Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: জন্মদিন মানেই প্রিয়জনের কাছ থেকে একটু অন্যরকম ভালোবাসা পাওয়ার প্রত্যাশা। আর সেই বিশেষ মানুষ যদি হন জীবনসঙ্গী, তাহলে দিনটি আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে (Kanchan Sreemoyee)। ৩০ জুন অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের জন্মদিন। বিয়ের পর এটি তাঁর তৃতীয় জন্মদিন এবং মা হওয়ার পর দ্বিতীয় জন্মদিন। ফলে দিনটিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ছিল ভক্তদের কৌতূহল, স্ত্রীকে কীভাবে শুভেচ্ছা জানাবেন অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক? প্রতিবারের মতো এবারও স্ত্রীকে চমকে দিতে কোনও খামতি রাখেননি কাঞ্চন। রাজকীয় খাবারের আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ, আবেগমাখা খোলা চিঠি লিখে সকলের সামনে নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেন তিনি।

‘তুমি আমার জীবনের বায়ুমণ্ডল’ (Kanchan Sreemoyee)
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়া একগুচ্ছ সুখের মুহূর্তের ছবির সঙ্গে কাঞ্চন লিখেছেন এমন কিছু কথা, যা মুহূর্তেই অনুরাগীদের মন ছুঁয়ে যায়। তিনি লিখেছেন, ‘আজকের দিনটায় অনেকক্ষণ ধরে ভেবে চলেছি কী লিখব? কী পোস্ট করব? তোমার সম্পর্কে লিখতে গেলে তো শুরু করলেও শেষ হবে না। আমার মনভালোর জন্মদিন। তুমি আমার কাছে অনেকটা বায়ুমণ্ডলের মতো।’ এরপরই তিনি ব্যাখ্যা করেন কেন তিনি শ্রীময়ীকে ‘বায়ুমণ্ডল’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।
কাঞ্চনের ভাষায়, (Kanchan Sreemoyee)
‘সবার সামনে স্বীকার করি না সবসময়, তবে হাওয়া যেমন ছোঁয়া যায় না, দেখা যায় না, স্পর্শ করা যায় না, তেমন হাওয়া ছাড়া বাঁচাও অসম্ভব। প্রতি মুহূর্তে শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য যেমন হাওয়ার প্রয়োজন, আমার জীবনেও তুমি ঠিক তেমনটাই।’ এই উপমার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শ্রীময়ীর উপস্থিতি তাঁর কাছে কতটা অপরিহার্য।
সংসারের প্রতিটি দায়িত্বে শ্রীময়ীর প্রশংসা
শুধু ভালোবাসার কথাই নয়, স্ত্রী হিসেবে শ্রীময়ীর দায়িত্ববোধ এবং সংসার সামলানোর দক্ষতারও অকপট প্রশংসা করেছেন কাঞ্চন। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁদের কন্যা কৃষভির যত্ন নেওয়া থেকে শুরু করে নিজের প্রতিটি ছোট-বড় প্রয়োজনের খেয়াল রাখা— সবকিছুই নিখুঁতভাবে সামলান শ্রীময়ী। কাঞ্চনের কথায়, ‘আমাদের মেয়ে কৃষভির খেয়াল রাখা থেকে শুরু করে আমার খুঁটিনাটি সমস্ত কিছু, আমার ভালো অভ্যেস, মন্দ অভ্যেস, জীবনে পথচলার প্রতিটা ক্ষেত্রে সবকিছু গুছিয়ে দেওয়া, কখনও-কখনও তোমার কঠিন শাসন, আদর, ভালোবাসা, ধমক, যত্ন, রাগ, অভিমান— সব মিলিয়েই আমি পরিপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাওয়াকে যেমন পুরোপুরি বর্ণনা করা যায় না, তেমনি তোমাকেও লেখা শেষ করা যাবে না।’
‘ভালো থেকো, পাশে থেকো’ (Kanchan Sreemoyee)
ভালোবাসায় ভরা জন্মদিনের শুভেচ্ছা জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তায় স্ত্রীকে আরও একবার নিজের অনুভূতির কথা জানান অভিনেতা। তিনি লেখেন, ‘তোমার জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা। এক আকাশ ভালোবাসা তোমার জন্য কৃষভি এবং আমার তরফে। ভালো থেকো, সুস্থ থেকো, পাশে থেকো। আমাদের ঘিরে থেকো হাওয়ার মতো, বায়ুমণ্ডলের মতো।’ শেষে আদরের নামে ‘ঝুম্পা’ বলে সম্বোধন করে আরও একবার স্ত্রীকে ভালোবাসার বার্তা দেন তিনি।

নিন্দুকদের উদ্দেশে পরোক্ষ জবাব (Kanchan Sreemoyee)
তবে আবেগঘন শুভেচ্ছাবার্তার শেষ অংশে ছিল একটি বিশেষ বার্তাও। সেখানে স্ত্রীকে তিনি অনুরোধ করেন, সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্য বিভাগ যেন গুরুত্ব না দেন। কাঞ্চনের পরামর্শ, ‘পোস্টের মন্তব্য বাক্সে চোখ রেখো না।’ এই একটি বাক্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, এখনও সমালোচনা বা ট্রোলিংকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান না এই দম্পতি। ‘কুছ তো লোগ কহেঙ্গে, কিশোর কুমারের গানে জীবনের দর্শন শুধু মন্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শই নয়, কাঞ্চন নিজের বার্তায় কিশোর কুমারের বিখ্যাত গান ‘কুছ তো লোগ কহেঙ্গে’-র ভাবনাকেও তুলে ধরেছেন। এই গানের মূল বার্তাই হলো, মানুষ সবসময় কিছু না কিছু বলবেই, তাই অন্যের সমালোচনায় কান না দিয়ে নিজের জীবন নিজের মতো করে বাঁচাই শ্রেয়। কাঞ্চনের এই ইঙ্গিত যেন তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দীর্ঘদিনের নানা বিতর্ক, সমালোচনা এবং ট্রোলিংয়েরই জবাব।
বিতর্ক পেরিয়ে আরও দৃঢ় সম্পর্ক (Kanchan Sreemoyee)
কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টরাজের সম্পর্ক শুরু থেকেই নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বয়সের পার্থক্য, ব্যক্তিগত জীবন এবং বিয়েকে ঘিরে একাধিকবার সামাজিক মাধ্যমে কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু সেই সমালোচনার মাঝেও কখনও একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পিছপা হননি তাঁরা। বরং সময়ের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। বর্তমানে কন্যা কৃষভিকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে তুলেছেন এই দম্পতি।
আরও পড়ুন : Taratala Compensation: মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ভালোবাসার প্রকাশেই জন্মদিন হয়ে উঠল স্মরণীয়, শ্রীময়ীর এবারের জন্মদিন শুধু কেক কাটা বা উপহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কাঞ্চন মল্লিকের লেখা আবেগঘন বার্তা প্রমাণ করে দিয়েছে, ভালোবাসার সবচেয়ে মূল্যবান উপহার কোনও দামি বস্তু নয়, বরং মনের গভীর থেকে বলা কয়েকটি আন্তরিক কথা।



