Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বর্ষার দাপট আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে পশ্চিমবঙ্গে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আসাম ও বাংলাদেশের উপর অবস্থানকারী দুটি ঘূর্ণাবর্ত এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে বিস্তৃত সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি চলবে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গেও মঙ্গলবার পর্যন্ত একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে (Weather Update)।
সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা (Weather Update)
আবহাওয়াবিদ অন্বেষা ভট্টাচার্যের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে আসামে একটি এবং বাংলাদেশে আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমী অক্ষরেখা রাজস্থান থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের মিজোরাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে, যার জেরেই বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে মঙ্গলবার পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টি (Weather Update)
দক্ষিণবঙ্গের আকাশ আগামী কয়েকদিন মূলত আংশিক মেঘলা থাকবে। তবে এর মধ্যেই দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় সব জেলাতেই। আজ, শনিবার বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর (Weather Update)।

বুধবার থেকে কিছুটা কমতে পারে বৃষ্টির দাপট
মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, বুধবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। রথযাত্রার দিন আবার উপকূলীয় ও উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে উৎসবের দিন বাইরে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কোথাও হতে পারে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি (Weather Update)
উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। আজ শনিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই তিন জেলার কোথাও কোথাও ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। প্রবল বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস, নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং জল জমার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে কালিম্পং, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। এই জেলাগুলিতেও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারও বজায় থাকবে বৃষ্টির সম্ভাবনা
আগামী মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার— এই পাঁচ জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে এক বা দুই জেলায় ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা বহাল থাকবে।
কলকাতায় আপাতত বড় কোনও সতর্কতা নেই (Weather Update)
রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় আগামী সাত দিন বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। যদিও আগামী পাঁচ দিনের জন্য কলকাতার ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে রথযাত্রার দিন এবং তার পরের দিন বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে শহরবাসীকেও ছাতা বা রেনকোট সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Green Churi: শ্রাবণে সবুজ কাচের চুড়ি পরার রীতি কেন?
নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা
ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ির বাইরে না বেরোনোই শ্রেয়। জল জমা রাস্তা, খোলা মাঠ, বড় গাছের নিচে বা বিদ্যুতের খুঁটির আশেপাশে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণকারীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে, কারণ প্রবল বৃষ্টির ফলে ধস বা রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



