেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর সম্পর্ক (Donald Trump)। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং আঞ্চলিক শক্তির সংঘাতে জর্জরিত এই দুই দেশের মধ্যে আপাতত এক মাসের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট (Donald Trump)
গত কয়েক বছরে আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগ এবং তার জেরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা সামনে আসা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম The New York Times-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এক মাসের জন্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে, যার মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা হবে। এই সময়কালকে “কূটনৈতিক জানালা” বলেও ব্যাখ্যা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চাপ ও আলোচনার সমান্তরাল পথ (Donald Trump)
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বারবার দাবি করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চলছে এবং যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে তেহরান আগ্রহী। তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন আশাবাদী সুর রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বরাবরই “maximum pressure” কৌশলের উপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামরিক হুমকির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা। বর্তমান প্রস্তাব সেই নীতিরই একটি পরিণত রূপ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কঠোর শর্তের কাঠামো (Donald Trump)
ইজ়রায়েলের সংবাদমাধ্যম Channel 12-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি বিস্তৃত প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হল ইরানের পারমাণবিক এবং সামরিক সক্ষমতাকে সীমিত করা। প্রস্তাবের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি হল, ইরানের সমস্ত পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা IAEA-এর হাতে তুলে দেওয়া, নাতানজ়, ফোরডো এবং ইসফাহানের মতো পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা, এর পাশাপাশি সামরিক ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের কথা বলা হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলিকে অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা এবং শুধুমাত্র আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি ব্যবহার করার অনুমতি রাখা।
বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু (Donald Trump)
প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল হরমুজ় প্রণালী সর্বদা উন্মুক্ত রাখার শর্ত। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল পরিবহণ হয়। ফলে এর উপর নিয়ন্ত্রণ মানেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার। আমেরিকা চাইছে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কোনওরকম সামরিক উত্তেজনা বা অবরোধ সৃষ্টি না হোক, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকে।
প্রস্তাবের নরম দিক (Donald Trump)
কেবলমাত্র কঠোর শর্তই নয়, প্রস্তাবে কিছু ইতিবাচক দিকও রাখা হয়েছে। যদি ইরান এই শর্তগুলি মেনে নেয়, তবে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, বিশ্ববাজারে ইরানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেতে পারে এই দিকগুলি ইরানকে আলোচনায় রাজি করানোর একটি কৌশল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ (Donald Trump)
এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে পাকিস্তান। প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, তাঁর দেশ মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত। এছাড়া মার্কিন প্রতিনিধি Steve Witkoff এবং Jared Kushner এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের এই ভূমিকা দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক গুরুত্বকেও নতুন করে তুলে ধরছে।
আরও পড়ুন: Meteorit Explosion: উড়ন্ত অবস্থাতেই বিস্ফোরণ, উল্কার বিস্ফোরণে তোলপাড় আকাশ!
ইজ়রায়েলের উদ্বেগ ও আঞ্চলিক রাজনীতি
ইজ়রায়েল এই প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কিছু শর্ত ইরানকে কৌশলগতভাবে সুবিধা দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইজ়রায়েল একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, ফলে তাদের প্রতিক্রিয়া এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে। ইরানের তরফে এই প্রস্তাবকে সরাসরি সমর্থন করা হয়নি। বরং সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিন জ়োলফাগারি কটাক্ষ করে বলেছেন, আমেরিকা নিজের শর্ত চাপিয়ে দিয়ে একতরফা চুক্তি করতে চাইছে।



