Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অপ্রতিরোধ্য SRH এবার ওয়াংখেড়েতে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে উড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নিল (SRH beat MI)।
মুম্বইয়ের লজ্জার হার (SRH beat MI)
এক রাজ্যের রাজা ছিলেন পরাক্রমশালী এবং বুদ্ধিমান। প্রতিবার যখন যুদ্ধে যেতেন বিপক্ষের দুর্বলতা এবং শক্তি, দুইয়ের খোঁজ রাখতেন। সেই মত রণনীতি সাজিয়ে নিজের সৈন্যদের ব্যবহার করতেন এবং জয় ছিনিয়ে আনতেন। শুধু সৈন্যদল নয় নিজেও সেই যুদ্ধে সমান অবদান রাখতেন (SRH beat MI)।
ধীরে ধীরে তাঁর সময়কাল পশ্চিমে ঢলে যেতে লাগল। সেই সময় রাজসভার সদস্যরা ভাবলেন নতুন রাজার কথা। অবশেষে তাঁরা নতুন রাজার অভিষেক করালেন। আগের রাজা অসুস্থ হওয়ায় হাফ ছেড়ে বাঁচলেন সেই সদস্যরা যে প্রাক্তন এবং বর্তমানের সংঘাত এড়ানো গেল। কিন্তু নতুন রাজার আমলে একের পর এক যুদ্ধে হার। রাজ্যবাসি যখন প্রতীক্ষায় আছে আগের রাজার সেই সময় রাজসভার সদস্যরা চুপ। একদিকে হারের জ্বালা অন্যদিকে প্রাক্তন রাজার অসুস্থতা। না এটা রূপকথার গল্প না, চলতি আইপিএল-এ মুম্বই দলের অবস্থা।
আইপিএল ২০২৬-এ মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের দুর্দশা আর কাটার নাম নিচ্ছে না। এক ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থ, তো অন্য ম্যাচে বোলিং মুখ থুবড়ে পড়ছে আর এই দুইয়ের ফাঁদে পড়েছে হার্দিক পান্ডিয়ার দল। বুধবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ২৪৩ রান তুলেও ৬ উইকেটে হেরে বসে মুম্বই আর এরপর আবারও সমালোচনার মুখে হার্দিক পান্ডিয়া, সূর্যকুমার যাদবরা।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুরন্ত শুরুটা করে মুম্বই। ওপেনিং জুটিতে উইল ও রায়ান রিকলটন রান মেশিনের মত রান তুলতে থাকেন। জ্যাকস ৪৬ রানে ফিরলেও রিকলটন অন্যপ্রান্তে বিধ্বংসী খেলতে থাকেন। মাত্র ৫৫ বল খেলে ১২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ১০টি চার এবং ৮টি ছয় দিয়ে। ৪৪ বলে সেঞ্চুরি করে মুম্বইয়ের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির নজিরও গড়েন তিনি (SRH beat MI)।

সূর্যকুমার যাদব এই দিনও ব্যর্থ হন। শেষ দিকে যদিও অধিনায়ক হার্দিক ১৫ বলে ৩১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। যার সুবাদে মুম্বই ৪ উইকেটে ২৪৩ রান তোলে।
হায়দরাবাদ ২৪৪ রান তাড়া করতে নেমে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শুরু করে। অভিষেক শর্মা এবং ট্র্যাভিস হেড মাত্র ৮. ৪ ওভারে স্কোর বোর্ডে ১২৯ রান তুলে দেন। অভিষেক শর্মা ২৪ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে আউট হলেও হেড খেলা চালিয়ে যান। তিনি ৩০ বলে ৭৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন।
এই দুই ওপেনার আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে যায় SRH কিন্তু সেই চাপ কাজে লাগাতে পারেনি মুম্বইয়ের বোলিং ইউনিট। সেখান থেকে হেনরিখ ক্লাসেন ও নীতীশ কুমার রেড্ডির জুটি আবার ম্যাচ আবার নিয়ে আসেন SRH-এর পক্ষে। ক্লাসেনের ৩০ বলে ৬৫ রানের ইনিংস ম্যাচের ছবি পুরো পাল্টে দেয়। শেষে সলিল অরোরার ১০ বলে ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ১৮.৪ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় হায়দরাবাদ এবং আবারও হারের মুখ দেখে মুম্বই।
আরও পড়ুন: Sourav Ganguly: সন্ধে হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে: সস্ত্রীক ভোট দিলেন সৌরভ!
এই হারের কৃতিত্ব সম্পূর্ণ মুম্বইয়ের বোলিংয়ের। আল্লা ঘজনফর ২ উইকেট নিলেও বাকি বোলাররা যে পরিমান খরুচে ছিল তাতে ২৫০ রানও কম পড়ে যেত বোধহয়। জশপ্রীত বুমরা ৪ ওভারে ৫৪ রান দিয়েও উইকেট নিতে পারেননি। ট্রেন্ট বোল্ট, হার্দিক কেউই চাপ তৈরি করতে পারেননি। এই হারের পর প্লে-অফের আশা প্রায় শেষ। পাঁচবারের আইপিএল জয়ী দলের এমন করুণ অবস্থা সমর্থকরা মেনে নিতে পারছেন না। তবে শুধু সমর্থক কেন ডাগ-আউটে বসে থাকা রোহিত শর্মার চোখেমুখেও হতাশা এবং বিরক্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট। এখন সমর্থকরা তাকিয়ে পুরনো রাজার প্রত্যাবর্তনে দলের হাল ফেরে কিনা সেই দিকে (SRH beat MI)।


