Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: এই ম্যাচের নায়ক প্যাট্রিক বিচ। যিনি পুরো ম্যাচে মোট আটটি সেভ করে তুরস্কের আক্রমণকে ব্যর্থ করে দেন (Australia vs Turkiye)।
ম্যাচের নায়ক প্যাট্রিক (Australia vs Turkiye)
ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার দাপট সবার জানা এমনকি গতকাল মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও মেয়েদের দাপটের সামনে দাঁড়াতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। তাঁদের কার্যত দূরমুশ করে ম্যাচ জিতেছে অজি শিবির। এবার দেখল ফুটবলেও অজিদের দাপট। বিশ্বকাপের এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ফুটবলের নতুন সূচনা হল বা নব জাগরণ হয়েছে বললেও একদম বাড়িয়ে বলা হবে না (Australia vs Turkiye)।
ভ্যাঙ্কুভারে শক্তিশালী তুরস্ককে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করল অজি ব্রিগেড। সাধারণত কোনও ম্যাচে জয়ের পর সেই দলের স্ট্রাইকাররা বেশি চর্চায় আসেন তবে এই জয়ের পর চর্চায় দলের গোলকিপার। তিনিই এই ম্যাচের নায়ক। যাঁর দুর্গ ভেদ করা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে গেছিল। নেস্তোরি ইরানকুন্দার এবং কনর মেটকাফের জয়ের গোল দুটি করেন। এই জয় অজিদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকল।
ইরানকুন্দার গোলে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া তবে ম্যাচের শুরুর ছবিটা এমন ছিল না। খেলার শুরুতে বলের দখল ছিল তুরস্কের কাছেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া কিছুটা সতর্ক ফুটবল খেলছিল এবং নিজেদের অর্ধেই বেশি সময় কাটাচ্ছিল, এটা অস্ট্রেলিয়ার নতুন পরিকল্পনা বলেই মনে হচ্ছিল। তবে ধীরে ধীরে ম্যাচের দখল নিজেদের হাতে নিতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমার্ধের জলপানের বিরতির কিছুক্ষণ পরেই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ২৭ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে পল ওকন ইস্টলারের দুর্দান্ত পাস ধরে এগিয়ে যান ইরানকুন্দা। তিন জন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ করে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। ২০ বছরের এই ফুটবলারের গোলেই এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া এবং এটা ঐতিহাসিক গোল হয়ে থাকবে। যে দক্ষতা তিনি দেখিয়েছেন তাতে এর চর্চা বহুদিন চলবে।
গোলের পর অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি টিম কাহিলের বিখ্যাত উদযাপনের অনুকরণে কর্নার পতাকার কাছে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ইরানকুন্দা। সতীর্থরা ছুটে এসে তাঁকে ঘিরে ধরেন, আর গ্যালারিতে থাকা অস্ট্রেলীয় সমর্থকদের তখন আনন্দ বাধ ভেঙেছে (Australia vs Turkiye)।
কোচের সবথেকে ভরসার মুখ তাঁদের গোলকিপার আর সেই মর্যাদার পূর্ণ দাম দিলেন প্যাট্রিক বিচ। একাই দলের দুর্গ রক্ষার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন এবং সেখান দিয়ে একটা মশা গলারও ক্ষমতা ছিল না। এতটাই শক্তিশালী প্রহরী তিনি।
আরও পড়ুন: Jaishankar Mao: ‘মাও সিনড্রোম’: কেন পশ্চিমী বিশ্ব বারবার একই ভুল করে? প্রশ্ন জয়শঙ্করের
ম্যাচের আগে দল ঘোষণার সময়ই চমকে দিয়েছিলেন কোচ টনি পোপোভিচ অভিজ্ঞ ম্যাথিউ রায়ানকে বাইরে রেখে গোল রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তরুণ প্যাট্রিক বিচকে। অনেকের কাছেই সিদ্ধান্তটি ছিল অপ্রত্যাশিত। তবে মাঠে নেমে কোচের সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেন বিচ। ইরানকুন্দার গোলের মাত্র এক মিনিট পরেই আব্দুলকেরিম বারদাকচির দূরপাল্লার শক্তিশালী শট আঙুলের ডগায় ছুঁয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়াকে বিপন্মুক্ত করেন। সেই সেভ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন বিচ। আর্দা গুলের বিপজ্জনক ফ্রি-কিক দুর্দান্ত ভাবে ঠেকিয়ে দেন, যেটা নিশ্চিত গোল ছিল। পরে আরও কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ বাঁচান তিনি। পুরো ম্যাচে মোট আটটি সেভ করে তুরস্কের আক্রমণকে ব্যর্থ করে দেন অস্ট্রেলিয়ার এই তরুণ তারকা গোলরক্ষক। গোল হজম করার পর তুরস্ক আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে সেই আক্রমণ প্রতিহত করে দেয় অজি ডিফেন্ডাররা।
শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিনিটে আসে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি। তুরস্কের ইসমাইল ইউকসেকের ভুলের সুযোগ নিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেন মেটকাফ। সেই গোলেই ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। তুরস্কের হতাশার রাতে নায়ক বিচ (Australia vs Turkiye)।


