Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রতিবার স্পেনকে ফেভারিট হিসেবে ধরা হলেও বারবার ফিরে এসেছে হতাশা (Spain)।
স্পেনের ভরসা তরুণ ব্রিগেড (Spain)
ইতিহাসের ছাই থেকে ফিনিক্স পাখির মত উত্থান স্পেনের। একদিকে যেমন রয়েছে ২০১০ সালের মহাকাব্যিক জয় আবার আছে ২০১৪ সালের ট্র্যাজিক পতন। আর সেই ট্র্যাজিডির হতাশা কাটিয়ে নতুন করে আসার আলো দেখছে স্পেন। তবে আজকের স্পেনের দল নিয়ে কথা বলার আগে ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে দেখা যেতে পারে (Spain)।
এক সময় স্পেনের ইতিহাস ছিল আক্ষেপের গল্প। যেখানে দলে ছিলেন ডি স্টেফনো, জেন্টো, রাউল কিংবা হিয়েরোর মতো মহীরুহরা, তাঁরা জার্সি গায়ে পরেছেন কিন্তু সোনালী দিনের আলো ফোটেনি। বড় মঞ্চে বারবার নার্ভ ফেল করে হতাশাই এসেছে স্প্যানিশদের।
সেই দেওয়াল প্রথম ভেঙে যায় ২০০৮ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে। অভিজ্ঞ কোচ লুইস আরাগোনেসের হাত ধরে ৪৪ বছরের খরা কাটায় স্পেন। শুরু হয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ফুটবল সাম্রাজ্যের। এরপর ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ। ক্যাসিয়াস, রামোস, জাভি ও ইনিয়েস্তাদের নিয়ে গড়া সেই দলটির বিশ্বজয়ের পথ সহজ ছিল না। প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হোঁচট খাওয়ার পর, কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালে প্যারাগুয়ে এবং জার্মানির বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ফাইনালে পা রাখে তারা এবং এরপর আসে বিশ্বজয় (Spain)।

১১ জুলাই সকার সিটিতে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে সেই ফাইনালটি ছিল চরম নাটকীয়। ক্যাসিয়াসের সেই অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ আর অতিরিক্ত সময়ে ইনিয়েস্তার জাদুকরী গোল আজ ফুটবলপ্রেমীদের মনে রয়েছে। সেই রূপকথার সমাপ্তি লুকিয়ে ছিল ঠিক তার পরের অধ্যায়েই? ২০১৩ সালে স্পেনের ঘরে তখন বিষাদের সুর। এরপর দীর্ঘদিন ধরে সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন স্প্যানিশ ট্যাংগোর।
আরও পড়ুন: Mohammedan SC: মহামেডানের শীর্ষে আম জনতা পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর
সালটা ২০১০, ম্যাচ হেরে যাত্রা শুরু করে স্পেন। কেউ সেইবার ভাবতে পারেনি বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে তুলবে স্পেন। তবে সেইবার এই ঘটনা বাস্তব করে দেখিয়েছিল স্পেন। তবে তারপর থেকেই হতাশা ছাড়া আর কিছুই আসেনি স্পেনের কাছে।
গত তিনটি বিশ্বকাপের কোনও বারেই স্পেন শেষ ষোলোর গেরো টপকাতে পারেনি। তবে গত তিন বছরের মধ্যে ইউরো কাপ, নেশন্স লিগ জেতায় আবার স্পেনের সমর্থকরা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। তবে দলের একদিকে যেমন শক্তি রয়েছে তেমন রয়েছে দুর্বলতাও (Spain)।
স্পেনের শক্তি
১) সবার আগে যদি এই দলের শক্তি বলতে হয় তবে স্পেনের মিডফিল্ডের কথা আসবে সবার আগে। কৌশলের দিক থেকে স্পেনের দাপুটে মিডফিল্ডাররা বাজিমাত করতে দক্ষ। একদিকে যেমন গেম মেকার রদ্রি রয়েছেন তেমন অন্যদিকে রয়েছেন পেদ্রি, গাভির মত প্লেয়াররা। যাঁদের বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চাপে ফেলে দিতে পারে বিপক্ষকে।
২) স্পেন নিজেদের খেলার ধরণেও পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে স্পেন ছোট পাসে খেলা তৈরি করত বর্তমানে এই দল অনেক বেশি আগ্রাসী। স্পেন এখন ডিরেক্ট আক্রমণাত্মক পাস খেলতে পছন্দ করে। লেমিনে ইয়ামাল এবং নিকো উইলিয়ামসের ড্রিবলিং, গতি, ওয়ান ইসটু ওয়ান পরিস্থিতিতে দুরন্ত।
৩) স্পেনের কোচ কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে আগের তিকিতাকা ফুটবলকে সরিয়ে এনে নতুন রূপ দিয়েছেন। এই দল যেমন আক্রমণ করতে দক্ষ তেমন পজেশনাল ফুটবল খেলতে দক্ষ। ছক ভাঙা খেলায় যেকোন সময়েই বাজিমাত করতে পারে স্পেন।
৪) এই দলের অন্যতম বড় শক্তি ফুটবলাদের একে অপরের প্রতি বোঝাপড়া। বেশিরভাগ ফুটবলার খেলেছেন একসঙ্গে যুব দলে (Spain)।
স্পেনের দুর্বলতা
১) দলের অন্যতম দুর্বলতা বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের অভাব। যার ফল ভুগতে হতে পারে স্পেনকে। মিকেল, ফেরান তোরেসরা থাকলেও বাকি দলের প্লেয়ারদের কাটিয়ে গোল করার দক্ষতা কম বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
২) বিপক্ষের প্রতি আক্রমণের সময় স্পেনের রক্ষণের দুর্বলতা দেখা যেতে পারে। পাউ কুবারসির মতো তরুণ ডিফেন্ডারেরা প্রতিভাবান তবে বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা কম থাকায় সমস্যায় পড়তে হতে পারে দলকে।
৩) দলের চোট প্রবণতা বিপদ বাড়াতে পারে এই টুর্নামেন্ট। দলে পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, ইয়ামালের মত ফুটবলারেরা চোটপ্রবণ। চোটের কারণে সমস্যায় পড়তে হতে পারে স্পেনকে (Spain)।


