Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় একটি বাজেট গেস্ট হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি ও তাঁদের পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাঁরা মূলত লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক ও বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন(Guest House Fire)।
গেস্ট হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড (Guest House Fire)
ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কাছেই অবস্থিত ‘ফ্লারিশ ইন’ নামে এই বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বি অ্যান্ড বি) গেস্ট হাউসটি মেডিক্যাল টুরিস্টদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। হাসপাতালের নিকটবর্তী অবস্থান ও কম খরচের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য বহু বিদেশি রোগী এখানে থাকতেন।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর অনিয়ম। সরকারি অনুমতি ছিল মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার, অথচ ভবনটিতে বেআইনিভাবে ২৬টি ঘর তৈরি করা হয়েছিল। বেসমেন্টেও অতিরিক্ত কক্ষ বানানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল নিরাপত্তার ঘাটতি। ভবনে মাত্র একটি সরু প্রবেশ ও নির্গমন পথ ছিল। অধিকাংশ জানালা স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং প্রধান দরজাটি ইলেকট্রনিক সেন্সর লকে নিয়ন্ত্রিত ছিল। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বাসিন্দারা কার্যত ফাঁদে আটকে পড়েন(Guest House Fire)।
আগুন লাগার পর স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এক ব্যবসায়ী নিজের দোকানের গদি রাস্তায় বিছিয়ে দেন, যাতে ওপরের তলা থেকে লাফিয়ে পড়া মানুষজন বাঁচতে পারেন। বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও প্রাণহানি এড়ানো যায়নি।
ঘটনার পর গেস্ট হাউসের মালিক লুভকেশ বাজাজকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে অনিচ্ছাকৃত হত্যাসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে(Guest House Fire)।
আরও পড়ুন: High court Justice: ৩ হাইকোর্টে ১০ নতুন বিচারপতির সুপারিশ সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়ামের
এই ঘটনা ভারতের দ্রুত-বর্ধনশীল মেডিক্যাল ট্যুরিজম খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে(Guest House Fire)। চিকিৎসার আশায় ভারতে এসে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বহু পরিবারের জীবনে।



