Last Updated on [modified_date_only] by
ট্রাইব টিভি ডিজিটাল: হিউম্যান মেটানিউমোভাইরাস (এইচএমপিভি) নিয়ে এমনিতেই আতঙ্কে রয়েছে মানুষ। চিনের পরে ভারতে এই রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে জানা যায়। কলকাতা শহরে এক শিশুর শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। এমন সময় আমেরিকায় হানা দিয়েছে র্যাবিট ফিভার(Rabbit Fever)।
কী এই রোগ? (Rabbit Fever)
আমেরিকায় র্যাবিট ফিভারের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে । র্যাবিট ফিভার(Rabbit Fever) যা রোগটির নাম টুলারেমিয়া৷ এটি একটি জুনোটিক রোগ যা খরগোশ এবং অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আমেরিকায় শিশু থেকে বয়স্ক— অনেকের শরীরেই হানা দিয়েছে এই রোগ। এর পিছনে রয়েছে এক অতি সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়া, যার নাম ফ্রান্সিসেল্লা টুলারেনসিস।
কোথায় প্রথম সংক্রমণ দেখা যায় এই রোগের? (Rabbit Fever)
২০০০ সালে ম্যাসাচুসেটসের একটি আঙুর খেতে এই রোগের সংক্রমণের বিষয়টি নজরে আসে। সেবার ১৫ জনের মধ্যে ওই রোগের সংক্রমণ ধরা পড়ে(Rabbit Fever)। মৃত্য়ু হয় একজনের। তাই প্রাণীদের পাশাপাশি সংক্রমণ ঘটতে পারে মানুষের শরীরেও। আক্রান্তের হাঁচি-কাশি, থুতু-লালার মাধ্যমে খুব দ্রুত এক জনের থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়াতে পারে এই রোগ।
আরও পড়ুন:Los Angeles Fire: লস অ্যাঞ্জেলেসের আগুনে মৃত অন্তত ২৪, শঙ্কা বাড়াচ্ছে শক্তিশালী টর্নেডো!
কোথা থেকে ছড়াতে পারে এর ব্যাকটেরিয়া?
জানা গেছে ফ্রান্সিসেল্লা টুলারেনসিস ব্যাক্টেরিয়া নোংরা ও অপরিস্রুত জল থেকেও ছড়াতে পারে(Rabbit Fever)। আবার বাতাসবাহিত হয়েও এই ব্যাক্টেরিয়া ছড়াতে পারে। বাতাসের জলকণায় ভর করে এই ব্যাক্টেরিয়া বহু দূর অবধি ছড়াতে পারে। আমেরিকার ‘সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি)-বলছে, খরগোশ, ইঁদুর জাতীয় প্রাণী থেকে এই ব্যাক্টেরিয়া ছড়ায়। এই সব প্রাণীর শরীরে ব্যাক্টেরিয়া বাসা বাঁধে। সেখান থেকে মাছি বা কোনও পতঙ্গের মাধ্যমে জীবাণু মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে। প্রাণীর দেহাবশেষ, মলমূত্র থেকেও ব্যাক্টেরিয়া ছড়ায়। খামারে যাঁরা খরগোশ প্রতিপালন করেন, তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। পোষ্য খরগোশ থেকেও রোগ ছড়াতে পারে।
এই রোগের লক্ষণগুলি কী?
এই রোগের লক্ষণগুলি হল, খুব বেশি জ্বর, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, সংক্রমণের স্থানের কাছাকাছি লিম্ফ নোডগুলি ফুলে ওঠে এবং ব্যথা হতে পারে, ত্বকের সংক্রমণ, গলা ব্যথা, ফোলা, চোখ জ্বালা, চোখের লালভাব হতে পারে ৷ এছাড়াও কোনও কোনও সময় বমির ভাবও থাকতে পারে ৷ পেটখারাপ, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্টের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ত্বকে র্যাশ, ফুস্কুরি বা ত্বকের সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। টুলারেমিয়ায় আক্রান্তদের বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টের উপসর্গও দেখা গিয়েছে।
কী কী হতে পারে এই রোগের ফলে?
এই রোগের ফলে ত্বকের আলসার হতে পারে, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘আলসেরোগ্ল্যান্ডুলার টুলারেমিয়া।‘ চোখেও সংক্রমণ হতে পারে যাকে বলা হয় ‘অকুলোগ্ল্যান্ডুলার টুলারেমিয়া।‘ নিউমোনিয়ার লক্ষণও দেখা দিতে পারে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হচ্ছে ‘নিউমোনিক টুলারেমিয়া।
আরও পড়ুন:Mark Zuckerberg: মার্ক জুকারবার্গের দাবিকে ভুল প্রমাণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব
এই ব্যাকটেরিয়া থেকে বাঁচতে কী করা উচিত?
এই রোগ থেকে বাঁচতে সবসময় পরিচ্ছন্নত থাকতে বলছেন চিকিৎসকেরা। বাইরে বেরোলে মাস্ক পরতে নির্দেশ দিচ্ছেন। বার বার হাত ধুতে হবে। এই রোগে আক্রান্তের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এছাড়াও বলা হচ্ছে শরীর ঢাকা পোশাক পরতে হবে। পরিশ্রুত বিশুদ্ধ জল খেতে হবে। পশুপাখির সঙ্গে থাকার সময় গ্লাভস পরে নিতে হবে অবশ্যই।
কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন গবেষকরা?
গবেষকরা এই রোগের বিস্তার রোধ করার জন্য নানারকম পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাঁরা রোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছেন এবং সম্ভাব্য টিকা তৈরির গবেষণা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি, জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতে HMPV-এর বাড়াবাড়ির পাশাপাশি এবার আমেরিকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে র্যাবিট ফিভার। গত কয়েক বছরে আমেরিকায় এক সংক্রমণ বেড়েছে অন্তত পঞ্চাশ শতাংশ বলছেন গবেষকরা। এই রোগের সংক্রমণ ভারতেও ছড়াতে পারে,আতঙ্কে রয়েছে ভারত।


