Last Updated on [modified_date_only] by Sabyasachi Bhattacharya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: অঘটন নয়! নাটকীয় নক আউটে টাইব্রেকারে চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে দিয়ে শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ে (Morocco)। জার্মানির ন্যায্য গোল বাতিল! আবারও ভার নিয়ে উঠে গেল প্রশ্ন।
নক আউটের প্রথম পর্বেই জোড়া অঘটন (Morocco)
এ যেন অনেকটা জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচেরই অ্যাকশন রিপ্লে। বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-তে আবারও বড় অঘটন! জার্মানির পথ অনুসরণ করে এবার বিদায় নেদারল্যান্ডসের! এগিয়ে গিয়েও মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে গেল ওলন্দাজরা। সাডেন ডেথে দুরন্ত সেভ করে ম্যাচের নায়ক মরক্কোর বোনো। গত বিশ্বকাপে এই টাইব্রেকারেই স্পেনের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিলেন মরক্কান এই গোলরক্ষক এবার ডাচ-দের স্বপ্নভঙ্গ হল তাঁর হাতেই। বিশ্বকাপে আবারও ‘ইটস টাইম ফর আফ্রিকা’। ২০১৪, ২০২২ সালের পর এবারও টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হল অরেঞ্জ ব্রিগেডকে (Morocco)।
মরক্কো যে মোটেও আর ছোট দল নয়, তা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলকে আটকে দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন সাইবারি, হাকিমিরা। তবে এদিন অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক খেলতে গিয়েই নিজেদের বিপদ নিজেরাআ ডেকে আনলেন কোডি গাকপো, ডি জং, ভার্জিল ভ্যান ডাইকরা। গ্রুপ পর্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পরও কেন এদিন মরক্কোর বিরুদ্ধে গোটা দল গুটিয়ে রইল, তার উত্তর একমাত্র দিতে পারবেন ডাচ কোচ রোনাল্ড কোম্যানই। আর তারই খেসারত দিতে হল তাঁদের। এদিন পাঁচ ডিফেন্ডারে খেলল নেদারল্যান্ডস! তিন সেন্টার ব্যাকের সঙ্গে ডেঞ্জিল ডামফ্রিস ও ভ্যান ডি ভেনকে জুড়ে দেন কোম্যান। মাঝমাঠের গুরু দায়িত্ব সামলাতে হলো গাকপো এবং ডি জংকে। আর ডাচ আক্রমণের দায়িত্ব সামালেন সামারভিল ও ব্রায়ান ব্রবি। কিন্তু দু’জনেই হতাশ করলেন।
ডাচদের আলট্রা ডিফেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিকে কাজে লাগিয়ে বারবার আক্রমণে উঠলেন মরক্কোর হাকিমি, সাইবারিরা। প্রথমার্ধে কয়েকটা গোলের সুযোগও তৈরি করে ফেলেছিল মরক্কো। কিন্তু অল্পের জন্য তা হাতছাড়া করেন সাইবারিরা। লোক কম থাকায় মাঝমাঠের দখল নিতে ব্যর্থ হয় নেদারল্যান্ডস। ফলে প্রথমার্ধে কোনও দলই সাফল্য পায়নি (Morocco)।
দ্বিতীয়ার্দে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন নেদারল্যান্ডসের কোচ কোম্যান। উইঘর্স্ট ও কুপমেইনার্স নামতেই গোলের দরজা খোলে ডাচদের। ৭২ মিনিটে গোল করে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন গাকপো। উইঘর্স্টের হেড থেকে বল পান সামারভিল। সেখান থেকে বল পেয়ে জালে জড়িয়ে দিতে ভুল করেননি গাকপো। বিশ্বকাপের মাঝেই চরময় দুঃসংবাদটা এসেছিল গাকপোর কাছে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর সন্তানের। তাই এদিন গোল করার পর সন্তান শোকে অঝোরে কেঁদে ফেলেন গাকপো।
গাকপোর গোলের পরে মনে হচ্ছিল প্রত্যাশিতভাবেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফেলেছে নেদারল্যান্ডস। কিন্তু ছাড়বার পাত্র নয় মরক্কো। গোল পাওয়ার পর আরও ডিফেন্সিভ হয়ে যায় ডাচরা। আর তা দেখেই দীর্ঘদেহী সেন্টার ব্যাক ইসা দিয়পকে স্ট্রাইকার পজিশনে তুলে এনে মাস্টার্স স্ট্রোক দেন মরোক্কান কোচ মহম্মদ উয়াহাবি। আর তাতেই কেল্লাফতে। এরপর মরক্কান ফুটবলাররা দিয়পকে লক্ষ্য করে লম্বা লম্বা ক্রস তুলতে শুরু করেন। তারই ফসল হিসেবে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের (৯০+১) অন্তিম মুহূর্তে লম্বা ক্রস থেকে হেডে গোল করে সমতা ফেরান দিয়প (Morocco)।
নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এক্সট্রা টাইমের সাত মিনিটে মরক্কোর সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন রহিমি। ভারব্রুগেনকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি তিনি। তা না হলে সেখানেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যেত। এরপর মনে হচ্ছিল দুই দলই ম্যাচটাকে নিয়ে যেতে চাইছে টাইব্রেকারে। কেউই আর সেই ভাবে গোলের খিদে দেখায়নি।
আরও পড়ুন: Musk Birthday: এলন মাস্কের ৫৫তম জন্মদিনে নজরকাড়া স্পেস-থিম পার্টি
অতিরিক্ত সময়ে গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সাডেন ডেথে প্রথম শটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন টিউন কুপমেইনার্স। কিন্তু মরক্কোর প্রথম শট বাইরে মারেন আয়নায়োই। ডাচেদের দ্বিতীয় শটে জাস্টিন ক্লুইভার্টের শট বারে লেগে বেরিয়ে আসে। দ্বিতীয় শটে গোল করে মরক্কোর হয়ে সমতা ফেরান রহিমি (Morocco)।
নেদারল্যান্ডকে আবারও এগিয়ে দেন উইঘর্স্ট। তৃতীয় শটে মরক্কোর হয়ে গোল করেন তালবি। তখন ফলাফল ২-২। চতুর্থ শটে মিস করে দুই দলই। ডাচেদের টিম্বার এবং মরক্কোর হাকিমি। ডাচদের হয়েছে শেষ শট নিতে আসেন সামারভিল। কিন্তু ম্যাচের নায়ক মরক্কান গোলরক্ষক বোনোর হাতে আটকে যায় তাঁর শট। উল্টোদিকে পঞ্চম শট থেকে গোল করে দলকে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে ভুল করেননি সাইবারি।
চলতি বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল মরক্কো। গত বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালের মতো বিগ জায়ান্টদের হারিয়েই সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছিল মরক্কো। তাই এবারও তাদেরকে হাল্কাভাবে নিলে বোকামি করবে যে কোনও প্রতিপক্ষই (Morocco)।


