Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি যখন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে কোহিনূর হীরাকে আলোচনার কেন্দ্রে আনেন, তখন তা নিছক হালকা মন্তব্য নয় এর পিছনে গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত থাকতে পারে(Mamdani Kohinoor)। এমন এক সময়ে, যখন রাজা ৯/১১ হামলার শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন, তখন এই প্রসঙ্গ তোলা অনেকের কাছেই অপ্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়েছে।
কোহিনূর ফেরতের দাবি দীর্ঘদিনের (Mamdani Kohinoor)
কোহিনূর দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের পক্ষ থেকে ফেরত চাওয়া একটি প্রতীকী সম্পদ, তবে এটি কখনোই জরুরি কূটনৈতিক অগ্রাধিকার পায়নি। ফলে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিকের হঠাৎ এই ইস্যু তোলা প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষত, অধিকাংশ আমেরিকানের কাছেই কোহিনূরের ইতিহাস বা বিতর্কিত উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই।
কোহিনূর ঘিরে একাধিক বিতর্ক
ঐতিহাসিকভাবে, ১৮৪৬-৪৯ সালের একাধিক চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশরা শিখ সাম্রাজ্য দখল করে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক মহারাজা দিলীপ সিংয়ের কাছ থেকে কোহিনূর ছিনিয়ে নেয়। একই প্রক্রিয়ায় কাশ্মীরও ডোগরা শাসকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ফলে কোহিনূর ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন উঠলে সেই চুক্তিগুলোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে যা কাশ্মীরের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে জড়িয়ে ফেলে।
কোহিনূর ফেরানোর জোরাল পজক্ষেপ নেই (Mamdani Kohinoor)
ভারত স্বাধীনতার পর বহু ঐতিহাসিক নিদর্শন ফেরত আনতে সফল হয়েছে, যেমন চোলা ব্রোঞ্জ বা পিপরাহওয়ার বুদ্ধ অবশেষ। কিন্তু কোহিনূর ইস্যুতে তেমন জোরালো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং ব্রিটেনের কাছে ভারতের বৃহত্তর আর্থিক পাওনার বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয় বিশেষ করে দুই বিশ্বযুদ্ধে ভারতের বিপুল অবদানের প্রেক্ষিতে।
আরও পড়ুন: Indo Bangladesh: ভারত বাংলাদেশ ভিসা নিয়ে কোন পদক্ষেপের পথে বিদেশমন্ত্রক?
মামদানির মন্তব্যে বিতর্ক (Mamdani Kohinoor)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটেন চাইলে কোহিনূর ফেরত দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে পারে, কিন্তু সেটি ভারতের জন্য যথেষ্ট ক্ষতিপূরণ হবে না। শেষ পর্যন্ত, কোহিনূর ব্রিটিশ ‘ক্রাউন’-এর সম্পত্তি হওয়ায় রাজা নিজেও এ বিষয়ে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাই মামদানির এই মন্তব্য শুধুই প্রতীকী, নাকি এর পেছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে তা নিয়ে বিতর্ক চলছেই।



