Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
আদালতে তুলকালাম! সুজিত বসুর বিরুদ্ধে ২ কোটির আর্থিক লেনদেন ও নিয়োগ দুর্নীতির বিস্ফোরক দাবি ইডি-র আইনজীবীর, পাল্টা তোপ সুজিত বসুর আইনজীবীর ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক গ্রেফতারি’ এজলাসের ভেতরে ইডির আইনজীবী ও সুজিত বসুর আইনজীবীর মধ্যে তুমুল বাক-বিতণ্ডা, আর অন্যদিকে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার একের পর এক বিস্ফোরক দাবি (Sujit Bose)।

আদালতে তুলকালাম (Sujit Bose)
মামলা ছাড়ার হুঁশিয়ারি ইডি আইনজীবীর আদালতের এজলাসে তখন টানটান উত্তেজনা। ইডি-র আইনজীবী যখন নিজের বক্তব্য পেশ করতে উঠেছিলেন, তখনই সুজিত বসুর আইনজীবীর তরফ থেকে বারবার বাধা ও হস্তক্ষেপ আসতে থাকে। আর এতেই মারাত্মক ক্ষুব্ধ হন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ইডি আইনজীবী সাফ জানিয়ে দেন, “আমাকে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। স্যার, যদি এটাই আদালতের নিয়ম বা পদ্ধতি হয়, তবে আমি এই মামলা থেকেই নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি (Retiring from the matter)। আমি এই ধরণের প্র্যাকটিসে অভ্যস্ত নই।”
যদিও সুজিত বসুর আইনজীবী তৎক্ষণাৎ নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান, কিন্তু ইডি আইনজীবী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে তিনি আদালতে কোনো ভিত্তিহীন বা ফালতু বক্তব্য পেশ করছেন না।
সওয়াল-জবাব পর্ব (Sujit Bose)
ইডি আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী, অন্যদিকে সওয়াল জবাবে, ইডি-র আইনজীবীর বিস্ফোরক দাবি, এই ঘটনা ঘটার আগে, আদালতে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি জানান ইডি আইনজীবী। ইডি-র তরফে সুজিত বসুর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের আবেদন জানানো হয়। ইডি আইনজীবী আদালতে দাবি করেন।

ভয়াবহ মানি ট্রেইল (Sujit Bose)
এই মামলায় একাধিক বেআইনি লেনদেন হয়েছে। প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা গোপাল চন্দ্র পোদ্দার নামের এক ব্যক্তির কাছে গিয়েছে, যার কোম্পানিতে গোপাল এবং উত্তম সাহার নামে ৬৪% শেয়ার ছিল। এই পুরো দুর্নীতি থেকে স্বয়ং সুজিত বসু নিজে ২ কোটি টাকা লাভ করেছেন।
পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি (Sujit Bose)
অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল নথি এবং এক্সেল শিট ঘেঁটে দক্ষিণ দমদম পৌরসভার প্রায় ১৫০ জন প্রার্থীর অবৈধ নিয়োগে সুজিত বসুর সরাসরি যোগ মিলেছে। এই বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির টাকা ঠিক কোথায় কোথায় গেল, সেই ‘মানি ট্রেইল’ সম্পূর্ণভাবে উদঘাটন করা দরকার।
তদন্তে অসহযোগিতা (Sujit Bose)
জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেও তিনি পরিবারের বিপুল সম্পত্তি ও আয়ের উৎসের কোনো সদুত্তর না দিয়ে, নিজের দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানোর মরিয়া চেষ্টা করছেন। অভিযুক্ত বাইরে থাকলে প্রভাবশালী হওয়ায় তথ্যপ্রমাণ নষ্ট ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ দম দম পুরসভার চেয়ারম্যান নিতাই দত্ত, তাকে গত ১৪ই মে এবং ১৯শে মে পরপর দু’বার তলব করা সত্ত্বেও তিনি হাজিরা এড়াতে মেডিকেল সার্টিফিকেট জমা দিয়ে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। সুজিত বসুর সঙ্গে নিতাই দত্তের স্টেটমেন্ট verification-এর প্রয়োজন আছে।
পাল্টা তোপ আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরার
‘সিবিআই যেখানে চুপ, ইডির পদক্ষেপ কেন? তাহলে কি ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক গ্রেফতারি?’* ইডি-র এই সমস্ত মারাত্মক অভিযোগের জবাবে আদালতের শুনানিতে পাল্টা জোরালো দাবি করেন প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই পদক্ষেপকে তিনি তদন্তের নামে এক প্রকার “আইনি হেনস্থা ও জোরজুলুম” বলে দাবি করেন।

দাবি সুজিত বসু আইনজীবী (Sujit Bose)
“যে মামলার তদন্ত শেষ করে সিবিআই অলরেডি একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, সেই একই মামলায় ইডি কেন নতুন করে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে? একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেখানে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, সেখানে অন্য একটি Sister Agency কীভাবে পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা নাকচ করতে পারে? রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক গ্রেফতারি। “
ইডি আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী (Sujit Bose)
প্রতিহিংসামূলক গ্রেফতারিতত্ত্ব-কে* সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান, *”তদন্তকারী সংস্থা হাত গুটিয়ে বসে নেই, প্রতিনিয়ত তদন্ত এগিয়ে চলেছে। আর এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীনই এমন কিছু নতুন তথ্য বা সূত্র (Evolved/Come across something) আধিকারিকদের হাতে এসেছে, যা এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। আর সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। তদন্ত তো চলছিলই, তাহলে ঠিক এই সময়েই কেন গ্রেফতারি করবে ইডি..!” সুজিত বসুর আইনজীবীর এই ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’র তত্ত্বের জবাবে আদালতে বিস্ফোরক যুক্তি দিল ইডি আইনজীবী।

সুজিত বসুর আইনজীবী (Sujit Bose)
এইদিকে সুজিত বসুর আইনজীবী আরও বলেন , “হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৩ সালের ২২শে এপ্রিল সিবিআই এই মামলায় ১২০বি, ৪২০, ৪৬৭ সহ পিসি অ্যাক্ট (PC Act)-এর একাধিক ধারায় এফআইআর (R.C. 5) দায়ের করেছিল। সিবিআই যেখানে নতুন করে কোনো অতিরিক্ত তদন্তের আবেদন জানায়নি বা কোনো নতুন তথ্য পায়নি, সেখানে ইডি কেন জোরপূর্বক এই মামলায় নিজেদের জড়িয়ে গ্রেফতারি বা রিমান্ডের আবেদন জানাচ্ছে?
আরও পড়ুন: RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে ফের বড় পদক্ষেপ! ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন সিট গঠন
জামিনের আবেদন
দুই পক্ষের এই তীব্র আইনি লড়াইয়ের মাঝেই সুজিত বসুর পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। অন্যদিকে, ইডি এই জামিনের আবেদনের জবাব দিতে আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক সময়ের আবেদন (Application for Time) জমা দেয়। ইডি আইনজীবী বিচারকের কাছে অনুরোধ করেন, আদালত যদি তাদের সময়ের আবেদনটি খারিজ করতে চান, তবে সেটি যেন অন-রেকর্ড (লিখিতভাবে) খারিজ করা হয়। কারণ পরবর্তীতে এই মামলা মাননীয় হাইকোর্টেও যেতে পারে, তাই ইডি-র বক্তব্য এবং আপত্তি যেন আদালতের রেকর্ডে স্পষ্ট থাকে।



