Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: সুকৃতি ভট্টাচার্য: ধর্মতলার সভা মঞ্চে উস্কানিমূলক (Mamata Banerjee FIR) ও প্ররোচনামূলক মন্তব্য করার অভিযোগে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কলকাতার দুটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত (Mamata Banerjee FIR)
ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ই মার্চ, ২০২৬ (Mamata Banerjee FIR) তারিখে। ওই দিন কলকাতার এসপ্ল্যানেড বা ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল আউটপোস্টের সামনে একটি ধর্ণা মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন, যা জননিরাপত্তা এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়ে কলকাতার নেতাজি নগর থানার অন্তর্গত এন. এস. সি. বোস রোডের বাসিন্দা, ৪৫ বছর বয়সী তুষার কান্তি দাস একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
কার অভিযোগ? (Mamata Banerjee FIR)
তুষার কান্তি দাসের দায়ের করা সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। অভিযোগকারী স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় প্রথমে গত ৫ই জুন নেতাজি নগর থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ (Zero FIR) নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু যেহেতু মূল ঘটনাটি ঘটেছিল ধর্মতলা চত্বরে, যা হেয়ার স্ট্রিট থানার এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা, তাই নিয়ম মেনে মামলাটি নেতাজি নগর থানা থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর গত ৭ই জুন হেয়ার স্ট্রিট থানায় আনুষ্ঠানিকভবে কেস নম্বর ১০৬ রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করে কলকাতা পুলিশ।
লিখিত অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্য কেবল বিভ্রান্তিকরই ছিল না, বরং তা ছিল অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শনে ভরা। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া সেই ভাষণের জেরে রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক শান্তি এবং সর্বোপরি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এই মামলার গুরুত্ব বিচার করে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা BNS-এর একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধারা ১৯৬(১) (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছড়ানো), ধারা ৩৫১(২) (অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন) এবং ধারা ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা)।
আরও পড়ুন: KMC: কলকাতা পুরসভায় ‘পরিবর্তন’, বোর্ড ভাঙতেই সরানো হলো মেয়র পরিষদদের নেম প্লেট
নির্বাচন-পরবর্তী আবহে রাজ্যের একজন শীর্ষ সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই অভিযোগের জল আগামী দিনে আদালত পর্যন্ত গড়ায় নাকি পুলিশি তদন্তেই এর নিষ্পত্তি হয়, এখন সেটাই দেখার।


