Last Updated on [modified_date_only] by Tania Rakshit
কে টিভি বাংলা ডিজিটাল: নতুন মরসুম, নতুন স্বপ্ন আর নতুন কোচ, জোর কদমে ঘর গোছাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal 2026)। নতুন এক অধ্যায়ের অপেক্ষায় শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব। আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের রণকৌশলে লাল-হলুদ ব্রিগেডের (East Bengal 2026)রক্ষণভাগের দায়িত্ব নিতে আসছেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ডিফেন্ডার নাচো মনসালভে। তাঁর আগমনে একদিকে যেমন নতুন উদ্দীপনা, অন্যদিকে পুরনোকে বিদায় জানানোর এক অদ্ভুত বিষাদও ঘিরে ধরেছে ময়দানকে।
কেভিন সিবিল্লের বিদায়ে নস্টালজিয়া (East Bengal 2026)
গত মরশুমে কেভিন সিবিল্লে যে লড়াকু মানসিকতা নিয়ে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal 2026) রক্ষণ সামলেছিলেন, তা সমর্থকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal 2026) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পিছনে তার বড় অবদান। কিন্তু ফুটবলের নিষ্ঠুর নিয়মে কেভিনের সঙ্গে পথ চলা এখানেই শেষ হচ্ছে। নতুন কোচ হাবাসের পরিকল্পনায় মানানসই নন তিনি। কেভিনের বিদায়ে তাই সমর্থকদেরও হৃদয় ভেঙেছে।
ভিসেন্তে কালদেরনের সেই রূপকথা (East Bengal 2026)
নতুন আগন্তুক নাচো মনসালভের কথা বললে ভেসে ওঠে ২০১৬ সালের সেই ঘটনাবহুল দিন। তখন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের রক্ষণভাগ ছিল ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দুর্গ। দিয়েগো গোদিন, হোসে হিমেনেজ কিংবা স্তেফান সাভিচের মতো বাঘা বাঘা ডিফেন্ডাররা চোটের কারণে দলের বাইরে। কোচ দিয়েগো সিমিওনে তখন এক চরম সংকটে।
সেই উত্তাল সময়ে সিমিওনে ভরসা রেখেছিলেন মাত্র ২১ বছর বয়সী এক তরুণ তুর্কির ওপর। ভিসেন্তে কালদেরনের গ্যালারি তখন উত্তাল, প্রতিপক্ষ রিয়াল বেটিস। নাচো মনসালভে নামের সেই ছেলেটি যেন সেদিন রূপকথা লিখলেন। তাঁর আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে ৫-১ গোলে জয়ী হয়েছিল অ্যাটলেটিকো। খোদ সিমিওনের প্রশংসা কুড়িয়ে নেওয়া সেই ম্যাচটি নাচোর ক্যারিয়ারের এক উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে রইল।
আরও পড়ুন: Erling Haaland:সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হাল্যান্ডের সহযাত্রী
লাল-হলুদের রক্ষণে স্প্যানিশ স্পর্শ (East Bengal 2026)
অ্যাটলেটিকোর মতো ক্লাবে যে কঠোর ডিসিপ্লিন ও টেকটিক্যাল শিক্ষার মধ্য দিয়ে নাচো তৈরি হয়েছেন, তা ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে এক নতুন উচ্চতা যোগ করতে পারে। এরপর দেপোর্তিভো দে লা কোরুনিয়া হয়ে বিভিন্ন দেশের নানা লিগের চ্যালেঞ্জ সামলেছেন তিনি। এখন সেই অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়েই তিনি পা রাখছেন কলকাতায়।
কলকাতার উত্তপ্ত আবহাওয়া, সমর্থকদের আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা আর ডার্বির সেই তীব্র লড়াই—সবটাই কি মানিয়ে নিতে পারবেন নাচো? অ্যাটলেটিকোর সেই তরুণ ডিফেন্ডার কি পারবেন লাল-হলুদ জার্সি গায়ে আবারও নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে? উত্তর দেবে সময়। তবে এটুকু নিশ্চিত, নাচো মনসালভের আগমন ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে চলেছে।



