Last Updated on [modified_date_only] by Shroddha Bhattacharyya
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে বিশ্বকাপে ডুবল (FIFA World Cup 2026) ভাইকিংদের রণতরী। নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে মেসিদের সামনে ইংল্যান্ড। বেলিংহ্যামের প্রথম গোলের আগে বল ক্যামেরার তারে লাগার পরও কেন রেফারি খেলা থামালেন না- সেই নিয়ে শুরু বিতর্ক!
থামল নরওয়ের স্বপ্নের বিশ্বকাপ সফর (FIFA World Cup 2026)
অবশেষে থামল নরওয়ের স্বপ্নের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) সফর। কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ডুবল ভাইকিং রণতরী। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে জুড বেলিংহ্যাম ও আর্লিং হাল্যান্ড অভিন্ন হৃদয় বন্ধু। সেই বন্ধু বেলিংহ্যামের জোড়া গোলেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হল হাল্যান্ডকে। মার্কিন মুলুক থেকে নৌকা বেয়ে ঘরে ফিরতে হচ্ছে ৭ গোল করা নরওয়ে তারকাকে। তবে হ্যারি কেনদের এই জয়েও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না। তাই ‘থ্রি লায়ন্স’ এর জয়ের আনন্দ কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে গেল প্রথমার্ধে জুড বেলিংহ্যামের সমতাসূচক গোলটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এক বিতর্কিত মুহূর্তের কারণে। অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডের ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয়ের পর ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজটি বেলিংহ্যামের সমতাসূচক গোলটির আগের মুহূর্তের একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক উষ্কে দিয়েছে। আইএফএবি-এর নিয়ম অনুযায়ী তখন খেলা থামানো উচিত ছিল কি না, তা নিয়েও এখন উঠছে প্রশ্ন।
কোয়ার্টার-ফাইনালটি শুরু হয়েছিল শেষ আটে (FIFA World Cup 2026) ওঠার ঐতিহাসিক যাত্রার আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা নরওয়ের দাপুটে খেলার মধ্য দিয়ে। এবং ৩৬ মিনিটে তার সুফলও পেয়ে যায় তারা। দুই প্রান্ত থেকে মুহুর্মুহু আক্রমণে ইংরেজদের দুর্গ রীতিমতো দুর্বল দেখাচ্ছিল। সেই সময় ওদেগার্ড-বার্জের মিলিত আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়েন আন্দ্রেয়াস শেলডেরুপ। পেনাল্টি বক্সের বাম প্রান্ত থেকে শেলডেরুপ চমৎকার এক বাঁকানো শটে গোল করে স্টালে সলবাকেনের দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।ইংরেজ গোলকিপার জর্ডন পিকফোর্ডের কিছুই করার ছিল না। যার ফলে প্রথমার্ধের শেষলগ্নে ইংল্যান্ড কিছুটা চাপের মুখে পড়ে।বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলের দৌড়ে থাকতে পারে শেলডেরুপের এই গোলটি। তবে এই গোলের ‘বিল্ড-আপে’র সময় হ্যারি কেন-কে ফাউল করা হয়েছিল কি না, সেই নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে।
নরওয়ের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত (FIFA World Cup 2026) সময়ে ‘থ্রি লায়ন্স’ ম্যাচে ফেরার সুযোগটি পেয়ে যায়। গোলরক্ষক ওরজান নাইল্যান্ড মাঝমাঠের উদ্দেশ্যে একটি লম্বা গোল-কিক নেন। সেখানে হ্যারি কেইন বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং এরপর বার্সেলোনার উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডনের মাধ্যমে আক্রমণে ওঠে ইংল্যান্ড। গর্ডন জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে একটি চমৎকার ‘থ্রু-বল’ বাড়ান। বেলিংহ্যাম এক টার্নে নরওয়ের দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে জোরাল মাটি ঘেঁষা শটে নাইল্যান্ডকে পরাস্ত করে ৪৫+২ মিনিটে স্কোরলাইন ১-১ করেন।
প্রথম দেখায় মনে হয়েছিল বেলিংহ্যামের এই (FIFA World Cup 2026) গোলটি চমৎকারভাবে গড়ে তোলা একটি সমতাসূচক গোল। তবে পরে দেখানো রিপ্লেতে আক্রমণ শুরুর মুহূর্তটি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। দেখা যায়, নাইল্যান্ডের নেওয়া গোল-কিকটি মাঠের ওপর ঝুলে থাকা ‘স্পাইডারক্যাম’-এর তারে লেগেছিল। হ্যারি কেইনের কাছে পৌঁছানোর আগেই তারে লেগে বলের গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছিল। যার ফলে ইংল্যান্ড বলের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় এবং সেখান থেকেই আক্রমণ শুরু করে। যা শেষ পর্যন্ত বেলিংহ্যামের গোলের মাধ্যমে সফল হয়।
তবে প্রশ্ন হল, বলটি সত্যিই তারে লেগেছিল কি না। যদিও তার কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। ম্যাচ রেফারি কিংবা ফিফা—কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে বল স্পাইডার ক্যামেরার তারে লাগার কথা স্বীকার করেনি।
ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB)-এর নিয়ম অনুযায়ী, যদি বল মাঠের ওপর থাকা কোনও ছাদ বা তার স্পর্শ করে, তবে রেফারিকে অবশ্যই খেলা থামিয়ে দিতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে খেলা পুনরায় শুরুর সঠিক নিয়ম হল—যে দল সর্বশেষ বলটি স্পর্শ করেছিল, তাদের অনুকূলে ‘ড্রপড বল’ দেওয়া এবং খেলা সেই নির্দিষ্ট স্থান থেকেই শুরু করা যেখানে বলটি কোনও কিছুর সংস্পর্শে এসেছিল।তবে এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করে মাঠের রেফারি বা ভিএআর দলের ওপর। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বল ক্যামেরার তারে লাগার বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। যেহেতু রেফারি কোনও হস্তক্ষেপ করেননি, তাই খেলা কোনও বাধা ছাড়াই চলতে থাকে এবং বেলিংহ্যামের গোলটি বহাল রাখা হয়।
ঘটনাটির পর নরওয়ের ফুটবলারদের (FIFA World Cup 2026) রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়। প্রথমার্ধের বিরতিতে নরওয়ের ম্যানেজার স্তালে সোলবাকেনকে ম্যাচ রেফারির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করতে দেখা যায়। অন্যদিকে হাল্যান্ড সহ নরওয়ের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে সোলবাকেন বা তাঁর খেলোয়াড়রা কেউই প্রকাশ্যে তাঁদের অভিযোগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানাননি।
এই ঘটনাটি এই বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’ বা (FIFA World Cup 2026) সংযুক্ত বল প্রযুক্তির নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রতিটি অফিসিয়াল ম্যাচ বলে একটি মাইক্রোচিপ থাকে যা ভিএআর সিস্টেমে তাৎক্ষণিক তথ্য পাঠায়। এটি বলের গতিবিধি, গতি এবং স্পর্শের হিসাব রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। এই প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে—যেমন তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের গোল এবং পর্তুগালের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোল বাতিল হওয়া। তবে মায়ামিতে ওভারহেড কেবলের সঙ্গে বলের কোনও সংযোগ হয়েছিল কি না, তা শনাক্ত করতে পেরেছিল কি না, তা এখনও অজানা।
বেলিংহ্যামের সমতাসূচক গোল নিয়ে বিতর্কেও নাটকীয়তার (FIFA World Cup 2026) শেষ ছিল না।তারপরও অবশ্য হ্যারি কেন আরও একটি গোল করেছিলেন। তবে তা অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জোড়া বদল করেন ইংল্যান্ডের কোচ। রাইস ও নোনি মাদুয়েকের জায়গায় নামেন স্টিফেন এজে ও বুকায়ো সাকা। তাতে ইংলিশ আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ে। আরও বেশি বল পেতে শুরু করেন কেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। উল্টে ৫৬ মিনিটে তোরবজর্ন হেগেম বল জালে জড়ালে নরওয়ে ভেবেছিল তারা আবারও এগিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভিএআর-এর সাহায্য নিয়ে গোলটি বাতিল করে দেন রেফারি। কারণ হিসেবে দেখা যায়, গোলটির আগের মুহূর্তে অর্থাৎ বিল্ড-আপের সময় আর্লিং হালান্ড এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে ফাউল করেছিলেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচের ফলাফল ১-১ থাকায় ম্যাচ (FIFA World Cup 2026) শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। সেখানে ৯৩ মিনিটে আবারও গোল করে ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালে ওঠা নিশ্চিত করে দেন সেই বেলিংহ্যাম। মর্গান রজার্সের দূরপাল্লার শটটি প্রতিহত করেন বলা ভালো গ্ৰিপ করতে ভুল করেন নরওয়ের গোলরক্ষক নেইল্যান্ড। সেই বল বেলিংহ্যামের পায়ে এসে পড়ে। সুযোগ কাজে লাগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এবং দলের ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। এরপর গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও ম্যাচের ফলাফলা আর বদলাতে পারেনি নরওয়ে।
আরও পড়ুন: Bikash Ranjan: এনকাউন্টার নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি বিকাশরঞ্জনের
ইংল্যান্ডের এই জয়ের ফলে টমাস টুখেলের দল ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার তাদের প্রতিপক্ষ মেসির আর্জেন্টিনা। তবে ইংল্যান্ডের জয়কে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বেলিংহ্যামের সেই বিতর্কিত সমতাসূচক গোলটি। ইংল্যান্ডের গোলটির আগে ক্যামেরার তারে বল লেগেছিল কি না, তার কারণে খেলা থামানো উচিত ছিল কি না—তা নিয়ে বিতর্ক চলবেই। তবে বিদায় নিলেও বীরের মর্যাদা নিয়েই মার্কিন মুলক ছাড়বেন নরওয়ের ফুটবলাররা।


