Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ২২ বছরের খরা কাটিয়ে অস্কারের ছাত্ররা খেতাব জিতে গুরুদক্ষিণা দিলেন (ISL 2026)।
আইএসএল-এর রং লাল-হলুদ (ISL 2026)
কেটে গেছে ২২টা বছর। তারপর দীর্ঘ বছর পার হয়ে গেলেও জাতীয় লিগ জয়ের স্বাদ আর পায়নি ইস্টবেঙ্গল। সর্বভারতীয় ট্রফি ক্লাবে না ঢুকলেও ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা এক বিন্দুও হ্রাস হয়নি। আজও ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান নাম শুনলে বুকের মধ্যে জমা হয় আবেগ আর ভালবাসার এক গাঢ় মিশ্রণ। সেখান থেকেই গ্যালারিতে জন্ম নেয় তীব্র সমর্থনের ভাষা। কিন্তু সবার শেষে জিতেই মাঠ ছাড়তে চান দলের সমর্থকরা (ISL 2026)।
২২ বছরের মধ্যে বহু পরিবর্তন হয়ে গেছে। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার হস্তান্তরও হয়েছে। এর পাশাপাশি জাতীয় লিগের নাম বদলে হয়ে গেছে আই লিগ। কিন্তু এতকিছুর পরেও ট্রফি অধরা। বহুবার ট্রফির কাছাকাছি এসেও অধরা থেকেছে সেই কাঙ্খিত স্বাদ। এর মধ্যেই দলের সঙ্গে যুক্ত হন অস্কার ব্রুজো। দুই দশকের খরা কাটিয়ে তখন লাল-হলুদ সমর্থকরা স্বপ্ন দেখছেন খেতাব জয়ের। অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলে আর্সেনালও দুই দশকের খরা কাটিয়ে খেতাব জিতেছে। সুতরাং সেই বৃত্ত পরিপূর্ণ হওয়ার আশা নিয়ে সমর্থকরা ভিড় করতে থাকেন স্টেডিয়ামে (ISL 2026)। সেই বৃত্ত যেন আজ পুরোনো হল। EPL আর আইএসএল মিলে গেল আর একটা বৃত্তে। ইতিহাস বদলাল ইস্টবেঙ্গল। দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে সেরার খেতাব জিতল অস্কার ব্রুজোর দল।

আরও পড়ুন: Angkrish Raghuvanshi: বিপাকে নাইট শিবির, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অনিশ্চিত অঙ্গকৃশ
আজকের দিনটা জুড়ে যেন শুধুই ফুটবল। ইস্টবেঙ্গল বনাম ইন্টার কাশী ম্যাচের পাশাপাশি রয়েছে আরও তিনটি ম্যাচ। যুবভারতীতে মোহনবাগান মুখোমুখি হয়েছে দিল্লির বিরুদ্ধে। জামশেদপুর এফসি মুখোমুখি হয়েছে ওডিশা এফসি-র সঙ্গে এবং পাঞ্জাব নেমেছে মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে। তবে খেতাব জয়ের লক্ষ্যে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল।
এই দিন ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। খেলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল আক্রমণ চালালেও শুরুতেই আলফ্রেডের গোলে এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের চোখে মুখে মুহূর্তে নেমে আসে হতাশা (ISL 2026)। এরপর আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়াতে থাকে ইন্টার কাশী আর অন্যদিকে সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় লাল-হলুদ ব্রিগেড।

একের পর এক আক্রমণ ধেয়ে আসতে থাকে ইস্টবেঙ্গলের গোল লক্ষ্য করে। আলফ্রেড আবার দক্ষতার সঙ্গে শট নেন লাল-হলুদের গোল লক্ষ্য করে কিন্তু সেই বল প্রতিহত করেন গিল। আবার যখন ২৫ মিনিটের মাথায় কর্ণার থেকে বল আসে গোলের অভিমুখে সেটাও দক্ষতার সঙ্গে আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক। গিল তাঁর সর্বোচ্চ দিয়ে সেই সময় ইস্টবেঙ্গল দুর্গ সামলানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু ততক্ষণে চাপের মুখে ইস্টবেঙ্গল। সেই চাপ কাটিয়ে ফিরে আসার আপ্রাণ চেষ্টা চালান বিপিন সিংরা (ISL 2026)।

যখন উত্তেজনা আর টেনশনের চোরাস্রোত বইছে গ্যালারি জুড়ে থাকা সমর্থকদের শিরদাঁড়া বেয়ে সেই সময় হলুদ কার্ড দেখেন জয় গুপ্তা। মাঝ মাঠে প্রথমার্ধে বলা যায় কার্যত হতাশ করেছে সমর্থকদের। ব্যর্থতার মুখে পড়ে এই দিনের ম্যাচেও গোলের সুযোগ থাকলেও সেগুলো নষ্ট হয় বা বলা ভাল মাঝ মাঠেই ‘মারা’ যায়। প্রথম হাফ শেষ হওয়ার আগেই চোটের কারণে বেরিয়ে যেতে হল রাকিপকে। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামলেন ডেভিড। প্রথমার্ধ পিছিয়ে থেকেই শেষ করল ইস্টবেঙ্গল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রত্যাবর্তন করে মশাল ব্রিগেড। মাঝমাঠ থেকে জিকশন বল বাড়িয়ে দেন ইউসেফ এজেজারিকে আর তিনি বলকে বিপক্ষের জালে জড়িয়ে দিতে কোন ভুল করেননি। এজেজারির গোল স্বস্তি ফেরায় লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যে।
দ্বিতীয় হাফে ইস্টবেঙ্গল তাঁদের প্রথমার্ধের ভুল শুধরে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আক্রমণ শানান। ডান দিকের উইং থেকে বিপিন সিং বলের ক্রস বাড়ান। সেই বলটা মহম্মদ রশিদ পেয়ে চলতি বলে চিপ করেন এবং ব্যবধান বাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়। সেই মুহূর্তে গ্যালারি জুড়ে উৎসব বাঁধ ভেঙেছে। সমর্থকদের গর্জন তখন সন্তোষপুর সার্ভে পার্ক ছাড়িয়ে ভারতের ফুটবল আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। যে ক্ষত এতদিন ছিল সেই ক্ষতের উপর আজ প্রলেপ পড়ল। সেই যন্ত্রণার ঝাঁঝ লিখে দিল নতুন ইতিহাস। আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল (ISL 2026)।


