Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন গত পাঁচ বছরে ১১০ শতাংশ বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রেকর্ড ১.৭৮ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে(Defence Growth)। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এই পরিমাণ ছিল ৮৪,৬৪৩ কোটি টাকা। স্বাধীনতার পর দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে এটি অন্যতম দ্রুততম সম্প্রসারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সাফল্যে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতি (Defence Growth)
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কেন্দ্রের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতি, যার লক্ষ্য ছিল বিদেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো। দীর্ঘদিন ধরে ভারত যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, আর্টিলারি ও উন্নত অস্ত্রের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু গত এক দশকে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য ছিল ৪৩,৭৪৬ কোটি টাকা। তা বেড়ে এখন ১.৭৮ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সম্প্রতি স্থল, নৌ ও বিমান তিন ক্ষেত্রেই ভারতের দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেছেন।
এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ নীতিগত সংস্কার। সরকার শতাধিক প্রতিরক্ষা সামগ্রী আমদানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে এবং দেশীয় সংস্থাগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে এবং স্টার্টআপগুলিকে উৎসাহ দিতে iDEX-এর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও দেখুন: https://www.youtube.com/watch?v=xVHQ4K4MRy0
বেসরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ সালে তাদের অবদান দাঁড়িয়েছে ৪২,০০০ কোটি টাকা, যা মোট উৎপাদনের ২৪ শতাংশ।
একই সঙ্গে তেজস যুদ্ধবিমান, আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যুদ্ধজাহাজ, রাডার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মতো দেশীয় প্রকল্পগুলিও উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করেছে। রপ্তানিতেও বড় সাফল্য এসেছে। ২০২৫-২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি রেকর্ড ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে(Defence Growth)।
আরও পড়ুন: Telegram Issue: টেলিগ্রাম: গোপনীয়তার প্রতীক নাকি সরকারের মাথাব্যথা?
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ইঞ্জিন, সেন্সর ও কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এখনও বিদেশি নির্ভরতা রয়েছে(Defence Growth)। তবুও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভারত ধীরে ধীরে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও রপ্তানি কেন্দ্র হয়ে ওঠার পথে এগোচ্ছে।



