Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সিধু মান্ডি বাঁকুড়া: জঙ্গলমহলের স্বাস্থ্য পরিষেবার (Kshudiram Tudu) বেহাল চিত্র সামনে এল রাজ্যের কেবিনেট মন্ত্রী তথা রানিবাঁধের বিধায়ক ক্ষুদিরাম টুডু-র হাসপাতাল পরিদর্শনে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকের পরদিনই রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক (Kshudiram Tudu)
পরিদর্শনের আগে দুই হাসপাতালেই চিকিৎসক (Kshudiram Tudu) ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও চত্বর ঘুরে দেখেন। মন্ত্রীকে সামনে পেয়ে রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা পানীয় জলের সমস্যা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, শৌচালয় নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। রানিবাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিএমওএইচ নিয়মিত থাকেন না বলেও অভিযোগ ওঠে।
মহকুমা হাসপাতালেও একাধিক সমস্যা (Kshudiram Tudu)
খাতড়া মহকুমা হাসপাতালেও একাধিক সমস্যা (Kshudiram Tudu) সামনে আসে। অভিযোগ, হাসপাতালে অর্থোপেডিক ও মানসিক রোগ বিভাগের চিকিৎসক নেই। পরিকাঠামোর অভাব, অপর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও পরিষেবার ঘাটতির কথাও জানানো হয় মন্ত্রীকে।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষুদিরাম টুডু (Kshudiram Tudu) বলেন, “১৫ বছরের অব্যবস্থায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। সেই কারণেই সরকারের পক্ষ থেকে আমরা পরিদর্শনে এসেছি।” জলের সমস্যা ও চিকিৎসকের ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিএমওএইচ, মহকুমা শাসক ও বিএমওএইচ-দের উপস্থিতিতেই রোগীরা তাঁদের সমস্যার কথা জানিয়েছেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে ল্যাবরেটরির সমস্ত প্রয়োজনীয় মেশিন বসানো হবে, যাতে জঙ্গলমহলের মানুষকে বাইরে টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে না হয়। বিএমওএইচ-এর অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে নিয়মিত হাসপাতালে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ
রানিবাঁধ হাসপাতাল চত্বরে ঝোপঝাড় দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “এখানে হাসপাতাল আছে বলে মনে হয় না, পুরো জঙ্গল হয়ে রয়েছে।” তিনি নির্দেশ দেন, দ্রুত হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার করতে হবে। রোগীদের খাবার তৈরির রান্নাঘরের বেহাল অবস্থাও নজরে আসে তাঁর। কাঠের বদলে গ্যাসে রান্নার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি ভেঙে যাওয়া সীমানা প্রাচীর দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রশাসনকে প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশও দেন।
আরও পড়ুন: Weather Report: বৃষ্টিতে ভিজছে উত্তরের জেলা, গরমে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গবাসী!
অন্যদিকে খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল পরিদর্শনের পর মন্ত্রী জানান, হাসপাতালের পরিকাঠামো ও চিকিৎসক সংকট নিয়ে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে কথা বলা হবে। তিনি বলেন, “যে বিভাগগুলিতে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, সেখানে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।”
খাতড়া মহকুমা হাসপাতালকে ৩০০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, জঙ্গলমহলের কথা মাথায় রেখে হাসপাতালের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি জানান, হাসপাতালে এখনও সিটি স্ক্যান পরিষেবা নেই, লেবার রুমের অপারেশন থিয়েটারও অত্যন্ত ছোট। বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে। দ্রুত সেই সমস্ত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।


