Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বারুইপুরের বহুল আলোচিত এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে (Bikash Ranjan)। এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী এবং সিপিআই(এম) নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি পুলিশি অভিযান হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং এর প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

তিনি দাবি করেন, একজন অভিযুক্তকে তদন্তে সহযোগিতার সুযোগ না দিয়ে যদি তাকে গুলিতে হত্যা করা হয়, তবে তা আইন এবং ন্যায়বিচারের মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর মতে, এই ঘটনার পিছনে এমন কিছু তথ্য থাকতে পারে, যা প্রকাশ্যে এলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসত।
‘অভিযুক্ত মানেই অপরাধী নয়’ (Bikash Ranjan)
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ভারতের আইন অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপরাধী বলা যায় না। সেই কারণেই একজন অভিযুক্তকে জীবিত রেখে তদন্তের কাজে ব্যবহার করা উচিত ছিল বলে তাঁর মত। তিনি বলেন, “একজন অভিযুক্ত এখনও অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি। তাকে তদন্তের কাজে লাগানো যেতে পারত। তাকে তদন্তের কাজে না লাগিয়ে তাকে এভাবে হত্যা করা হল, এটা তো বর্বরতা।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি মনে করেন যে অভিযুক্ত জীবিত থাকলে তদন্তকারীরা আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারতেন, যা বর্তমানে অজানাই থেকে গেল।
‘মধ্যরাতেই অভিযান কেন?’ (Bikash Ranjan)
এনকাউন্টারের সময় নিয়েও একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ এই আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য, “আর দিনের বেলায় কেন হবে না? মধ্যরাত্রি কেন?” এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন, অভিযানের সময় এবং পদ্ধতি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। তাঁর দাবি, যদি আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনেই সব কিছু হয়ে থাকে, তাহলে মধ্যরাতে এমন অভিযান পরিচালনার যৌক্তিকতা জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।

‘বেঁচে থাকলে অনেক তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারত’
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, নিহত ব্যক্তি জীবিত থাকলে ভবিষ্যতে এমন কিছু তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারত, যা অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারত। তাঁর ভাষায়, “আসলেই ওই ভদ্রলোক তিনি বেঁচে থাকলে পরে অনেক তথ্য প্রকাশিত হতে পারত। তাকে বাঁচিয়ে রাখলে বিপদ ছিল। তাই তাকে মেরে ফেলা হল।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঘটনার পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেননি; এটি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ও আইনি মূল্যায়ন।
সিআইডি তদন্ত যথেষ্ট নয়, চাই ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্ত
বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত সিআইডির হাতে রয়েছে। তবে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মতে, শুধুমাত্র সিআইডি তদন্ত যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “পুলিশের বাধ্যবাধকতা আইন অনুযায়ী তো এনকাউন্টার নিয়ে তদন্ত করার… উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। ওরা সিআইডি তদন্ত চালু করেছে কিন্তু ম্যাজিস্ট্রিয়াল এনকোয়ারি হওয়া দরকার।” তাঁর দাবি, আইনের বিধান অনুযায়ী এনকাউন্টার-সংক্রান্ত ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে জনগণের মধ্যে কোনও সন্দেহ না থাকে।
পুলিশ আধিকারিকদের দিয়ে তদন্তের প্রস্তাব (Bikash Ranjan)
শুধু ম্যাজিস্ট্রিয়াল তদন্ত নয়, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য আরও একধাপ এগিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বহু অভিজ্ঞ, নিরপেক্ষ এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি তদন্তকারী দল গঠন করা উচিত, যারা বিচারালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে তদন্ত পরিচালনা করবেন। তাঁর বক্তব্য, “আমার তো মনে হয়… স্বাধীন, নিরপেক্ষ, অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার যারা রিটায়ার করেছেন, তাদের দিয়ে তদন্ত করানো দরকার। বিচারালয়ের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে।”
আরও পড়ুন: Green Churi: শ্রাবণে সবুজ কাচের চুড়ি পরার রীতি কেন?
আইন, স্বচ্ছতা ও জনআস্থার প্রশ্ন
বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছে, অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এনকাউন্টার-সংক্রান্ত প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এমন তদন্তের উপরই নির্ভর করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এবং বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা।



