Last Updated on [modified_date_only] by Shyamali Bihan
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কলকাতার দুর্গাপুজো পরিক্রমার নামে বড়সড় আর্থিক প্রতারণা চালানোর অভিযোগে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের আগাম জামিনের মামলায় ২ সপ্তাহের মধ্যে পুলিশের থেকে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের(Indranil UNESCO)। তদন্ত চলাকালীন প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ২ সপ্তাহ কোনও কড়া পদক্ষেপ না করার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। ৮ জুলাই দুপুর ২টোয় এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
প্রাক্তন মন্ত্রী ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ (Indranil UNESCO)
কলকাতার বউবাজার থানায় প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং ‘মাসআর্ট অ্যাসোসিয়েটস’ নামে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে কলকাতার দুর্গাপুজো পরিক্রমার নামে বড়সড় আর্থিক প্রতারণা চালানো হয়েছে। ভুয়ো ও জাল নথিপত্রকে আসল হিসেবে ব্যবহার করে চড়া দামে প্রিপুজোর টিকিট বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রীর সংস্থার বিরুদ্ধে।আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার পরামর্শদাতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এবং সগুনা মুখোপাধ্যায় এই অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন ছাড়াও এই অভিযোগে নাম রয়েছে ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ), সায়ন্তন মৈত্র এবং রাজন চট্টোপাধ্যায় নামে আরও তিন ব্যক্তির(Indranil UNESCO)।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২ সালে হঠাৎ করে একটি সংস্থা গড়ে তোলা হয়। যার প্রেসিডেন্ট ছিলেন ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেন ষ। ওই সংস্থার তরফে দাবি করা হয়, ইউনেস্কো তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, পার্টনার হয়েছে। একইসঙ্গে বলা হয়, ইউনেস্কো ২৪টা দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলকে বেছে নিয়েছে। কিন্তু, তা একেবারেই মিথ্যে। প্রমাণ হিসেবে পুলিশের হাতে অভিযোগকারীরা যে নথি তুলে দিয়েছে তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা রয়েছে যে, এই ধরনের প্রিপুজোর টিকিট বিক্রির বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইউনেস্কোর কোনও সম্পর্ক নেই। ফলে মন্ত্রীর পরিবারের সংস্থা যা করেছে, তা সম্পূর্ণ জালিয়াতি ও প্রতারণা(Indranil UNESCO)।
সোমবার সেই মামলার শুনানি হয় বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে।
অভিযোগকারীর আইনজীবী সৌরভ চট্টোপাধ্যায় আদালতে বলেন, বহু বছর ধরে দুর্গাপুজোকে তুলে ধরার কাজ করছি। সিঁদুর খেলা সহ দুর্গাপুজোর বহু অনুষ্ঠানের কাজ করেছি। কিন্তু প্রচুর মানুষের থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। এরকম প্রায় ২০০ জন রয়েছেন। রাজ্যের আইনজীবী বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘রেট চার্ট দেখুন। মাস আর্টের নামে একটা অ্যাকাউন্ট ছিল।’
কীভাবে এর অনুমতি দেওয়া হত? কীভাবে প্রাক্তন মন্ত্রীর স্ত্রীর সংস্থা পুজোর এই সুযোগ পেয়ে গেল? কত টাকা নেওয়া হয়েছে? রাজ্যের উদ্দেশ্যে এই প্রশ্ন করেন বিচারপতি সেনগুপ্ত।
তার উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, ‘প্রিভিউ শো-এর নামে টাকা নেওয়া হত। ডোনার পাস ছিল। প্রচুর টাকার হেরফের হয়েছে। এটা তদন্ত সাপেক্ষ।’ অভিযোগকারীর আইনজীবী যোগ করেন, ‘বোলপুর, শান্তিনিকেতনেও এভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে।’
ইন্দ্রনীল সেনের আইনজীবী জিষ্ণু সাহা আদালতে দাবি করেন, ২৪টি পুজোর নাম ছিল। এটা পুজোর সময় হয়নি। এটা প্রিভিউ শো। এটা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়।’ তখন বিচারপতি তাঁর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘কিন্তু আপনি তো টাকা নিয়েছেন? সে বাণিজ্যিক বা অবাণিজ্যি-যে উদ্দেশ্যেই হোক। ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে টাকা নেওয়া হল, তারপর লোগো সরানো হল! এমন নয় কি বিষয়টা? এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আদালতের নজর এড়াতে পারে না।’ রাজ্যের আইনজীবী আদালতে জানান, ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে। একটি ব্যক্তিগত সংস্থাকে ব্যবহার করে জনগণের টাকা কিভাবে নেওয়া যায়? এই প্রশ্ন তোলেন অভিযোগকারীর আইনজীবী(Indranil UNESCO)।
আরও পড়ুন: BRICS Security Meet: ব্রিকস নিরাপত্তা বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লিতে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্তা
এদিনের শুনানি শেষে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দেন আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট দিতে হবে পুলিশকে(Indranil UNESCO)। তদন্ত চলাকালীন প্রাক্তন মন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ২ সপ্তাহ কোনও কড়া পদক্ষেপ না করার মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যকে। ৮ জুলাই দুপুর ২টোয় এই মামলার পরবর্তী শুনানি।



